05/12/2025
ইন্সট্যান্ট দু'আ করতে পারেন?
আল্লাহর কাছে মুহূর্তেই দু'আ করতে পারার অভ্যাসটা বিরাট এক নিয়ামত। কারণ জীবন সবসময় প্ল্যান করে চলে না হঠাৎ করে এমন সব পরিস্থিতি আসে যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ই থাকে না কিন্তু আল্লাহকে ডাকতে সময় লাগে না এক সেকেন্ডও।
ধরেন, হঠাৎ পেট ব্যথা শুরু হলো। পেটের কোন সাইডে ব্যথা, কি ওষুধ খাবেন বুঝে উঠার আগেই দু'আ করতে থাকবেন। আল্লাহ ব্যথা ভালো করে দিন, সুস্থ করে দিন।
বাচ্চা হঠাৎ পড়ে গেলো বা বড়সড় আঘাত পেলো ঐ মুহুর্তে আপনিও বাসায় একা। কাউকে ফোন দিবেন নাকি নিজেই হসপিটালে দৌড় দিবেন এই আতঙ্কের মধ্যেও প্রথমেই বলতে থাকেন আল্লাহ! সহজ করে দিন, ব্যথা কমিয়ে দিন, ভয় দূর করে দিন।
মেহমান আসছে অল্প সময়ের মধ্যে। রান্না বাকি, তাড়াহুড়ো চলছে মাথাও কাজ করছে না, কোনটা আগে করবো সেটাও ঠিক বুঝতে পারছেন না। সেই ব্যস্ততার ভিড়েও এক মুহূর্ত থেমে বলে ফেলেন, "আল্লাহ! বরকত দিন, সময়কে সহজ করে দিন"।
রাস্তায় রিকশা বা সিএনজির দরকার, পাচ্ছেন না। আবার পেলেও দিগুণ ভাড়া চাইছে। এ ধরনের মুহূর্তেও হন্যে হয়ে ঘোরার আগে বলুন, "রব! রাস্তা খুলে দিন, সহজ করে দিন"।
কিছু হারিয়ে গেছে? খোঁজাখুঁজির আগে একবার বলেন, "আল্লাহ! সাহায্য করুন.... আপনি তো সবই জানেন"।
এই “ইন্সট্যান্ট দুআ” মানে হঠাৎ অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করা। এই অভ্যাস অনেক কঠিন কাজকে অদ্ভুতভাবে সহজ করে দেয়।
আর এর সবচেয়ে বড় ফায়দা হলো, আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল বাড়ে। কারণ যখনই কোনো কাজে আপনি প্রথমেই আল্লাহকে ডাকেন, তখন আপনার অন্তরে একটা নিশ্চিন্ত ভরসা তৈরি হয় যে আমি একা নই, আমার সঙ্গে আমার রব আছেন। তখনই সাথে সাথে দুশ্চিন্তা কমে আসে। এটাই কি অনেক না?
আর যে বান্দা প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে প্রথমেই আল্লাহকে ডাকে, আল্লাহও তাকে পথ দেখান, দরজা খুলে দেন আর অসম্ভব কাজগুলোও সহজ করে দেন।
:
©