27/12/2024
এবার ফাজায়েলে আমাল কিতাব বন্ধ ঘোষণা সময়ের অপেক্ষা মাত্র, জোবায়ের পন্থী হেফাজতের গায়ে আগুন ধরে যাচ্ছে, নজরে সানি মাওঃ জোবায়ের সাব ও মাওঃ রবিউল সাব,
------------------------------------------------------------------------------------
হযরত বুরাইদা রাঃ বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মানুষের নিকট হতে খাওয়ার উদ্দেশ্যে কোরআন পড়ে কিয়ামতের দিন সে এমন অবস্থায় আসবে যে, তার চেহারায় শুধু মাত্র হাড্ডি থাকবে, যার উপর কোনো গোশত থাকবেনা। (বায়হাকী) (ফাযায়েলে আমলের ফাযায়েলে কোরআন এর ৭ নং হাদীস।
এরপর লেখেছেন, অর্থাৎ যারা দুনিয়া হাসিলের উদ্দেশ্যে কোরআন পড়ে আখেরাতে তাদের কোনো অংশ নেই। হুযুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমরা কোরআন শরীফ পড়ি, আমাদের মধ্যে আজমি ও আরবি সব ধরনের লোক আছে। যেভাবে পড়িতেছো পড়তে থাকো।
*অতি শীঘ্রই এমন লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা কোরআন শরীফের হরফগুলিকে এমন ভাবে সোজা করবে যেমন তীর সোজা করা হয়। অর্থাৎ খুবই সুন্দর করবে। ঘন্টার পর ঘন্টা একেকটি হরফ সহীশুদ্ধ করবে। মাখরাজ আদায়ে কৃত্রিমতার আশ্রয় নিবে। আর এই সবকিছু দুনিয়ার জন্য হবে। আখেরাতের সহিত তাদের কোনোই সম্পর্ক থাকবেনা।
উদ্দেশ্য হলো, সুন্দর সুরের কোনো মূল্য নেই যদি উহাতে কোনো এখলাস না থাকে। এটা শুধুই দুনিয়া কামানোর জন্য হবে।
*চেহারায় গোশত না থাকার অর্থ হলো, সে যখন সর্বোৎকৃষ্ট বস্তু কোরআনকে নিকৃষ্ট বস্তু কামানোর মাধ্যম বানিয়েছে তখন তার সর্বোৎকৃষ্ট অঙ্গ চেহারাকে সৌন্দর্য হতে বঞ্চিত করা হবে।
*হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাঃ এক ওয়াজকারীর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে কোরআন তেলাওয়াতের পর মানুষের নিকট কিছু চাচ্ছিলো। এটা দেখে তিনি ইন্না-লিল্লাহ পড়লেন এবং বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তেলাওয়াত করবে যা কিছু চাইবার সে যেনো আল্লাহ পাকের নিকট চায়। অতিসত্বর এমন লোক আসবে যারা কোরআন তেলাওয়াতের পর মানুষের নিকট ভিক্ষা চাবে।
*মশায়েখগণ হতে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি এলেমের দ্বারা দুনিয়া উপার্জন করে তার উদাহরণ হলো, নিজের জিহ্বা দ্বারা জুতা পরিস্কার করে। এতে সন্দেহ নেই যে, জুতা তো পরিস্কার হবে ঠিক, কিন্তু জিহ্বা দ্বারা জুতা পরিস্কার করা চরম নির্বুদ্ধিতা ও আহাম্মকীর কাজ হবে।
*এরূপ লোকদের সম্পর্কেই পবিত্র কোরআনে আয়াত নাযিল হয়েছে--
﴿أُولَٰئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَىٰ فَمَا رَبِحَت تِّجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ﴾
অর্থাৎ এরাই ঐ সকল লোক যারা হেদায়েতের পরিবর্তে গোমরাহি খরিদ করে নিয়েছে। (সূরা বাকারা, আয়াত- ১৬)
সুতরাং না তাদের ব্যবসা লাভজনক, আর না তারা হেদায়েতপ্রাপ্ত।
**হযরত উবাই ইবনে কাব রাযিঃ বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে কোরআন শরীফের এক সূরা শিখিয়েছিলাম। সে হাদিয়া হিসেবে আমাকে একটি ধনুক দিলো। আমি রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা বললে তিনি আমাকে বললেন, তুমি জাহান্নামের একটি ধনুক নিয়েছো।
হযরত উবাদা ইবনে সামেত রাযিঃও তার নিজের সম্পর্কে অনুরূপ ঘটনা বর্ণনা করেছেন এবং হুযুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন, তুমি জাহান্নামের একটি স্ফুলিঙ্গ আপন কাঁধে লটকিয়ে দিয়েছো। অন্য রেওয়ায়েতে আছে, তুমি যদি জাহান্নামের একটি বেড়ি গলায় পরিতে চাও তবে উহা কবূল করো।
এরপর ফাযায়েলে আমল কিতাবের লেখক শায়খুল হাদীস হযরত যাকারিয়্যা রহঃ বলেন,
***এখানে পৌঁছে আমি ঐ সকল হাফেজদের খেদমতে অত্যন্ত আদবের সহিত আরজ করতে চাই, যারা পয়সা কামাইয়ের উদ্দেশ্যেই মক্তবে কোরআন শরীফ শিক্ষা দিয়ে থাকেন, আল্লাহর ওয়াস্তে নিজেদের পদমর্যাদা ও জিম্মাদারীর প্রতি একটু লক্ষ করুন। যারা আপনাদের বদনিয়তের কারণে কালামে পাক পড়ানো বা হেফ্জ করানো বন্ধ করে দেয় তার আজাবে শুধু তারাই গ্রেফতার হবে না, বরং আপনাদেরকেও তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে এবং আপনারাও কোরআনে পাক পড়া বন্ধ করনেওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
(বেতন দিতে হয় বলে অনেকেই কোরআন পড়া বন্ধ করে দেয়)
*** আপনারা মনে করেন যে, আমরা কোরআন প্রচার করি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আপনারাই উহা প্রচারের পথে প্রতিবন্ধক। আপনাদের বদ স্বভাব ও বদ নিয়ত-ই মানুষকে কোরআনে পাক ছেড়ে দিতে বাধ্য করছে।
(এখানে বেতন নেওয়াটাই এক ধরনের বদ স্বভাব বলেছেন)
**ওলামায়ে কেরাম তালীমের বিনিময়ে বেতন নেওয়াকে এজন্য জায়েয বলেননি যে, আমরা এটাকেই উদ্দেশ্য বানিয়ে নিবো। প্রকৃতপক্ষে শিক্ষকদের আসল উদ্দেশ্য শুধু তালীম এবং কোরআনী এলেমের প্রচার-প্রসার। বেতন উহার বদলা নয় বরং জরুরত মিটানোর একটি উপায় মাত্র, যা একান্ত বাধ্য হয়ে এবং অপারগতার কারণেই এখতিয়ার করা হয়েছে।
এখানে এসে আমি চোট্ট একটা মন্তব্য করি, যারা ১ ঘন্টা ওয়াজ করে ৫০/৬০ হাজার টাকা নিচ্ছেন, সেটাও কি খেদমত?
আরেকটা বিষয় হলো,
হযরত মাওলানা সাদ সাহেবের ব্যাপারে যে বলা হয়, মাদরাসায় পড়িয়ে বেতন নেওয়ার ব্যাপারে উনি এই-সেই বলেছেন। আসলে কি শুধু উনিই বলেছেন? স্বয়ং রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাবধানমূলক কথা বলাও কি অন্যায়। এখানে মাওলানা যাকারিয়্যা রহঃও তো কড়া মন্তব্য করেছেন।
বরং হযরত মাওলানা সা'দ সাহেব তার বয়ানে