11/04/2023
তাওহীদের দাওয়াত আসার পর ফিরাউনের প্রথম যুক্তি কী ছিলো | Dr. Imam Hossain
https://youtu.be/R4xo-OE-Rlk
✅ সেই তাওহীদ কোনটি যা নামায ও রোজার পূর্বে আল্লাহ তার বান্দার উপর ফরয করেছেন ⤵️
উত্তর: সেটি হল তাওহীদে ইবাদাত বা তাওহীদে উলুহিয়্যা। কাজেই আপনি শুধু এক আল্লাহকেই ডাকুন যার কোনো শরীক নেই, না কোনো নবী আর না কোনো মানুষ।
আল্লাহ বলেন:
﴿ وَأَنَّ ٱلۡمَسَٰجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدۡعُواْ مَعَ ٱللَّهِ أَحَدٗا ١٨ ﴾ [الجن: ١٨]
(এবং সকল মাসজিদ আল্লাহর জন্য; কাজেই তোমরা তার সাথে অন্য কাউকে ডেকো না।) সূরা জ্বিন ১৮
✅ প্রশ্ন- তাওহীদে রুবুবিয়্যা এবং তাওহীদে উলুহিয়্যার মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তর: তাওহীদে রুবুবিয়্যা হল: আল্লাহর কাজ। যেমন: সৃষ্টি করা, রিযিক দান করা, জীবন মৃত্যু দান করা, বৃষ্টি বর্ষণ করা, তরুলতা ও বৃক্ষরাজি উৎপন্ন করা, এবং যাবতীয় কাজ কর্ম পরিচালনা করা।
আর তাওহীদে উলুহিয়্যা হল: বান্দার কাজ। যেমন: দো‘আ, ভয়-ভীতি, আশা আকাঙ্খা, ভরসা, প্রত্যাবর্তন, উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন, মান্নত করা, সাহায্য প্রার্থনা করা ইত্যাদি সকল প্রকার ইবাদত।
✅ প্রশ্ন- আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম) কে কি দিয়ে প্রেরণ করেছেন?
উত্তর: একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং তার সাথে কাউকে অংশিদার না করার নির্দেশ দিয়ে তাঁকে প্রেরণ করেছেন এবং কোনো সৃষ্টি যেমন ফেরেশতা, নবীগণ, সৎলোক, পাথর এবং বৃক্ষরাজির পূজা বা উপাসনা করতে নিষেধ করেছেন।
তিনি বলেন:
﴿ وَمَآ أَرۡسَلۡنَا مِن قَبۡلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِيٓ إِلَيۡهِ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ فَٱعۡبُدُونِ ٢٥ ﴾ [الانبياء: ٢٥]
অর্থাৎ: আমি তোমাদের পূর্বে এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি তার প্রতি এ নির্দেশ ব্যতীত যে, আমি ছাড়া অন্য কোনো হক ইলাহ নেই; সূতরাং তোমরা আমারই ইবাদত কর। [সূরা আম্বিয়া ২৫]
তিনি আরও বলেন:
﴿ وَسَۡٔلۡ مَنۡ أَرۡسَلۡنَا مِن قَبۡلِكَ مِن رُّسُلِنَآ أَجَعَلۡنَا مِن دُونِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ءَالِهَةٗ يُعۡبَدُونَ ٤٥ ﴾ [الزخرف: ٤٥]
অর্থাৎ: আপনার পূর্বে আমি যে সকল রাসূল প্রেরণ করেছিলাম তাদেরকে আপনি জিজ্ঞেস করুন, আমি কি দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত কোনো মা‘বুদ স্থির করেছিলাম যাদের ইবাদত করা যায়? [সূরা যুখরুফ ৪৫]
তিনি আরও বলেন:
﴿ وَمَا خَلَقۡتُ ٱلۡجِنَّ وَٱلۡإِنسَ إِلَّا لِيَعۡبُدُونِ ٥٦ ﴾ [الذاريات: ٥٦]
আমি জ্বিন এবং মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য। [সূরা যারিয়াত ৫৬]
এ থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ কেবলমাত্র এককভাবে তাঁর ইবাদত করার জন্যই সকল সৃষ্টিকে তৈরী করেছেন। কাজেই তিনি তার বান্দাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করেছেন এরই নির্দেশ দেওয়ার জন্য।
✅ প্রশ্ন- তাওহীদের প্রকারগুলো কি কি?
উত্তর:
১: তাওহীদে রুবুবিয়্যা: এটি কাফেরগণও স্বীকৃতি দিয়েছিল, যেমন আল্লাহর বাণী:
﴿ قُلۡ مَن يَرۡزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِ أَمَّن يَمۡلِكُ ٱلسَّمۡعَ وَٱلۡأَبۡصَٰرَ وَمَن يُخۡرِجُ ٱلۡحَيَّ مِنَ ٱلۡمَيِّتِ وَيُخۡرِجُ ٱلۡمَيِّتَ مِنَ ٱلۡحَيِّ وَمَن يُدَبِّرُ ٱلۡأَمۡرَۚ فَسَيَقُولُونَ ٱللَّهُۚ فَقُلۡ أَفَلَا تَتَّقُونَ ٣١ ﴾ [يونس: ٣١]
অর্থাৎ: আপনি বলুন: তিনি কে? যিনি তোমাদেরকে আসমান ও জমীন থেকে রিযিক পৌঁছিয়ে থাকেন? অথবা তিনি কে? যিনি কর্ণ ও চক্ষুসমূহের উপর পূর্ণ অধিকার রাখেন? আর তিনি কে? যিনি জীবন্তকে প্রাণহীন হতে বের করেন আর প্রাণহীনকে জীবন্ত হতে বের করেন? এবং তিনি কে? যিনি সকল কাজ পরিচালনা করেন? তখন অবশ্যই তারা বলবে যে, আল্লাহ। অতএব, আপনি বলুন: তবে কেন তোমরা (শির্ক হতে) নিবৃত্ত থাকছো না? [সূরা ইউনুস ৩১]
২: তাওহীদে উলুহিয়্যা: সকল সৃষ্টিকে বাদ দিয়ে এক আল্লাহর জন্য ইখলাসের সাথে ইবাদত করা। কেননা আরবদের ভাষায় ইলাহ হল: যার জন্য ইবাদতের উদ্দেশ্য করা হয়। তারা বলতো: আল্লাহ হচ্ছেন সকল মা‘বূদের মা‘বুদ বা ইলাহের ইলাহ্, কিন্তু তারা তার সাথে অন্যান্য ইলাহকে ডাকতো। যেমন: সৎলোকগণ, ফেরেশ্তামন্ডলী ইত্যাদি। তারা বলতো: আল্লাহ তাতে রাজি আছেন এবং তারা আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য শাফাআত করবে।
৩: তাওহীদে সিফাত: তাওহীদে রুবুবিয়্যা এবং উলুহিয়্যা ততক্ষণ পর্যন্ত সাব্যস্ত হবে না যতক্ষণ না তাওহীদে সিফাত তথা আল্লাহর গুণাগুণকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, কিন্তু কাফেরগণ ঐ সকল লোকদের চেয়ে জ্ঞানী যারা আল্লাহর সিফাতকে অস্বীকার করে। (কাফেররা আল্লাহর সকল গুণাগুণ অস্বীকার করতো না)
গ্রন্থঃ তাওহীদ ও তার প্রমাণাদি
অধ্যায়ঃ আকীদার ব্যাপারে ৫০টি প্রশ্নোত্তর
ড. মোহাম্মাদ ইমাম হোসাইন (হাফিযাহুল্লাহ্) পরিচিতি⤵️
-(পিএইচডি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া)
-(সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় বিশবিদ্যালয়, গাজীপুর
-(খতিব, নদ্দা সরকারবাড়ী মসজিদ ও উত্তরা বায়তুন নূর জামে মসজিদ)