12/08/2021
৬২২ খ্রীষ্টাব্দের হজ্ব মৌসূমে মদীনা থেকে ৭৩ জন মুসলিমের একটি দল রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পবিত্র মদিনা শরীফ উনার অতীথি হবার অনুরোধ জানিয়ে পবিত্র মদীনাবাসীদের একটি আমন্ত্রণ নামা পেশ করে। উক্ত প্রতিনিধি দলে আবু লাইল নামে এক যুবক ছিলো, সে ছিলো সেই শাহাউল যাঁর নিকট রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার কাছে লিখিত বাদশাহ আসআদ বিন কার্ব তুব্বার চিঠিও অর্পিত ছিলো, উনার বংশধর আবু আইয়ুব আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার পুত্র আবু লাইল যখন উক্ত প্রতিনিধি দলের সাথে যাচ্ছিলেন তখন আবু আইয়ুব আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অত্যন্ত গোপনে উনার পুত্রের হাতে চিঠিটি দিয়ে বললেন যে, উনি যেন চিঠিটির কথা গোপন রাখে এবং যদি রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চিঠিটির কথা জিজ্ঞেস না করেন তবে যেন এ ব্যাপারে কিছু বলা না হয় এবং চিঠি ফেরৎ নিয়ে আসে। অথচ দেখা গেলো উক্ত প্রতিনিধি দলটি রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে আসলে তিনি আবু লাইল-এর দিকে আঙ্গুলনিদের্শ করে বললেন, তোমার নামতো আবু লাইল, তোমার কাছে বাদশাহ্ আসআদ বিন কার্ব তুব্বা কর্তৃক আমার জন্য লিখিত পত্র খানি লুকায়িত আছে। উহা বের কর। একথায় উপস্থিত সকলেই আশ্চর্যান্বিত হল।: অতপর আবু লায়লা চিঠিটি বের করে নিজেই উচ্চস্বরে জনসম্মুখে পড়ে শুনালো। চিঠি পড়ে সকলেই অবহিত হলো যে, এটি প্রায় ১৪০০ বৎসর পূর্বে লেখা। চিঠিটি ছিলো এই-
“হে সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার প্রতি দরুদ ও সালামের পর আমি এই মর্মে ঘোষনা করছি যে, আমি আপনার এবং মহান আল্লাহ্ পাক উনার কর্তৃক আপনার প্রতি যাবতীয় বিষয়ের উপর ঈমান আনলাম। আমি আরও ঘোষনা করছি, আমি আপনার ধর্মে ধর্মান্তরিত হলাম, অর্থাৎ আপনার দ্বীনকে গ্রহণ করলাম এবং আপনার সৃষ্টিকর্তার উপর ঈমান আনলাম এবং আল্লাহ পাক উনার নিকট হতে আপনার জন্য ইসলামী শরীয়তের যে সমস্ত আইন বলবৎ রবে তাও মেনে নিলাম।
আমি প্রার্থনা করছি, শেষ বিচারের দিন আপনি যেন আমাকে শাফায়াত দান করেন এবং ঐ দিন যেন আমাকে ভুলে না যান। আমি আপনার প্রথম উম্মত ও অনুসারী হলাম। আপনার নিকট আমার দাবী আরো জোরদার করার লক্ষ্যে, আমি আপনার পূর্ব পুরুষ ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম উনার ধর্মে দীক্ষিত হলাম এবং সেই ধর্মানুযায়ী আমি বর্তমান জীবন যাপন করছি।”
এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মাঝে হিজরত মুবারক করেন তখন পবিত্র মদীনা শরীফ উনার সমস্ত মুসলমানই উনাদের নিজ নিজ বাড়িতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অবস্থান নিতে অনুরোধ জানান, এতে করে সকলের মন রক্ষা করা খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যার ফলে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- আমার উট সেচ্ছায় যে বাড়ীর সম্মুখে অবস্থান নিবে সে বাড়িতেই আমি অবস্থান নিবো। দেখা গেলো উটটি তার নিজের ইচ্ছায় আবু লাইল-এর পিতা হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু- উনার বাড়ীর সম্মুখে বসে পড়লো যা কিনা রাজা আসআদ বিন কার্ব তুব্বা ১৪০০ বৎসর পূর্বে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বসবাসের জন্য বিশেষ ভাবে নির্মান করেছিলেন।(সুবহানাল্লাহ্)
অর্থাৎ বিষয়টা হচ্ছে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সবকিছুর পূর্বে নূর, নবী, রসূল, রহমত, নিয়মাত ইত্যাদি করে সৃষ্টি করে মহান আল্লাহ পাক নিজের কুদরত মুবারকে মওজুদ রেখেছেন। আর উনার আগমন মুবারক হচ্ছে সবচাইতে বড় নিয়ামত। যেই সুসংবাদ মহান অাল্লাহ পাক অসংখ্যবার দিয়েছেন। উনাকে পাওয়ার কারনে খুশি মুবারক প্রকাশ করাই সবচাইতে বড় আমল। সুবহানাল্লাহ্ !! (তাফরিহুল আজকিয়া ফি আহ্ওয়ালিল আম্বিয়া” নামক কিতাবের ২য় খন্ড ১১০ পৃষ্ঠা)
#সাইয়্যিদুল_আইয়াদ_শরীফ