20/07/2021
কুরবানির দিনের করণীয়—
* ঈদের সালাত আদায় করা:
আমাদের সমাজের অনেক মানুষ আছেন, যারা নিয়মিত সালাত আদায় করেন না, তবে ঈদের সালাতের জন্য ঈদগাহে যান। তাদের জন্য একটি আত্মজিজ্ঞাসা—এই সালাতটা আপনি কেন পড়ছেন? যদি আল্লাহর জন্য পড়ে থাকেন, তাহলে সেই আল্লাহ যে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন, সেটা এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। এখন যদি পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের প্রতি কোনো গুরুত্ব না থাকে, তাহলে আপনি কি নিজেকে বোঝাতে পারবেন, যে এই ঈদগাহে আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এসেছেন?
* ঈদগাহে যাওয়ার সময় সুগন্ধি ব্যবহার করা:
এটা আল্লাহর রাসূলের একটি সুন্নাহ। অত্যন্ত প্রিয় সুন্নাহ। দুনিয়ার যে কটি জিনিস তিনি তাঁর প্রিয় বলে উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে এটি একটি।
* পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা:
এটা সবসময়ের জন্য করণীয় হলেও এই সময়ের জন্য বিশেষভাবে প্রযোজ্য। যারা কুরবানি করবেন তারা যেহেতু বিগত নয় দিনে নখ-চুল-গোঁফ কাটতে পারেননি, তাই ভালোভাবে গোসল করে নেবেন; আর কুরবানি সম্পন্ন হওয়ার পর যথাসম্ভব দ্রুত নখ-চুল-গোফ কেটে নেবেন।
* সুন্দর পোশাক পরিধান করা:
উত্তম পোশাক পরিধান; যদি কারও ‘সম্মানে’ পরিধান করা হয়, তাহলে সেটা তো কেবল পোশাকের স্রষ্টা মহান আল্লাহর সম্মানেই হওয়া উচিত। আল্লাহ এটা অত্যন্ত পছন্দ করেন, বান্দা যেন তাঁর ইবাদাতের সময় উত্তমরূপে নিজেকে সজ্জিত করে। এজন্য তিনি কুরআনুল কারিমে বলেছেন—
"হে বনু আদাম, প্রত্যেক ইবাদাতের সময় তোমাদের উত্তম সাজসজ্জা গ্রহণ করো।"
আমরা যদি পৃথিবীর কোনো রাজাবাদশা বা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানেও যাই, সাধ্যমতো উত্তম পোশাকে যেতে চেষ্টা করি। তাহলে মহান রবের সামনে দাঁড়াতে, তাঁর আমন্ত্রিত অনুষ্ঠান ঈদের সালাতের জন্য এই আগ্রহ সর্বোচ্চ হওয়া উচিত। তবে এটা যে নতুন কাপড়েই হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কাছে থাকা কাপড়ের মধ্যে সবচেয়ে ভালো কাপড়টি হলেই হয় এবং তা পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র হলেই চলে।
* ভিন্ন পথে ঈদগাহে আসা-যাওয়া:
ইসলামের হুকুম-আহকাম কিংবা নবিজির প্রতিটি সুন্নাহর মধ্যেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে। কখনো এ কল্যাণ আমরা অনুধাবন করতে পারি, কখনো পারি না। হয়তো এই সুন্নাহর মধ্যে কী তাৎপর্য আছে তা সকলের কাছে, কিংবা কারও কাছেই স্পষ্ট নাও হতে পারে। তবে আমালটির প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, এটি একটি সুন্নাহ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদগাহে এক পথ দিয়ে যেতেন, আসতেন অন্য পথ দিয়ে।
* ঈদুল আযহার সালাতের পূর্বে কিছু না খাওয়া:
ঈদুল ফিতরের দিন সালাতের জন্য ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে কিছু খেয়ে যাওয়া সুন্নাহ। মিষ্টি জাতীয় কোনো খাদ্য বা সহজলভ্য যেকোনো খাবার। খেজুর খেয়ে যাওয়া যেতে পারে; আর সেক্ষেত্রে খেজুর বেজোড় সংখ্যায় হওয়া উত্তম। পক্ষান্তরে ঈদুল আযহার দিনে সালাত আদায় করে আসার পূর্বে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু খেতেন না। তিরমিযির বর্ণনায় এসেছে, ঈদের সালাত আদায় না করা পর্যন্ত; আর সহিহ ইবনু হিব্বানের বর্ণনায় এসেছে, কুরবানি না করা পর্যন্ত কিছু খেতেন না।
* তাকবির পাঠ করা:
ঈদের সালাতে যাওয়া-আসার সময় এবং সাধারণভাবে যেকোনো সময়ে অধিক হারে তাকবির পাঠ এই দিনের একটি বিশেষ আমাল। তাকবির হলো: আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হাম্দ।
* কুরবানির পশু জবাই করা ও তার গোশত আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী,
বন্ধুবান্ধব ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা।