31/07/2026
১৯৭৮ সালে চীনের মাথাপিছু আয় ছিল ১৫৭ ডলার, বাংলাদেশের ছিল ১৫৮ ডলার 🔥
তারপর…..
১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে চীন সরকার জনগণের কমিউন ব্যবস্থা ধীরে ধীরে বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়।
কমিউন ব্যবস্থা ছিল মাও সেতুং-এর সময় চালু করা একটি সমষ্টিগত কৃষি ও সামাজিক ব্যবস্থা, যেখানে সব কৃষক মিলে একই জমিতে কাজ করত।
সব জমি ছিল সরকার বা কমিউনের, কারো ব্যক্তিগত জমি ছিল না।
কে কোন জমিতে কাজ করবে, কী ফসল হবে—এসব সিদ্ধান্ত কমিউনের নেতারা নিতেন।
উৎপাদিত ফসল কমিউনের গুদামে জমা হতো, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কৃষকদের মাঝে খাদ্য ও আয় বণ্টন করা হতো।
এ পদ্ধতি চালুর কারণ ছিল, মাও সেতুং বিশ্বাস করতেন—ব্যক্তিগত লাভের চিন্তা না করে সবাই দেশের জন্য কাজ করবে। একসাথে উৎপাদন করলে মোট উৎপাদন বাড়াবে।
কিন্তু, বাস্তবে দেখা গেল—
❌ কৃষকদের বেশি উৎপাদনের ব্যক্তিগত উৎসাহ ছিল না।
❌ সবাই একই রকম সুবিধা পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে পরিশ্রমের আগ্রহ কমে যায়।
❌ অনেক স্থানীয় কর্মকর্তা উৎপাদনের তথ্য অতিরঞ্জিত করে সরকারের কাছে পাঠাতেন।
❌ সরকার সেই ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত খাদ্য সংগ্রহ করত।
ফলে গ্রামে গ্রামে খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দেয়।
১৯৫৯–১৯৬১ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সেই দুর্ভিক্ষে ১.৫–৪.৫ কোটি মানুষ মারা যায়।
এ ঘটনার পর ১৯৭৮ সালে দেং শিয়াওপিং উপলব্ধি করেন, যে কৃষক নিজের পরিশ্রমের ফল ভোগ করতে পারে না, তার উৎপাদন বাড়ানোর আগ্রহও কম থাকে।
তাই তিনি Household Responsibility System চালু করেন।
এর ফলে—জমির মালিক রাষ্ট্রই থাকে, কিন্তু কৃষক পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদে জমি চাষের অধিকার দেওয়া হয়।
সরকারকে নির্ধারিত অংশ দেওয়ার পর অতিরিক্ত উৎপাদিত ফসল কৃষক নিজে বাজারে বিক্রি করতে পারে।
অর্থাৎ, যত বেশি উৎপাদন, তত বেশি আয়—এই চিন্তা কৃষকদের মাথায় ঢুকে ।
ফলে, মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই কৃষি উৎপাদন প্রায় ৫০% বৃদ্ধি পায়, যা চীনের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হয়।
এভাবে কমিউন ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায়….
🔥 এরপর ১৯৮০ সালে দেশটিতে শেনজেনসহ ৪টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হয়।
এখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কর ছাড়, সহজ ব্যবসার পরিবেশ এবং উন্নত অবকাঠামো দেওয়া হয়।
ফলে হাজার হাজার বিদেশি প্রতিষ্ঠান চীনে কারখানা স্থাপন করে।
খেলনা, পোশাক, ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে উচ্চপ্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন শুরু হয়।
এভাবেই চীন হয়ে উঠে বিশ্বের কারখানা 🔥
১৯৯০ এর দশকে দেশটিতে হাজার হাজার কিমি মহাসড়ক নির্মাণ, গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপক বিনিয়োগ, শিল্পাঞ্চল ও নতুন শহর গড়ে তোলা হয়।
ফলে Apple, Samsung, Dell, HP, Sony-সহ বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি চীনে উৎপাদন শুরু করে।
রপ্তানি দ্রুত বাড়তে থাকে এবং কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। দেশের অর্থনীতির লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে।
চীন বুঝেছিল, শিল্পায়নের জন্য শুধু কারখানা নয়—রাস্তা, রেল, বন্দর ও বিদ্যুৎ সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে দেশটিতে ৪৮,০০০ কিমির বেশি উচ্চগতির রেলপথ রয়েছে। রয়েছে ১,৮০,০০০ কিমির বেশি এক্সপ্রেসওয়ে। আর বিশ্বের ব্যস্ততম ১০টি কনটেইনার বন্দরের মধ্যে ৭টি রয়েছে চীনে।
২০১২ সালে শি জিনপিং ক্ষমতায় এসে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেন 🔥
তিনি Tiger and Flies নীতি গ্রহণ করেন।
এ নীতি অনুযায়ী শুধু ছোট কর্মকর্তা নয়; দূর্নীতি করলে মন্ত্রী, জেনারেল, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এক দশকে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মকর্তা শাস্তি, বরখাস্ত বা তদন্তের আওতায় এসেছে; এর মধ্যে হাজার হাজার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও ছিলেন।
সরকারি ক্রয়, কর আদায়, কাস্টমস ও প্রশাসনের অনেক সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হয়, ফলে ঘুষ ও অনিয়মের সুযোগ কমে।
বড় ধরনের দুর্নীতির মামলায় অনেক কর্মকর্তাকে আজীবন কারাদণ্ড, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে, যা অন্য কর্মকর্তাদের জন্য শক্ত বার্তা হিসেবে কাজ করেছে।
ফলে, ব্যবসায়ীদের আস্থা বৃদ্ধি পায়। বড় সরকারি প্রকল্পে অর্থ অপচয় ও অনিয়ম কমে আসে। বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়ে।
🔥 আজকের চীন…
✅ বিশ্বের ২য় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। GDP প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলার। মাথাপিছু আয় প্রায় ১৩,৫০০ ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি।
✅ অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে আমেরিকা যদি কাউকে পরোয়া করে সেটা হলো চীন।
✅ দেশটিতে প্রতিবছর শত শত কিলোমিটার নতুন রেলপথ ও মহাসড়ক যুক্ত হচ্ছে।
✅ ১৯৭৮ সালে যেখানে শহরে বাস করত মাত্র ১৮% মানুষ, বর্তমানে ৬৭% এরও বেশি মানুষ শহরে বাস করছে।
✅ ১৯৮১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৮০ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে।
✅ সাক্ষরতার হার এখন ৯৭% এর বেশি।
✅ গবেষণা ও উন্নয়নে (R&D) বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার যা বাংলাদেশের জিডিপির সমান।
✅ বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) উৎপাদনে বিশ্বের ১ নম্বর দেশ।
মাত্র ৪০–৪৫ বছর লেগেছে….
আজকে চীন কোথায় আর বাংলাদেশ কোথায়! বাংলাদেশের গল্প না-ই-বা বল্লাম, আপনারা সবই জানেন 🤷♂️🇧🇩