18/11/2025
🔷 খরচ কমিয়ে বাড়ি করার কিছু পরামর্শ
**************************************
✔ বাড়ির সীমানা নিয়ে জটিলতা থাকলে সবার আগে তা মিটিয়ে ফেলুন। কাজ চলাকালীন প্রতিবেশি কিংবা আত্নীয়দের মধ্যে সীমানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে সেই কাজটুকুই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
✔ আপনি কি করতে চাইছেন তা পরিবারের সবার সাথে আলোচনা করে ঠিক করুন। ফেসবুক বা ইউটিউবে একটা বাড়ির ডিজাইন দেখেছেন, সেই বাড়িটি পছন্দ হয়েছে সেটাই করতে হবে এগুলো ভুলে যান, আরেকজনের বাড়ি দেখে নিজের বাড়ি হয়না। তিনি আপনার চাহিদা ও বাজেট অনুযায়ী ডিজাইন করে রাখেনি। আপনার বাড়ি হবে আপনার চাহিদা ও বাজেট অনুযায়ী।
✔ কয়টা রুম, টয়লেট, রান্নাঘর, ড্রইং ডাইনিং হবে কিনা, আরও কি কি বাড়িতে থাকতে পারে এগুলো নিজেরা বসে ঠিক করুন। কাজ চলাকালীন অনেকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন, একারণেই তখন অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি হয় এবং এর জন্য কাজের খরচ বৃদ্ধি পায়।
✔ অনেকের বাড়ি করার সামর্থ্য থাকলেও ডিজাইন করার সামর্থ্য বা মানসিকতা থাকেনা। নেট ঘুরে এখান থেকে একটা বাড়ির ভিউ, ওখান থেকে একটা ফ্লোর প্লান এবং মিস্ত্রি ও নিজের মাতবরিতে বাড়ির ডিজাইন করে ফেলে।
আবার অনেকের ডিজাইন করার সামর্থ্য থাকলেও মালামালের এস্টিমেট করার সামর্থ্য বা ইচ্ছা থাকেনা। তারা চিন্তা করে, মিস্ত্রির কাছ থেকে মালামালের হিসাব নিয়ে নেবো। মিস্ত্রির এই অনুমানের উপর এস্টিমেটে বাড়ির খরচ বাড়ে। অথচ একটা বাড়িতে অন্তত ১৫০ প্রকার মালামাল ব্যবহার হয়। প্রতিটি মালামালের নাম, পরিমাণ, বাজার দর কাছে থাকলে অতিরিক্ত মালামাল কিনতে হয়না, অপচয় হয়না, একটা নির্দিষ্ট নিয়মে কাজ করা যায়।
✔ বাড়ির ডিজাইন করার আগেই আপনার সর্বোচ্চ বাজেট নির্ধারণ করুন। ঋণ করলেও কতটা সঠিক ঋণ করতে পারবেন সে ব্যাপারে ১০০% নিশ্চিত হয়েই তারপর নিজের চাহিদা ঠিক করুন। মিস্ত্রি, ঠিকাদার, ইঞ্জিনিয়ার কি বলছে কিংবা অন্য কারো সাথে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে দেনার সাগরে ডুবতে যাবেন না। শুরু করলে শেষ হয়ে যাবে, এসব চিন্তা থেকে সরে আসুন।
✔ সামর্থ্য যদি থাকে সেমিপাকা টিনশেড বাড়ি করার, তাহলে তাই করুন। আবেগ এবং বাস্তবতা ভিন্ন জিনিস।
✔ এবার আপনি কতটুকু জায়গা নিয়ে বাড়ি করবেন, কত তলা বাড়ি করবেন, কয়টা রুম ও আর কি কি থাকবে, আপনার বাজেট ইত্যাদি একজন আর্কিটেক্টকে বুঝিয়ে বলুন। আর্কিটেক্ট আপনার চাহিদা অনুযায়ী আপনার বাড়ির ফ্লোর প্লান এবং আউটলুক ডিজাইন করবেন।
✔ একটা বাড়ির ডিজাইন একজন আর্কিটেক্ট, একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মিলে করে থাকেন। এই ৩ জনের কাজ আলাদা। ইঞ্জিনিয়ার সব ডিজাইন করেন, এটা ভুল ধারণা। একটা বাড়ির কাজে যেমন রাজমিস্ত্রি, রড মিস্ত্রি, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি, স্যানিটারি মিস্ত্রি, রঙ মিস্ত্রি, টাইলস মিস্ত্রি ইত্যাদি আলাদা হয়, বাড়ির ডিজাইনের ক্ষেত্রেও তাই। ইঞ্জিনিয়ারের কাজ আর্কিটেক্ট দিয়ে যেমন হয়না, তেমনি আর্কিটেক্ট এর কাজ ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে হয়না। যারা অতি সস্তায় ডিজাইন করে দেয় তাদের বেশিরভাগ একাই একশো, অর্থাৎ যিনি ইঞ্জিনিয়ার তিনিই আর্কিটেক্ট এর কাজ করে থাকেন।
✔ অতিরিক্ত ফাউন্ডেশন দিয়ে মাটির নিচে টাকা ফেলে রাখবেন না। আমরা এমনও দেখেছি, ৫ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে কাজ শুরু করলেও ১ তলা বাড়ির লিন্টেল পর্যন্ত কাজ করার পর টাকার অভাবে আর কোন কাজ করতে পারেননি। সন্তানদের জন্য চিন্তা করে অতিরিক্ত ফাউন্ডেশন দিয়ে বাড়ি করা থেকে বিরত থাকুন। সন্তানকে মানুষ করুন, সে তার ব্যবস্থা করে নিতে পারবে। একদিন আপনার স্থান এই বাড়িতে থাকবে নাকি বৃদ্ধাশ্রমে হবে তা আপনি জানেন না। আপনার সন্তান বড় হতে হতেই দেখবেন বাড়িটি পুরাতন হয়ে গেছে।
✔ আর্কিটেক্ট এর ফ্লোর প্লান অনুযায়ী একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আপনার বাড়ির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন (ফাউন্ডেশন, কলাম, বীম, ছাদ, সিড়ি ইত্যাদি) করবেন। আপনার বাড়ির মোট ওজন কত হবে সে অনুযায়ী একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার / স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ফাউন্ডেশন, কলাম সংখ্যা, বীমের সাইজ, রডের সংখ্যা ও রডের সাইজ নির্ধারণ করবেন। এই ব্যাপারগুলো ইঞ্জিনিয়ারের কাজ, আপনার নয়। এই ব্যাপারে আপনার নাক গলানো উচিৎ নয়। একজন অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার সঠিকভাবে ডিজাইন করলে অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বাদ দিয়ে এখানেই বাড়তি খরচ কমাতে পারেন।
✔ এবার একজন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ইলেক্ট্রিক্যাল ও প্লাম্বিং ডিজাইন করবেন। আপনার কয়টা রুমে এসি, গীজার ব্যবহার হতে পারে, ওয়াশিং মেশিন, রাইস কুকার, ফ্রিজ, ডিপ ফ্রিজ, ইন্ডাকশন কুকার, ব্লেন্ডার মেশিন সহ আর কোন কোন ইলেকট্রিক্যাল মালামাল ব্যবহার হতে পারে সেগুলো বিস্তারিত ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারকে বলুন। তিনি আপনার এসব নিয়ে বাড়িটির ইলেকট্রিক্যাল লোড হিসাব করে কোথায় কোন ধরনের তার ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার হবে সে অনুযায়ী ডিজাইন করবেন। ইলেকট্রিক্যাল ও স্যানিটারি মিস্ত্রি এভাবে হিসাব করেনা। তাদের হিসাব অনেকটাই অনুমানের উপর হয় বলেই এই কাজগুলো অনিরাপদ এবং খরচ বেড়ে যায়।
✔ একটা সঠিক ডিজাইনই পারে খরচ কমাতে। ডিজাইন চার্জ বাঁচাতে মিস্ত্রি, নিজে, অনভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্ট দিয়ে ডিজাইন করা থেকে বিরত থাকুন। আমাদের দেশে ফেসবুকে যারা ডিজাইন করে দেয় তাদের ৮০% কোম্পানিই একজনই সব ধরনের ডিজাইন করে থাকে। অর্থাৎ যিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, তিনিই আর্কিটেক্ট, আবার তিনিই ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার সেজে কাজ করেন। এইসব কোম্পানি বা কেউ ২/৫/১০/১৫ হাজারেও ২/৫ তলা বাড়ির ডিজাইন করে দেয়। একজন মানুষ কি একসাথে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হতে পারে? একজন শিক্ষক কি ইংরেজি, অংক, বাংলা ইত্যাদি বিষয়ে অভিজ্ঞ হতে পারে? কোনমতে কাজ চালানোর মতো হতে পারে। কিন্তু যার যে পেশা সে সেই পেশাতেই অভিজ্ঞ।
✔ নেট তো ব্যবহার করেনই। তাহলে ভালো মালামাল কিভাবে চিনতে হয় সেগুলো নেটে ঘাটুন এবং অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিয়ে ইট বালু সিমেন্ট সহ অন্যান্য সবকিছু কিনুন।
✔ বাকিতে মালামাল কিনলে খরচ বাড়ে।
✔ রড সিমেন্ট সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে কিনলে অনেক খরচ কমানো যায়।
✔ ইলেকট্রিক্যাল, স্যানিটারি আইটেমও সরাসরি ডিলারের কাছ থেকে কিনুন।
✔ বাজেট যদি খুবই কম থাকে তাহলে বি গ্রেডের টাইলস পাবেন অনেক সস্তায়। আপনার এলাকায় খোঁজ নিন, নয়তো আশেপাশের এলাকায়।
✔ মিস্ত্রির কাজ মাপতে শিখুন। সিএফটি, এসএফটি কিভাবে বের করতে হয় তা শিখুন। তাহলে মিস্ত্রি বা ঠিকাদার ঠকাতে পারবেনা।
✔ খোয়া কেনা থেকে বিরত থাকুন। ইট কিনে ভাঙ্গিয়ে নিন।
✔ রাজমিস্ত্রি, ইলেকট্রিক্যাল মিস্ত্রি, স্যানিটারি মিস্ত্রি, টাইলস মিস্ত্রির সাথে কাজের আগে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি করে নিন। ডিজাইনের বাইরে কোন কাজ করা থেকে মিস্ত্রিকে বিরত রাখুন, তাহলেই খরচ কমে যাবে। কাজ বাড়িয়ে মজুরি নেয়াটা অনেক মিস্ত্রি ও ঠিকাদারের অভ্যাস। তাদের বিভিন্ন কথায় এসব প্রলোভনে পা দিবেন না।
✔ মালামাল কিনে এনে কোথায় রাখবেন সেই জায়গাটি আগে থেকে ঠিক করে রাখুন। কিভাবে তা রাখবেন তা ঠিক করুন, যেনো অপচয় নাহয় তা মাথায় রাখুন।
✔ বাজেট কম থাকলে অযথা বাড়তি বা ভুংভাং ডিজাইন করা থেকে বিরত থাকুন। ভবিষ্যতে টাকা হলে করবেন। আগে মাথা গোজার ব্যবস্থা করুন।
✔ টাইলস ছাড়াও বাড়ি হয়। থাই গ্লাস ছাড়াও বাড়ি হয়। বাজেট কম, এগুলো বাদ দিন।
✔ দেয়ালে প্লাস্টার রঙ না করেও বাড়ি হয়। ইটের গায়ে পয়েন্টিং করেও করা যায়। দেয়ালে চুন টেনেও রঙের কাজ হয়।
✔ বিকল্প মালামাল ব্যবহার করে খরচ কমানো যায়।
✔ বর্তমান বাজারে একটা বাড়ি করতে যদি ২০ লক্ষ টাকা খরচ হয়। দুনিয়াতে এমন কোন ইঞ্জিনিয়ার, মিস্ত্রি, ঠিকাদার নেই যে সেই বাড়িটি সেইসব মালামাল দিয়ে ১০ লক্ষ টাকায় করে দিবে। তাহলে তিনি নোবেল পুরষ্কার পেয়ে যেতেন!
✔ সস্তা ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট, অটোক্যাড ডিজাইনার দিয়ে খরচ কমেনা। কারন তিনি এইসব বিষয় জানেন না। তিনি জানেন আরেকটা ডিজাইন দেখে কিভাবে কপি করে বাড়ি করতে হয়।
✔ ভালো ডিজাইনের পিছনে কিছু টাকা বাড়তি খরচ করুন, এতে আপনারই লাভ হবে। অনেকে বাড়ির খরচ কমাতে সস্তায় ডিজাইন করেন, সস্তায় কখনও ভালো ডিজাইন হয়না। একজন অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্ট তার ডিজাইনে খরচ বাঁচাতে পারে।
✔ ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্ট দিয়ে নির্মাণ কাজ চলাকালীন তদারকি করান, কাজ চলাকালীন সময়ে তাদের পরামর্শ নিন। ২ টাকা বাঁচাতে অনেক ভুল থেকেও বাঁচা যায়। যার ফলে খরচ কমে।
✔ এগুলো ছাড়াও আরও কিছু টেকনিক্যাল ব্যাপার আছে যা ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্টদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মেধা ও দক্ষতার উপর নির্ভর করে। সস্তা ডিজাইনারদের এসব কিছু থাকেনা। তারা কপি ডিজাইন করে।
✔ সব স্বপ্ন পূরণ হয়না। এই বাস্তবতা মেনে নিন।
বাংলাদেশের যেকোন প্রান্তে আপনার বাড়ির নান্দনিক ডিজাইনের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
আমাদের প্রতিটি বাড়ির ডিজাইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট এবং ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মিলে করে থাকেন, একজন ব্যক্তি সব ধরনের ডিজাইন করেনা। যার কাজ সেই করে থাকেন।
👉 যোগাযোগঃ
Massive Engineers Ltd.
Corporate Office: Sharif Manshion (Level -7), 56-57, Motijheel C/A, Dhaka -1000.
E-mail: [email protected]
Hotline: 09696821444; 01797-121444 (WhatsApp)
Website:
Massive Group is one of the young rising real estate company in Bangladesh. Massive Engineers has been in the construction arena since 2017, initially serving various sectors of the Army Projects in Dhaka & Cox’s Bazar and gradually moving on to the sector of real estate. The Company incorporated ...