30/03/2019
সিটি কর্পোরেশন এর হোল্ডিং ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্য........
লেখাটি বেশ বড়। পড়তে গিয়ে খানিকটা বিরক্ত লাগতে পারে। কিন্ত সম্পূর্ণ লেখাটি পড়লে সবাই উপকৃত হবেন বলে মনে করছি এবং কারোও কাছে আরোও কোন তথ্য থাকলে এখানে শেয়ার করার অনুরোধ করছি। তাতে সম্মিলিত ভাবে সকলেই উপকৃত হবেন বলে মনে করি।
সন্মানিত ফ্লাট কর্তৃপক্ষ,
আপনারা নিশ্চয়ই অবগত হয়েছেন যে, সিটি কর্পোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স সংক্রান্ত চিঠি প্রেরণ করেছে এবং আমরা প্রত্যেকে সেই চিঠি গ্রহণ করেছি। সিটি কর্পোরেশন দুইভাবে চিঠি প্রেরণ করেছে যা নিম্নরূপ---
১) যারা রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে তাদের জন্য নামের বিপরীতে চিঠি প্রেরণ করেছে।
২) যারা রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করেনি, তাদেরকে দখলদার হিসেবে চিঠি প্রেরণ করেছে।
তবে, যারা রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে তাদের জন্য হোল্ডিং ট্যাক্স কম এসেছে। আর যারা রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করেনি ও দখলদার হিসেবে আছে তাদের জন্য হোল্ডিং ট্যাক্স বেশি এসেছে।
আপনারা জানেন, সরকারী বিধি মোতাবেক হোল্ডিং ট্যাক্স ১২% এবং হোল্ডিং ট্যাক্স ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নিরূপন করা হয়ে থাকে।
১) দখলদার এর ক্ষেত্রে হোল্ডিং ট্যাক্স এর হিসাব নিম্নরূপ---
রূপনগর আ/এ এর জন্য বার্ষিক মূল্যায়ন ধরা হয়েছে ৭৬,০০০ টাকা মাত্র।
অর্থাত হোল্ডিং ট্যাক্স হলো = (৭৬,০০০ × ১২%) = ৯,১২০ টাকা (বাতসরিক)
ত্রৈমাসিক হিসেবে হোল্ডিং ট্যাক্স হলো = (৯,১২০ ÷ ৪) = ২,২৮০ টাকা
নিম্নোক্ত খাত হিসেবে ত্রৈমাসিক হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করেছে---
ক) ইমারত ভবন/জমির উপর কর – ১,৩৩০/-
খ) ময়লা নিস্কাশন রেইট – ৩৮০/-
গ) সড়ক বাতি রেইট – ৫৭০/-
সর্বমোট টাকার পরিমান = ২,২৮০ টাকা মাত্র।
২) রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন ফ্লাট এর ক্ষেত্রে হোল্ডিং ট্যাক্স এর হিসাব নিম্নরূপ---
রূপনগর আ/এ এর জন্য বার্ষিক মূল্যায়ন ধরা হয়েছে ৪৫,৬০০ টাকা মাত্র।
অর্থাত হোল্ডিং ট্যাক্স হলো = (৪৫,৬০০ × ১২%) = ৫,৪৭২ টাকা (বাতসরিক)
ত্রৈমাসিক হিসেবে হোল্ডিং ট্যাক্স হলো = (৫,৪৭২ ÷ ৪) = ১,৩৬৮ টাকা
নিম্নোক্ত খাত হিসেবে ত্রৈমাসিক হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করেছে---
ক) ইমারত ভবন/জমির উপর কর – ৭৯৮/-
খ) ময়লা নিস্কাশন রেইট – ২২৮/-
গ) সড়ক বাতি রেইট – ৩৪২/-
সর্বমোট টাকার পরিমান = ১,৩৬৮ টাকা মাত্র।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, সিটি কর্পোরেশন এর চিঠিটে ০১/০১/২০১৬ইং তারিখ থেকে এই হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই হিসেবে আমাদের মার্চ ২০১৯ইং পর্যন্ত মোট ১৩টি ত্রৈমাসিক কিস্তি পরিশোধ করতে হবে যার হিসাব নিম্নরূপ ---
১) রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন ফ্লাট কর্তৃপক্ষের জন্য = (১,৩৬৮ × ১৩) = ১৭,৭৮৪/-
২) রেজিষ্ট্রেশন হয়নি তাদের জন্য = (২,২৮০ × ১৩) = ২৯,৬৪৮/-
বি:দ্র: মার্চ এর পরবর্তীতে জমা প্রদান করলে আপনাকে অবশ্যই জুন ২০১৯ পর্যন্ত হিসাব করে পরিশোধ করতে হবে এবং সেক্ষেত্রে ১৩ টি ত্রৈমাসিক কিস্তি’র বিপরীতে ১৪ টি ত্রৈমাসিক কিস্তি পরিশোধ করতে হবে এবং তদানুযায়ী টাকার পরিমান বেড়ে যাবে।
এখানে আরোও উল্লেখ করা প্রয়োজন, যে ব্যক্তি (মো: আব্দুর রাজ্জাক) সিটি কর্পোরেশন থেকে এই চিঠিগুলো প্রদান করতে এসেছিল তার প্রস্তাব ছিল নিম্নরূপ ---
দখলদার ও রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন উভয় ব্যক্তিই নির্দিষ্ট আবেদন এর মাধ্যমে ১৫% হোল্ডিং ট্যাক্স কমাতে পারবেন এবং কমকৃত হোল্ডিং ট্যাক্স এর পরবর্তী চিঠি প্রাপ্তির সাত (০৭) দিনের মধ্যে উক্ত টাকা জমা দিলে আরোও ১০% মওকুফকৃত টাকা সিটি কর্পোরেশনে জমা প্রদান এর মাধ্যমে বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করতে পারবে।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হিসাব নিম্নরূপ---
১) দখলদার এর ক্ষেত্রে হোল্ডিং ট্যাক্স এর হিসাব নিম্নরূপ---
রূপনগর আ/এ এর জন্য বার্ষিক মূল্যায়ন ধরা হয়েছে ৭৬,০০০ টাকা মাত্র এবং ১৫% কর্তনকৃত হারে পুন:মূল্যায়ন হবে = { ৭৬,০০০ – (৭৬,০০০ × ১৫%)} = (৭৬,০০০ – ১১,৪০০) = ৬৪,৬০০ টাকা মাত্র।
অর্থাত হোল্ডিং ট্যাক্স হলো = (৬৪,৬০০ × ১২%) = ৭,৭৫২ টাকা (বাতসরিক)
ত্রৈমাসিক হিসেবে হোল্ডিং ট্যাক্স হলো = (৯,১২০ ÷ ৪) = ১,৯৩৮ টাকা
চিঠি প্রাপ্তির সাত (০৭) দিনের মধ্যে জমা প্রদান করলে ত্রৈমাসিক হোল্ডিং ট্যাক্স হবে = { ১,৯৩৮ – (১,৯৩৮ × ১০%)} = (১,৯৩৮ – ১৯৩) = ১,৭৪৪ টাকা মাত্র।
২) রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন ফ্লাট এর ক্ষেত্রে হোল্ডিং ট্যাক্স এর হিসাব নিম্নরূপ---
রূপনগর আ/এ এর জন্য বার্ষিক মূল্যায়ন ধরা হয়েছে ৪৫,৬০০ টাকা মাত্র এবং ১৫% কর্তনকৃত হারে পুন:মূল্যায়ন হবে = { ৪৫,৬০০ – (৪৫,৬০০ × ১৫%)} = (৪৫,৬০০ – ৬,৮৪০) = ৩৮,৭৬০ টাকা মাত্র।
অর্থাত হোল্ডিং ট্যাক্স হলো = (৩৮,৭৬০ × ১২%) = ৪,৬৫২ টাকা (বাতসরিক)
ত্রৈমাসিক হিসেবে হোল্ডিং ট্যাক্স হলো = (৪,৬৫২ ÷ ৪) = ১,১৬৩ টাকা
চিঠি প্রাপ্তির সাত (০৭) দিনের মধ্যে জমা প্রদান করলে ত্রৈমাসিক হোল্ডিং ট্যাক্স হবে = { ১,১৬৩ – (১,১৬৩ × ১০%)} = (১,১৬৩ – ১১৬) = ১,০৪৭ টাকা মাত্র।
তবে উপরোক্ত সুবিধা পেতে হলে আপনাকে/আপনাদেরকে অবশ্যই সিটি কর্পোরেশন এর কারোও না কারোও বিশেষ সুবিধা নিতে হবে। মো: আব্দুর রাজ্জাক (সিটি কর্পোরেশন এর প্রতিনিধি) এই সুবিধা দিতে প্রস্তুত আছেন। সেক্ষেত্রে তার ফ্লাট প্রতি (ফাইল প্রতি) আনুষাঙ্গিক খরচের চাহিদা হলো ২,০০০ টাকা মাত্র যা তাকে অগ্রিম প্রদান করতে হবে। মো: আব্দুর রাজ্জাক আশ্বস্ত করেছেন তার মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করলে তিনি ১ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় চিঠি ইস্যু করিয়ে দিবেন। মো: আব্দুর রাজ্জাক এর মোবাইল নম্বর হলো ০১৭১৮ – ৪৭৩৪৮৮।
সকলকে ধন্যবাদ সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ার জন্য।