26/10/2025
সিভিল এভিয়েশন অথরিটি বা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের একধরণের বিভ্রান্তি বিদ্যমান। এয়ারপোর্টে সম্মানীত যাত্রীসাধারণের সাথে যেকোন ধরণের ভোগান্তি মানেই সব দোষ এয়ারপোর্টের কর্মচারীদের। অবশ্য এটা যে ভুল এরকমও বলা যাচ্ছে না। এই সেক্টরে যোগদানের পূর্বে আমারও এরকম ধারণাই ছিল। এই বিভ্রান্তি নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়-
এয়ারপোর্ট মূলত একটি ডাইভারসিফাইড কেপিআইভূক্ত প্রতিষ্ঠান। এখানে ২৫-২৬ টি সংস্থা বেবিচক এর অধীনে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে তাদের নিজস্ব কার্যপরিধি অনুযায়ী নিজস্ব জনবল দ্বারা কাজ করে৷ সিভিল এভিয়েশন অথরিটি বা এয়ারপোর্ট অথরিটি মূলত উক্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।
এয়ারপোর্ট নিয়ে যাত্রীসাধারণের মূল অভিযোগের জায়গাগুলো হচ্ছে - লাগেজ মিসিং, লাগেজ কাটা, ইমিগ্রেশনে ভোগান্তি, কাস্টমস এ ভোগান্তি। অথচ এর কোনটাই সিভিল এভিয়েশন অথরিটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আওতাধীন নয়।
এয়ারপোর্টে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং এর কাজ মূলত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যা সম্পূর্ণ একটি আলাদা সংস্থা। লাগেজ হ্যান্ডেলিং এর কাজ মূলত তারাই করে থাকে। তাই লাগেজ মিসিং, লাগেজ কাটা, লাগেজ থেকে জিনিসপত্র হারানো ইত্যাদি কোনভাবেই সিভিল এভিয়েশন এর আওতাধীন না।
ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ ইমিগ্রেশন পুলিশের যা পুলিশের একটি আলাদা উইং। তাই ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত ভোগান্তিও কোনভাবে সিভিল এভিয়েশন অথরিটির আওতাধীন নয়।
যাত্রী আগমণ ও বহির্গমণের ক্ষেত্রে শুল্ক সংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ ও নিয়মকানুন আছে যা সম্পূর্ণভাবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। তাই এ সংক্রান্ত ভোগান্তিও সিভিল এভিয়েশন অথরিটির উপর বর্তায় না।
এর বাইরেও এনএসআই, ডিজিএফআই, শুল্ক গোয়েন্দা, এয়ার ইন্টিলিজেন্স সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
তাই, এসব বিষয়ে জ্ঞানগত সীমাবদ্ধতার কারণে যাত্রীসাধারণ ঢালাওভাবে এয়ারপোর্ট অথরিটির উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এয়ারপোর্টে কোন ধরণের ভোগান্তি বা অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হলে যথাযথ অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা নামে আলাদা একটি সেল আছে যেটি অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করে। তাছাড়াও যাত্রীসাধারণের সার্বক্ষণিক সেবায় ২৪ ঘন্টা হেল্পডেস্ক সেবা চালু থাকে।
সিভিল এভিয়েশন অথরিটি দেশের অন্যতম লাভজনক স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। প্রয়োজনের চেয়ে অল্পসংখ্যক কর্মকর্তা কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে নিরাপদ বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের মাধ্যমে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। অথচ সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী রাষ্ট্রীয় সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এভিয়েশন সেক্টরের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে যেখানে এর নামের মধ্যেই এভিয়েশন শব্দটা আছে অথচ অভিয়েশন ভাতা পায় বিমানে জেট ফুয়েল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল। ২৪ ঘন্টা অপারেশন কার্যক্রম চলমান থাকায় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মতো সিভিল এভিয়েশনের কর্মচারীরা ঈদের ছুটি পর্যন্ত কাটাতে পারেনা।
Copy POST