26/05/2026
আজকাল রেস্টুরেন্টে বা ক্যাফেতে গেলে নতুন এক নাটক শুরু হয়েছে। খাবারের সঙ্গে পানি অর্ডার দিলে সাকুরা ব্র্যান্ডের এই পানি ধরিয়ে দেয়। এই পানি আবার যেন-তেন পানি না— ৮.৮ pH সমৃদ্ধ অ্যালকালাইন পানি! বিশেষ এই কুদরতি পানির দাম সাধারণ বাজারের পানির প্রায় দ্বিগুণ।
দ্বিগুণ দাম অবশ্য মূল সমস্যা না। শিল্পপতি আম্বানির স্ত্রী নাকি বিশাল দাম দিয়ে স্পেশাল ব্ল্যাক ওয়াটার টাইপের কী যেন পানি কিনে খান। সমস্যা হলো, আমি তো ডিপ টিউবওয়েলে মুখ লাগিয়ে পানি খেয়ে বড় হওয়া মানুষ। তাই এই পানির দাম দিতে গেলেই আমার পশ্চাতে জ্বালাপোড়া শুরু হয়।
আরেকটা সমস্যা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে দোকানগুলো এই পানি রাখে, তারা অন্য কোনো ব্র্যান্ডের পানি রাখে না। ফলে বাধ্য হয়েই অন্তরের এবং পশ্চাতের জ্বালা নিয়ে এই পানি কিনে খেতে হয়। ব্যাপারটা পুরোপুরি ব্ল্যাকমেইলিং লেভেলে চলে গেছে।
বিদেশি একটা ব্র্যান্ডের পানি এভাবে কিনতে বাধ্য করাটা কি কোনোভাবে জায়েজ? বাংলাদেশ তো মরু অঞ্চলের কোনো দেশ না। এই দেশ পানির ওপর ভাসমান এক বদ্বীপ, যেখানে একটা মিনারেল ওয়াটারের বোতল ১৫–২০ টাকায় কিনে খাওয়াটাই অনেকের জন্য বিলাসিতার পর্যায়ে চলে যায়। সেখানে সেই পানি ৩৫–৬০ টাকায় বাধ্য করে কেনানো কতটুকু আইনগত বৈধতা পায়?
এ দেশে ভোক্তা অধিকার নামক একটা প্রতিষ্ঠান আছে। তারা কি এই বিষয়টা দেখছে না?
যাই হোক, কেউ বলুক বা না বলুক, প্রতিবাদ করুক আর না করুক, আমি রেস্টুরেন্টগুলোতে গিয়ে বারবার বলি—
“ভাই, নরমাল পানি নাই?”
একবার একটা কফিশপে গিয়ে এই পানি কিনতে বাধ্য করায় বলেছিলাম,
“ভাই, আমাকে আরেকটা কফির মগে একটু পানি দেওয়া যাবে? দরকার হলে এক্সপ্রেসো মেশিনের গরম পানিই দেন। এত দামি পানি কিনে খাওয়ার টাকা নাই!”
ক্যাশে থাকা ছেলেটা হেসে বলল,
“স্যার, আপনার সেন্স অব হিউমার খুব ভালো!”
আমি মনে মনে ভাবলাম, আইছে আমার হিউমার আলা ক্যাশিয়ার!! তোর এই পানির বোতল নিয়ে আমি কমার্শিয়াল স্পেসে পুশ সাওয়ার ছাড়া ইউরেনালের পাশে রেখে আসবো। এর পর তোর ব্র্যান্ডের গুষ্টি উদ্ধার করে দিবে পাবলিক।
স্থপতি নিলয়
২৬।৫।২৬