08/09/2016
ঈদ-উল-আযহা বা কোরবানীর ঈদ এর কিছু গুরুত্বপূর্ন মাসালাঃ১/ যিনি কোরবানী দেবেন, কেবল তিনিই যিলহজ মাসের চাঁদ উঠার পর হতে কোরবানীর পশু জবাই করা পর্যন্ত নিজের চুল, গোঁফ, নখ কিছুই কাটবেন না।-----------------------------------------------মিশকাতঃ ১৪৫৯।যদি ভুলে কেটে ফেলেন তাহলে এর জন্য তোওবা এবং ইস্তেগফার করতে হবে, কোন কাফফারা দিতে হবেনা।পরিবারের অন্য সবাই কাটতে পারবে। পরিবারের সবাইকে চুল, নখ কাটা হতে বিরত থাকতে হবে-- এমন ধারণা ভুল।২/ ছাগল তথা খাসী কোরবানী করা উত্তম।---------------মিশকাতঃ ১৪৬১; সুবুলুস সালামঃ ৪/ ১৮৫।৩/ চার ধরণের পশু কোরবানী করা নাজায়েজ।ক. স্পষ্ট খোঁড়া।খ. স্পষ্ট কানা।গ. স্পষ্ট রোগী,জীর্ণ শরীর।ঘ. অর্ধেক কান কাটা কিংবা ছিদ্র এবং অর্ধেক শিং ভাংগা।------------------------------------------------------মিশকাতঃ ১৪৬৫।৪/ কেনার পরে খুঁত পাওয়া গেলে উক্ত পশু কোরবানী করা বৈধ।------উৎসঃ ইমাম উবাইদুল্লাহ মুবারকপুরী, মিরআতুল মাফাতিহঃ ২/৩৬৩।৫/ গরু এবং উটে ৭ জনে ভাগে কোরবানী দেওয়া জায়েজ আছে। তবে ভাগে ২/৪/৫ জন বা ৭ জনে ভাগে গরু কোরবানী দেওয়ার চাইতে, একা একটা ছাগল বাদুম্বা কোরবানী দেওয়া ভালো এবং বেশি সওয়াব।যদিওবা সেটার দাম কম হোক,,,যদিওবা সেটার গোশত কম হোক,,,একটা ছাগল বা একটা দুম্বা পুরো একটা পরিবারের জন্যে সবার পক্ষ থেকে কোরবানী হিসেবে যথেষ্ঠ,,,যদিও সেই পরিবারে ১০-১৫ জন বা আরো অধিক ৫০ জনলোক থাকুক না কেনো।আর কোরবানীর পশু হিসেবে মহিষ অথবা আকীকার পশু হিসেবে গরু দেওয়ার কোন দলিল নেই।সুতরাং কোরবানী হিসেবে মহিষ এবং আকীকার পশুহিসেবে গরু দিবেন না।আমাদের উচিৎ, যা কিছু আমল করা সেটা কোরআন ও সহীহ হাদীসে যেইভাবে এসেছে ঠিক সেইভাবে করাএবং নিজেদের মনমতো পরিবর্তন না করা।৬/ ধূসর রঙের পশু কোরবানী করা উত্তম।কোরবানী বিষয়ক কিছু প্রশ্ন এবং তার উত্তরঃপ্রশ্ন------- কোরবানী কাদের উপর ফরয.....?=>উত্তর----- কোরবানী দেওয়া ফরয নয়, সুন্নতে মুয়াক্কাদা। যার সামর্থ্য আছে পশু কেনার, তিনি কোরবানী দেওয়ার চেষ্টা করবেন, এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও ফযীলতপূর্ণ একটা সুন্নত।প্রশ্ন------ ছয় পরিবারের সদস্যদের মাঝে যদি ৬ জনই আয় করে, এবং কোরবানী করার সামর্থ্য রাখে তাহলে কি তাদের সবাইকেই কোরবানী দিতে হবে.....? নাকি একজন দিলে একজনের পক্ষ থেকেই সবার জন্য কবুল হবে.....?=>উত্তর----- ছয়জন আলাদা হলে আলাদা কোরবানী দিতে হবে, আর সবাই একসাথে হলে পরিবারের গার্জিয়ান একা কোরবানী দিলেই হবে।প্রশ্ন---- ঋণ থাকলে কি কোরবানী হয়.......?=>উত্তর -----হ্যা হয়, ঋণদাতা যদি সময় দেয় তাহলে সে কোরবানী দিতে কোন সমস্যা নাই।প্রশ্ন------ বড়-বড় ব্যাবসায়িরা বড়-বড় ঋণ নেয়। যার সময় থাকে ৫ বছর থেকে ১০ বছর কিংবা আরও বেশী। তারা বড় বড় কোরবানী দেয়,,, কোরবানীকি এভাবে হয়.......?=>উত্তর------- হবে,,, যদি হালাল টাকায় কেনা হয় আর ইখলাস ঠিক থাকে। লোক দেখানো হলে বা হারামউপার্জনের টাকায় কেনা হলে কোরবানী বাতিল।প্রশ্ন------ কেও যদি ঋণী থাকে, ঋণ দাতা যদি বলে ঋণ আস্তে-ধীরে দেয়ার জন্য, সে যদি ঋণ না দিয়ে কোরবানী দেয় তার কোরবানী কি কবুল হবে......?=>উত্তর----- যদি ঋণ দাতার মনে কষ্ট না থাকে। ইন-শা-আল্লাহ হবে, তবে তার কোরবানী করা থেকে ঋণ পরিশোধ করা জরুরী। অবশ্য যদি এমন হয় অনেকটাকা, আর আস্তে-আস্তে পরিশোধ করছে, আর সে নিশ্চিত ঋণ পরিশোধ করতে পারবে সময়ের মাঝে, তাহলে কোরবানী দিতে পারবে।প্রশ্ন------ একটা গরুর ভাগে ৭ জন যদি দেয়, এর মাঝে একজনও যদি কোরবানীর গোশত লোভ করে, সবারকোরবানী কি বাতিল হবে.....?=>উত্তর----- হ্যা হবে,,, এইজন্যে ভালো দ্বীনদার ছাড়া অন্য কাউকে নেওয়া যাবেনা, এবং পশু ক্রয় করার পূর্বে যাচাই করে নিতে হবে বা শরীকদেরকে ইখলাসের ব্যপারে সতর্ক করে নিতে হবে।প্রশ্ন------ সাত ভাগের এক গরুর কোনও ভাগ যদি কম বেশী হয় কারো অসততার কারনে, কোরবানী কি সবারটাই বাতিল হবে....?=>উত্তর---- বাতিল হবেনা, তবে ইচ্ছাকৃত গাফিলতি থাকলে অন্যের হক নষ্ট করার জন্যে দায়ী থাকবে।প্রশ্ন------ কেও একজন ছাগল দিতে চাইল, তার কিছু টাকা কম পরল, অন্য কেও কোরবানীর জন্য টাকা দিতে চাইলে সে কি নিতে পারবে....? যে দিতে চাইবে তার টাকা হালাল না হয়,,, কোরবানী কি হবে.......?=>উত্তর জেনে শুনে হারাম টাকা নিয়ে কোরবানীদিলে হবেনা। আল্লাহ পবিত্র আর তিনি পবিত্র ছাড়া কোন কিছু কবুল করবেন না। হালাল টাকা ব্যবস্থা করে কোরবানী দিতে হবে।প্রশ্ন------ এক পরিবারের পক্ষ থেকে যে কারো নামে একটা ছাগল দিতে চাইলে সওয়াব কি সবার হবে যদিও ইনকাম একজনই করে এবং বাকিরা অসামর্থ্য থাকে......?=>উত্তর--- যিনি কোরবানী দিবেন তিনি নিয়ত করবেন এই পশু তার এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে, তাহলে সকলেই সওয়াব পেয়ে যাবেন উল্লেখ্য এতে কোরবানীদাতার সওয়াব কমবেনা।প্রশ্ন------ কোরবানীর পশু যারা জবেহ করবে তাদের কি কোরবানীর গোশত দিয়ে পারিশ্রমীক দেওয়া যাবে, না আলাদা করে টাকা দিতে হবে....? (উল্লেখ্য আমাদের দেশে বেশির ভাগ জায়গায় কোরবানীর গোশত দিয়ে পারিশ্রমীক দেয়া হয়।)=>উত্তর---- কুরবানির গোশত দিয়ে পারিশ্রমিক দেওয়া যাবেনা, আলাদা করে মূল্য নির্ধারণ করে দিতে হবে।প্রশ্ন----- কোরবানীর গোশত কি ৭ দিনের মাঝেই খেতে হবে......?=>উত্তর----- এমন কোন নিয়ম নেই, নিজের অংশ অতিরিক্ত থেকে গেলে ৭ দিন পরে খেতে কোন সমস্যা নেই।প্রশ্ন------ ছোটবেলায় শুনতাম যে,, কোরবানীর পশু যত বেশী তরতাজা হবে, যত বেশী খিপ্র হবে, তত দ্রুত পুলসিরাত পার হওয়া যাবে, কতটা কি সত্য.......? পুলসিরাতের সাথে কি কোরবানীর কোনও সম্পর্ক আছে.......?=>উত্তর----- এ সম্পর্কে একটা কথা আছে, কিন্তু সেটা জয়ীফ হাদীস। জয়ীফ হাদীসের কথা গ্রহণযোগ্য নয়।প্রশ্ন----- ধরা যাক কেও একজন একটা গরু কোরবানী দেয়ার পর তার পুরো একটা রান গরীবদের দিয়ে বাকিটা কি তার নিজের পরিবারেরজন্য খরচ করতে পারবে......?=>উত্তর----- হ্যাঁ, পারবে।প্রশ্ন------ কোরবানীর ঈদে ও কি নতুন জামা পড়াসুন্নত.......?=>উত্তর---- ঈদের দিন উত্তম পোশাক পড়া সুন্নত, নতুন জামা পড়া কোন সুন্নত নয়। উত্তমপোশাক নতুন বা পুরোনোও হতে পারে।(বাঙ্গালী নামধারী মুসলমানেরা ঈদের আগে যেইভাবে নতুন কাপড় কিনতে শপিং করছে এটা সুন্নত নয়, জাহালাত। শতকরা ৮০% মহিলাই বেপর্দায় যাচ্ছে, তাদের পুরুষেরা তাদেরকে কন্ট্রোলে রাখেনা। মুসলমানদের অজ্ঞতা মূর্খতাই তাদের ইহকাল ও পরকাল ধ্বংস করছে।)প্রশ্ন----- কোরবানীর পশুর চামড়ার টাকা কয়দিনের মাঝে দিতে হবে.....? কাজের বুয়াকে দিলে হবে.....?=>উত্তর----- যত দ্রুত দেওয়া যায়, কাজের বুয়া অস্বচ্ছল হলে দেওয়া যাবে।প্রশ্ন----- কোরবানী আর আকিকা একি ছাগল দিয়ে কি হবে......?=>উত্তর------ না, হবেনা।