15/04/2026
ফ্ল্যাট কেনার ব্যাপারে ৮টি পরামর্শ
বাদল সৈয়দ
ফ্ল্যাট কেনা নিয়ে পক্ষে/বিপক্ষে অনেক মতামত আছে। আমি সেদিকে যাব না—শুধু যারা কিনতে চান তাঁদের কিছু পরামর্শ দেবো।
ফ্ল্যাট কিনে সমস্যায় পড়েছেন, এমন বেশ কয়েকজনের সাথে আমার পরিচয় আছে। তাঁদের অভিজ্ঞতার আলোকে পরামর্শগুলো দিলাম।
১) বাজারে দীর্ঘদিনের সুনাম আছে এবং আগে বেশ কিছু প্রজেক্ট সফলভাবে শেষ করেছে, এমন প্রতিষ্ঠান থেকে ফ্ল্যাট কিনুন। এক্ষেত্রে ঝুঁকি সাধারণত কম থাকে।
২) যাদের কাছ থেকে কিনবেন, তাদের পুরোনো ক্লায়েন্টদের অভিজ্ঞতা শুনুন। এক্ষেত্রে কয়েকজনের মতামত নিতে পারলে ভালো।
৩) পরিচিত কারো কথায় যাচাই-বাছাই না করে ফ্ল্যাট কিনবেন না।
৪) পারতপক্ষে নগদ টাকা দেবেন না। ব্যাংকের মাধ্যমে দেবেন। কোনো কারণে নগদে দিলে কোম্পানির অফিসিয়ালি ইস্যু করা রিসিট রাখুন।
৫) কোনো আবাসন প্রকল্পে ফ্ল্যাট কেনার জন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে তা ভালো লক্ষণ। কারণ জমির কাগজপত্র ও প্রকল্পের সম্ভাবনা পরীক্ষা করা ছাড়া ব্যাংক ঋণ দেয় না। এর অর্থ এই নয় যে, আপনি ঋণ নেবেন। কিন্তু ফ্ল্যাট কেনার সময় এটি যাচাই করলে আপনি প্রকল্পটি নির্ভেজাল কিনা, সে ব্যাপারে কিছুটা নিশ্চিত হতে পারবেন।
৬) যেসব প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাট কেনার জন্য ঋণ দেয়, সেখানে পরিচিত কেউ থাকলে তাঁর সাথে ফ্ল্যাট কেনার ব্যাপারে আলাপ করতে পারেন। এরা এসব ব্যাপারে খুব ভালো খবর রাখেন।
৭) কোনো হিডেন খরচ আছে কিনা জেনে নিন। কোনো কোনো ফ্ল্যাট হস্তান্তরের সময় রাজউক, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়—এগুলোর অনুমতি লাগে। সেক্ষেত্রে আলাদা খরচ আছে। অনেক সময় এটা জানানো হয় না।
৮) আমার এক আত্মীয় ফ্ল্যাট কেনার সময় একটি অন্যরকম সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন। তা হচ্ছে, যে কোম্পানি থেকে তিনি ফ্ল্যাট কিনবেন, সেখানে অন্তত কয়েকজন কমপক্ষে পাঁচ বছরের পুরোনো সেলস কর্মী থাকতে হবে। তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন—
যেসব প্রতিষ্ঠান ঘন ঘন কর্মী বদলায়, বিশেষ করে সেলস বা অ্যাকাউন্টসের কর্মী, ওই কোম্পানিতে না যাওয়াই ভালো। কারণ অনেকেই টাকা মেরে কর্মী ছাঁটাই করে তাদের ওপর দোষ চাপায়। তারাও আপনার সাথে হাহাকার করবে, বলবে, - ‘ভাই, আপনি তো অমুকের সাথে ডিল করেছেন। সে কোনো টাকা কোম্পানিতে জমা দেয় নাই। আপনাকে ভুয়া রিসিট দিয়েছে। শুধু আপনি না, আরো অনেকের সাথে করেছে। আমরাও ওকে খুঁজছি।’
তাঁর মতে, ঘন ঘন কর্মী বদলানো বড় ধরনের ‘রেড ফ্ল্যাগ।’ বুদ্ধিটা আমার ভালোই মনে হয়েছে।
মধ্যবিত্তরা প্রায় জীবনের সর্বস্ব দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনেন। সেটি কিনে ঝামেলায় পড়লে তাঁদের অস্তিত্ব নিয়েই টানাটানি হয়। তাই যদি ফ্ল্যাট কেনার সিদ্ধান্ত নেন খুব সাবধানে তা বাছাই করবেন।