04/08/2025
জারজ সন্তান এর ওয়ারিশ হওয়ার অধিকার
(বাংলাদেশের ইসলামি শরিয়ত ও আইন অনুযায়ী বিশ্লেষণ)
🔶 জারজ সন্তানের সংজ্ঞা:
জারজ সন্তান সেই সন্তান, যার জন্ম বৈধ বিবাহ ছাড়াই – যেমন: অবৈধ সম্পর্ক, ধর্ষণ বা বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্কে।
🔷 ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী:
বাবার সম্পত্তিতে অধিকার:
জারজ সন্তান পিতার বৈধ সন্তান নয়।
তাই শরীয়ত অনুযায়ী, জারজ সন্তানের পিতার সম্পত্তিতে কোনো উত্তরাধিকার নেই।
এমনকি বাবা ইচ্ছা করলেও উত্তরাধিকার (ওয়ারিশ) হিসেবে দিতে পারবে না, কিন্তু দান বা জীবদ্দশায় হিবা করতে পারবেন।
মায়ের সম্পত্তিতে অধিকার:
মা যেহেতু তাকে জন্ম দিয়েছেন, তাই মা ও তার পরিবারের সঙ্গে উত্তরাধিকার সম্পর্ক থাকবে।
মায়ের সম্পত্তিতে জারজ সন্তান সম্পূর্ণ ওয়ারিশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
🔷 বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী:
বাংলাদেশে পারিবারিক উত্তরাধিকার মূলত পারিবারিক আইন (পার্সোনাল ল) অনুসারে নির্ধারিত হয়:
মুসলিমদের ক্ষেত্রে মুসলিম পার্সোনাল ল এবং
হিন্দুদের ক্ষেত্রে হিন্দু আইন।
🔸 মুসলিম আইন অনুসারে, জারজ সন্তান পিতার উত্তরাধিকার পায় না।
🔸 তবে কেউ চাইলে রেজিস্ট্রি বা উইল/হেবা করে দিতে পারেন।
🔷 কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট:
বিষয়অধিকারপিতার পরিচয়ইসলামে জারজ সন্তানের বাবা হিসেবে বিবেচনা করা হয় নাপিতার সম্পত্তিউত্তরাধিকার হিসেবে পাবে নামায়ের সম্পত্তিসম্পূর্ণ অধিকার থাকবেভরণ-পোষণবাবা আইনত বাধ্য নয়, কিন্তু মানবিকভাবে দায়িত্ববান হওয়া উচিতনামের অধিকার‘আব্দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ’ বা শুধু মায়ের নাম ব্যবহার করা যায়
✅ উপসংহার:
জারজ সন্তান নির্দোষ। ইসলামে পাপ কাজের শাস্তি সন্তানকে দেওয়া হয় না। তবে উত্তরাধিকার আইনে সে পিতার সম্পত্তির অংশীদার নয়, শুধুমাত্র মায়ের সম্পত্তিতে তার অধিকার থাকে।