06/08/2024
আমাদের ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে আমরা অনেক সফলতার গল্প বা উদ্যোক্তার গল্প তুলে ধরি। শুধুমাত্র প্রচার বা বিজ্ঞাপন না, আমাদের প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা ও বাংলাদেশের সার্বিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করি। কোম্পানির ব্যানারে আমাদের এসকল ভিডিও প্রচার হয় বলে অনেকেই মনে করেন সব সাজানো, যা আদতে পুরোটাই ভুল ধারণা।
আমি অন্য কোন চাষী না, আজ নিজের গল্পই তুলে ধরব। ২০২০ সালের করোনার পরবর্তী সময়ে টাঙ্গাইল মির্জাপুরে “আল ফুরকান” নামের একটি মাছের খামারে “প্রজেক্ট ইনচার্জ” হিসেবে যোগদান করি। ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী অই পদাধিকার বলে প্রথম নাটোর যাই আর দেখা হয় মফিদুল ভাইয়ের সাথে। বিগত কয়েকদিনে বালির ঢিবিতে তারপুলিন বিছিয়ে পুকুর তৈরী করি। নাটোর আসার উদ্দেশ্য ছিল “ভিয়েতনামী কই” প্রজেক্ট পরিদর্শন আর ভিয়েতনামের প্রোডাক্ট দেখা।
প্রথম দেখা মফিদুল ভাইয়ের সাথে, অত্যন্ত মিশুক মানুষটার সাথে দেখা হবার পর কথা হল। যদিও আমি কর্মক্ষেত্রে খুব কম কথাই বলি। প্রজেক্ট দেখার পর উনার অফিসে বসলাম প্রডাক্ট দেখছি। ব্যবহারবিধি উনিও বলছেন আমিও। সমস্বরে সমুচ্চারিত শব্দ একসুরে পড়ে যাওয়ায় দুইজনের কম্বিনেশন ছিল দারুণ। উনার কাছে প্রোডাক্টের স্টক আর প্রেজেন্টেশন তার সাথে আমার পড়ে আসা মৎস্যবিদ্যার সকল ধাপে প্রয়োজন বুঝে সব ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে আসি। পরবর্তীতে উনার উপস্থিতিতে আর তার সাথে পরামর্শ করেই আমাদের অই প্রজেক্টের যাত্রা শুরু হয়।
বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ামাত্রই আমাদের প্রজেক্টের সুনাম ছড়িয়ে পড়লে অই প্রজেক্টের সাথে উনার একটা দূরত্ব সৃষ্টি হলেও আমার সাথে যোগাযোগ ছিল নিয়মিত। আমাদের উৎপাদিত ভিয়েতনামী শোল, কই, শিং, নোনা টেংরা এর মাঝে সকল জেলা বা বিভাগ আর মৎস্যবিদদের কাছে সমাদৃত হলো। কিন্তু অগোচরে রয়ে গেল নেপথ্যের নায়ক।
পরিশেষে বলা যায় একটি কথাই। আমার জীবনের পড়ার বিষয়বস্তু, শখ সব মিলে এই মাছের জগৎ সবটাই জুড়ে আছে। সেই প্রজেক্ট ছেড়ে আসলেও প্রাণের সেই মানুষটার সাথে আজো রয়েছি। তার মতই কাজ করে যাচ্ছি এখনো, মাছ চাষীদের সেবায় আর মাছ চাষের আধুনিকায়নে।
এখনো সক্রিয় আছি সেই চিরচেনা টিএম এগ্রো এন্ড ফিশারিজ এ।
ধন্যবাদ জানাই সকল সদস্যকে যারা আমাদের টিএম এগ্রো এন্ড ফিশারিজ পরিবারের সাথে রয়েছেন।