04/09/2026
#হবিগঞ্জ থেকে মৌলভীবাজারে এসে গোপন ২য় বিয়ে, শাশুড়ির নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট!
স্বামীকে প্রবাসে রেখে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় শাশুড়ির নগদ টাকা, স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের গয়না লুট করে নিয়ে যাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজারে। ঘটনার ভয়াবহতায় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গত ৩১ আগস্ট মৌলভীবাজার সদর থানাধীন দরগামহল্লা শেখ বাড়ি এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মাজেদা বিবি অভিযুক্ত তাছমিয়া আক্তার কলিসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত তাছমিয়া আক্তার (কলি) হবিগঞ্জ সদর থানাধীন মোহনপুর গ্রামের আব্দুল মুছাব্বিরের কন্যা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাজেদা বিবির প্রবাসী ছেলে শাহ আলম মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তোলেন হবিগঞ্জের তাছমিয়া আক্তার। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি শ্রীমঙ্গলের 'হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট ও গলফ'-এ ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে ২৮ জানুয়ারি জেলা পরিষদ সংলগ্ন একটি রেস্তোরাঁয় জাঁকজমকপূর্ণ ওয়ালিমা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিয়ের কিছুদিন পর থলের বিড়াল বের হয়ে আসে। মাজেদা বিবি জানতে পারেন, কলি ইতিপূর্বেই হবিগঞ্জ শহরের মহব্বত কনভেনশন হলে তানভীর রাজ নামে অপর এক প্রবাসীর সাথে ৮ লক্ষ টাকা দেনমোহরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন (রেজি: তারিখ- ০৩/১২/২০২৪ইং)। আগের স্বামীকে তালাক না দিয়েই প্রবঞ্চনার মাধ্যমে তিনি দ্বিতীয় বিয়েটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তানভীর রাজের মা রমিজা বেগম।
প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসতেই বাধে বিপত্তি। মাজেদা বিবি এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাছমিয়া ও তার সহযোগীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ধাক্কাধাক্কি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার বাহানায় ঘরে থাকা নগদ টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের গয়না, জামাকাপড়সহ মূল্যবান সব জিনিসপত্র নিয়ে চম্পট দেয় তারা।
শুধু তা-ই নয়, প্রমাণের অস্তিত্ব মেটাতে মোবাইল থেকে বিয়ের সব ছবি ও তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা চালানো হয় এবং প্রবাসী স্বামীসহ তার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভুক্তভোগী মাজেদা বিবি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর সত্যতা পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাই সাপেক্ষ।
#মৌলভীবাজার #মৌলভীবাজারের_খবর #হবিগঞ্জ #হবিগঞ্জের_খবর #মৌলভীবাজার_পৌর_পার্ক