আলোর পথে অগ্রযাত্রা

আলোর পথে অগ্রযাত্রা Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from আলোর পথে অগ্রযাত্রা, Real Estate, রুপপুর ঈশরদী, Pabna.

ফুরফুরার গদ্দীনশীন পীর শাইখুল হাদীস আবু বকর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী আল-কুরাইশী এর বিস্তারিত জিবনী-মুহিউস সুন্নাহ শেরে...
11/06/2026

ফুরফুরার গদ্দীনশীন পীর শাইখুল হাদীস আবু বকর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী আল-কুরাইশী এর বিস্তারিত জিবনী-

মুহিউস সুন্নাহ শেরে ফুরফুরা আমীরুল ইত্তেহাদ হযরত মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মদ আব্দুল কাহ্হার সিদ্দিকী (রহ.)-এর সুযোগ্য বড় সাহেবজাদা হযরত মাওলানা আবুবকর মুহাম্মদ আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী ফুরফুরার বর্তমান গদ্দীনশীন পীর। ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রা:) এর তিনি ৪২ তম বংশধর। তাঁর পরদাদা মোজ্জাদ্দেদে জামান আবুবকর সিদ্দিকী (রহ.)এর স্থলাভিসিক্ত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। মোজাদ্দেদে জামান হযরত আবুবকর সিদ্দিকী (রহ.) তাঁর সমস্ত সম্পত্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ মুতাওয়াল্লি নির্বাচন সম্পর্কে লিখিত দলিলে বলে গিয়েছেন আমার পরে আমার বড় ছেলে, তার পরে তার বড় ছেলে এভাবে চলবে। সেই হিসেবে মোজাদ্দেদে জামান (রহ.) এর পরে তাঁর বড় ছেলে বর্তমান হুজুরের দাদা হযরত আব্দুল হাই সিদ্দিকী (রহ.) মুতাওয়াল্লির দায়িত্ব পান। তারপর তাঁর বড় ছেলে বর্তমান পীর সাহেবের আব্বা হযরত আব্দুল কাহ্হার সিদ্দিকী (রহ.) মুতাওয়াল্লির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর ইন্তেকালের পরে একই নিয়মে তাঁর বড় ছেলে বর্তমান পীর সাহেব হুজুরের উপর এই গুরুদায়িত্ব এসে পরেছে। পিতার ইন্তেকালের পর ৭৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী দরবারে ফুরফুরার গদ্দীনশীন পীর হিসেবে ২০০৬ সনের ২২ শে ডিসেম্বর জুমাবার তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ফুরফুরার মরহুম পীর সাহেব (রহ.) বলতেন মিশকাত ভালো আলেম হয়েছে, আমার পিতা যেমন আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন তেমনি আমি মিশকাতকে দায়িত্ব দিয়ে যাচ্ছি। আমি চলে যাবো, কিন্তু আপনাদেরকে একটা তলোয়ার দিয়ে যাচ্ছি, সে হচ্ছে আমার মিশকাত।

২২ ডিসেম্বর ২০০৬ মরহুম পীর সাহেব (রহ.)-এর জানাজা-দাফনের পূর্বে দরবারের মুরুব্বি হিসেবে সবার শেষে বক্তব্য রাখেন মেজ হুজুর মুফতিয়ে আজম আল্লামা আবু ইব্রাহীম মোঃ ওবায়দুল্লাহ্ সিদ্দিকী সাহেব। তিনি হযরত পীর সাহেব হুজুর (রহ.) এর জীবনের বিভিন্ন দিক আলোচনা করেন। ১৯৭৭ সনের ১৩ মে মরহুম হুজুর কিভাবে পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন, কিভাবে পিতার সকল মুরীদ-মুতাকেদিন তাঁর হাতে তাসদিদে বায়াত হলেন ইত্যাদি নানা বিষয় তুলে ধরেন। মেজ হুজুর বলেন যে, মরহুম পীর সাহেব হুজুর (রহ.) বহু বছর থেকে বলে আসছিলেন যে, মিশকাতকে আমার জায়গায় দায়িত্ব দিলাম, তাকে সামনে রেখে কাজ করবেন। সুতরাং মিশকাত বর্তমান ফুরফুরার পীর। এরপর সবাইকে তাঁর হাতে তাসদিদে বায়াত হবার আহ্বান জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করলেন।

এরপর বর্তমান পীর আল্লামা আবুবকর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী সাহেব উপস্থিত ভক্ত-মুরীদ মুতাকেদীনকে তাসদিদে বাইয়াত করালেন। বাইয়াত করানোর পূর্বে অল্প সময় তিনি বাইয়াত সম্পর্কে আলোচনা করলেন। এরপর বাইয়াত শেষে তাওহীদ, রিসালাত, আখেরাত, ইবাদত ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সারগর্ভ ওয়াজ করলেন। এরপর বললেন, আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তার অর্থ আমি বড় কিছু হয়েছি তা নয়। বরং আমি আপনাদের খাদেম হিসেবে কাজ করবো। আমার মুরুব্বী চাচাজানরা আছেন। আমি দায়িত্ব নিয়েছি তাদের পদতলে থেকে কাজ করার জন্য। বর্তমান পীর সাহেব হুজুরের বক্তব্য শেষ হলে জুমুআর খোতবা ও নামাজ অনুষ্ঠিত হল। তিনিই খোতবা দিলেন ও ইমামতি করলেন।

এরপর পিতার পক্ষ থেকে তিনি সবার কাছে ক্ষমা চাইলেন। পিতার কাছে কারো কোন দেনা-পাওনা থেকে থাকলে তার জিম্মাদারী গ্রহণ করলেন এবং এ ব্যাপারে তাঁর সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করলেন। এরপর পিতার জানাজার নামাজের ইমামতি করলেন।

১৯৭৮ সনের ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারি) মাসে পাবনার পাকশীতে বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিল ও ইসালে সওয়াব চলাকালে বর্তমান পীর সাহেব হুজুর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আম্মা মোসাম্মৎ সাইয়েদা খাতুন ওরফে নাহার বেগম অতিথি সেবা, ধৈর্য্য, ইবাদত বন্দেগী, তাকওয়া-পরহেজগারি, পর্দা-পুশিদার দিক দিয়ে নারী সমাজের শ্রদ্ধার পাত্রী। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার চন্ডিতলা থানার অন্তর্গত বাঁদপুর গ্রামের আলহাজ্ব খোন্দকার মোহাম্মদ আব্দুল কাইউম সাহেব ও মোসাম্মৎ জেবন্নেসা ওরফে বশিরা খাতুন-এর দ্বিতীয়া কন্যা। মরহুম পীর সাহেব হুজুর (রহ.)এর সাথে ১৯৬৫ সনে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়। তিনি পর পর চারটি কন্যা সন্তানের জননী হন। কিন্তু কোন পুত্র সন্তান হচ্ছিল না। হযরত আব্দুল হাই সিদ্দিকী (রহ.) ১৯৭৭ সনে পাকশীতে ওয়াজ মাহফিল ও ইসালে সওয়াবে সমবেত হাজার হাজার মুসল্লিকে নিয়ে দুআ করতে গিয়ে বলেন আপনাদের বড় ভাই সাহেবের কোন ছেলে সন্তান নেই। তাঁর জন্য দুআ করেন আল্লাহ্তাআলা যেন তাকে একটি ছেলে সন্তান দান করেন। এর পরের বছরই ১৯৭৮ সনে মহান রাব্বুল আলামীন মরহুম পীর সাহেব হুজুর (রহ.) কে একটি পুত্র সন্তান দান করলেন। তিনিই হলেন বর্তমান পীর হযরত আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী। ১৯৭৮ সনে পাকশী মাহফিল চলাকালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। মাহফিলের দ্বিতীয় দিনে তাঁর জন্যে বিশেষ দু’আ অনুষ্ঠিত হয়।

মুহিউস সুন্নাহ শেরে ফুরফুরা হযরত মাওলানা আবুল আনসার মোঃ আব্দুল কাহ্হার সিদ্দিকী (রহ.) তাঁর বড় সাহেবজাদাকে ছোট বেলা থেকেই তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। নিজের সরাসরি তত্ত্বাবধানে যোগ্য শিক্ষকমন্ডলী ও ওলামায়ে কেরামের দরস-তালিমের মাধ্যমে তিনি বর্তমান পীর সাহেব হুজুরকে যোগ্য আলেম হিসেবে গড়ে তোলেন। সবচেয়ে বড় জিনিস হচ্ছে আল্লাহর ওলীদের সোহবত, তাওয়াজ্জুহ ও দুআ পেয়ে তিনি ইলমে লাদুন্নির ফায়েজ পেয়েছেন। মরহুম পীর সাহেব হুজুর (রহ.) একদিন একান্তে নিজের কলবের দিকে ইশারা করে বললেন আল্লাহ্পাক আমাকে যা দিয়েছেন তা সব মিশকাতকে দিয়ে যাবো ইনশা-আল্লাহ।

বর্তমান পীর সাহেব হুজুর (রহ.)-এর শিক্ষাজীবন শুরু হয় প্রথমে ভারতের ফুরফুরায় এবং এরপর ঢাকার দারুস্সালাম মাদ্রাসায়। বেশ কয়েকজন যোগ্য শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে কুরআন শরীফ নজরানাসহ তৎকালীন সিলেবাস অনুযায়ী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পাদন করেন। এরপর উচ্চ শিক্ষার্থে সৌদি আরব গমণ করেন। রিয়াদস্থ ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করে বাংলাদেশে এসে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন।
ছেলেবেলা থেকেই মরহুম পীর সাহেব (রহ.) তাঁর বড় সাহেবজাদাকে বিভিন্ন দীনি কর্মকাণ্ডে শরীক করতেন। ১৯৮১ সনে যখন তাঁর বয়স তিন কি সাড়ে তিন বছর হবে, তখন তাঁকে দিয়েই দারুস্সালাম মার্কাজে ইশাআতে ইসলাম কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করান। আট বছর বয়সেই দারুস্সালাম বার্ষিক মাহফিলের সময় তাঁকে দিয়ে জুমুআর নামাজের খোতবা পড়াতেন। ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার সময় অনেক সময় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন। সৌদি আরব থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করে দেশে ফেরার পর থেকে বর্তমান পীর সাহেব হুজুর পিতার সাথে বিভিন্ন মাহফিলে যোগদান করে ওয়াজ করতেন। বিভিন্নমুখি দাওয়াতী কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণ করতেন। মরহুম পীর সাহেব হুজুর (রহ.) কোন মাহফিলে নিজে যেতে না পারলে তাঁকে পাঠাতেন। মরহুম পীর সাহেব (রহ.)এর প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা, মসজিদ, খানকাহ, কুতুবখানা ইত্যাদি পরিচালনা সংক্রান্ত সকল মিটিং-এ অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্তগ্রহণ তাঁকেই করতে হতো। এসব বিষয়ে মরহুম পীর সাহেব (রহ.)কে কিছু জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলতেন আপনাদের বড় ভাই সাহেবের সাথে আলাপ করে নিন। তিনি যেভাবে বলবেন তাই আমার মত। সংগঠনের কাগজগুলো তাঁকে নিয়ে করবেন । এভাবে পিতার প্রতিটি কর্মকাণ্ডে তাঁর সহযোগী হিসেবে তার পাশে থেকে তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে তিনি গড়ে উঠেছেন।
পিতার উত্তরসূরী হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের পর তিনি পিতার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলো আরো এগিয়ে নেয়ার জন্য বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। তিনি মার্কজে ইশাআতে ইসলাম কমিটির এক মিটিং-এ বললেন- আব্বা হুজুর (রহ.)-এর যে বিশাল দাওয়াতী পরিকল্পনা ছিল তা পরিপূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করতে আমাদের কয়েক পুরুষ লেগে যেতে পারে! কিন্তু তাই বলে থেমে থাকলে হবে না। প্রানপণে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। একথা বলার সময় তাঁর চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছিল।
সমগ্র ভারতে ও বাংলাদেশে ছড়িয়ে থাকা দরবারে ফুরফুরার প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নের ব্যাপারে তিনি ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।বিশেষ করে বাংলাদেশের পাবনা জেলার পাকশী ও রাজধানী ঢাকার দারুস্সালামে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। দেশের আনাচে-কানাচে, শহরে-গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে ঘুরে তিনি ওয়াজ মাহফিল করছেন। মানুষকে দীনের দাওয়াত দিচ্ছেন। নিজের আরাম আয়েশ ত্যাগ করে সারা বছর এভাবে হেদায়েতের কাজে সফর করে বেড়াচ্ছেন। সমাজে প্রচলিত শিরকী বিদআতী আকীদা বিশ্বাস ও কাজগুলোর অসারতা ও জঘন্যতা প্রমান করে মুসলমানদের এগুলো পরিত্যাগ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।এছাড়া তাঁর সরাসরি তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপুর্ণ বই।তার মধ্যে ওজিফা ও নামায শিক্ষা , ইসলামী আকিদা শিক্ষা , যাকাত শিক্ষা ,সিয়াম শিক্ষা ,হজ্জ শিক্ষা ,কোরআন শিক্ষা,পর্দা শিক্ষা, ছোটদের ইসলাম শিক্ষা , বান্দার হক সৃষ্টির সেবা ও সুন্দর আচরন , গুনাহ মাফ ও জান্নাত লাভের আমল সহ আরও কিছু বই।

ইন্টারনেট ও আধুনিক অনলাইন মিডিয়ার মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াতকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেবার লক্ষে তিনি বিশেষ কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এক্ষেত্রে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ওয়েব সাইটের মাধ্যমে দাওয়াতী কার্যক্রম শুরু করেছেন। ওয়েব সাইটের ঠিকানা www.furfura.com ওয়েব সাইটটিতে Al Quran, Al Hadis, Islamic Books, Islamic Lectures, Dawa Activies ,Our Organizations, Print Media, Islamic Miracles,Islamic Songs,Photo Gallery ইত্যাদি বিষয়সহ আরও আছে বেশ কিছু মূল্যবান ইসলামিক প্রবন্ধ-নিবন্ধ। তাছাড়া আলহামদুলিল্লাহ নিয়মিত মাসিক নেদায়ে ইসলামের অনলাইন সংস্করণও প্রকাশিত হচ্ছে। নিয়মিত এই ওয়েব সাইটকে আপডেট করা হচ্ছে।

বর্তমান পীর সাহেব হুজুর তাঁর আব্বা-আম্মার প্রাণ খোলা দুআ পেয়েছেন। তাঁর আব্বা মরহুম পীর সাহেব হযরত মাওলানা আবুল আনসার মোঃ আব্দুল কাহ্হার সিদ্দিকী (রহ.) প্রায় মাহফিলেই ছেলের জন্য দুআ করতেন, মানুষের কাছে দুআ চাইতেন। তিনি কাঁদতেন আর বলতেন আল্লাহতাআলা তাঁর হায়াত কিসমত বড় করুন। আমি তাঁকে আল্লাহ নিকট সোপর্দ করলাম। আমি বাপ হয়েও বলছি, ও এমন একটা ছেলে জীবনে কোনদিন মিথ্যে বলেনি। ছেলে সৌদী আরবে থাকাকালীন তিনি মাঝে মাঝেই কাঁদতেন আর ছেলের জন্য দুআ করতেন। তিনি যখন ছেলের ওয়াজ শুনতেন তখন আবেগ আতিশয্যে তাঁর চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়তো। হজ্বে গিয়ে তিনি ছেলেকে নিয়ে বায়তুল্লাহ শরীফে বিশেষভাবে দুআ করেছেন।

মরহুম পীর সাহেব হুজুর (রহ.) বলতেন মিশকাত ওর দাদার মত হয়েছে। যারা তাঁর দাদা শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী (রহ.)কে দেখেছেন তাঁরা সকলেই একথা স্বীকার করবেন যে, দেখতে শুনতে, চাল-চলনে, কথা-বার্তায়, স্বভাব-চরিত্রে সবদিক থেকেই বর্তমান হুজুর তাঁর দাদার মত। পিতা তাঁর নামও রেখেছেন দাদার নামে আব্দুল হাই আর কুনিয়াত রেখেছেন পরদাদার নামে আবুবকর। শুধু নামেই নয় কাজেও তিনি দাদা ও পরদাদার মতই হবেন ইনশা-আল্লাহ্।

বর্তমান পীর সাহেব হুজুরের হুসনে খুলুক বা সুন্দর আচরণ সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। সমাজের সকলের সাথে উত্তম ও শোভনীয় আচরণ করা আল্লাহর প্রিয়তম ইবাদতসমূহের অন্যতম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : কিয়ামতের দিন কর্মবিচারের পাল্লায় বান্দার সবচেয়ে ভারী ও মূল্যবান কর্ম হবে সুন্দর অমায়িক আচরণ এবং সুন্দর আচরণের অধিকারী মানুষ শুধু তার সুন্দর ব্যবহারের বিনিময়েই নফল সালাত ও নফল সিয়াম পালন করার সওয়াব অর্জন করবে। হাদীসের আলোকে আমরা দেখতে পাই যে, হুসনে খুলুক বা সুন্দর আচরণের তিনটি দিক রয়েছে। প্রথমত: কথা ও আচরণের ক্ষেত্রে বিনম্রতা, প্রফুল্ল চিত্ত, হাস্যোজ্জ্বল মুখ, সত্য পরায়ণতা, কম কথা বলা ও বেশি শ্রবণ করা। দ্বিতীয়ত, কোনো কারণে ক্রোধান্বিত হলে গালিগালাজ, অভিশাপ ও সীমা লঙ্ঘন বর্জন করা। তৃতীয়ত, ক্ষমা করা, বিশেষত প্রতিশোধ নেওয়া বা প্রতিউত্তর দেওয়ার ক্ষমতা থাকলে ক্ষমা করে দেওয়া। এইরূপ আচরণের অধিকারী কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সবচেয়ে নৈকট্যের মর্যাদায় সমাসীন হবেন। আর এর বিপরীত আচরণের অধিকারী সবচেয়ে দূরবর্তী অবস্থানে থাকবেন।

হুসনে খুলুক বা সুন্দর আচরণের সবগুলো দিক বাস্তবরূপ লাভ করেছে বর্তমান পীর সাহেবের চরিত্রের মধ্যে। বাল্যকাল থেকেই তিনি অত্যন্ত নম্র-বিনয়ী। যদি কেউ একবার তাঁর সাথে আলাপ করে তবে সে মুগ্ধ না হয়ে পারে না। সমাজের যে-কোন শ্রেণীর মানুষ হোক না কেন সকলের সাথেই তিনি হাসিমুখে কথা বলেন। তাঁর সুন্দর মিষ্টি ব্যবহারে শত্রুমিত্র সকলেই সন্তুষ্ট হতে বাধ্য হন। তিনি জীবনের সকল ক্ষেত্রে পুঙ্খানপুঙ্খরূপে সুন্নতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুকরণ-অনুসরণ করে চলেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে দীনের অনুশাসন মেনে চলতে চেষ্টা করেন।

তিনি শরীয়তের হুকুম-আহকামের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। কেউ শরীয়তের খেলাফ কাজকর্ম প্রকাশ্যে করলে তিনি তার প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। নিজের নিকট আত্মীয়দের মধ্যেও যদি কাউকে দীনের খেলাফ কাজ করতে দেখেন তাকে বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী সকলের হক তিনি যথাযথভাবে আদায় করেছেন এবং এখনও করছেন। সবর ও শোকরের তিনি যেন এক মূর্ত প্রতীক। তাঁর দয়া ও ক্ষমাগুণ অতুলনীয়। কেউ মস্তবড় অপরাধ করেও যদি তাঁর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হয়, তিনি সাথে সাথে তাকে ক্ষমা করে দেন। কেউ তাঁর সাথে শত্রুতা করলেও তিনি তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করেন। কর্মচারি, খাদেম ও বাড়ির লোকদের সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি পুরোপুরি সুন্নতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ করে চলেন। তিনি কখনও তাদেরকে এমন কোন কাজের নির্দেশ করেন না, যা করা তাদের জন্য কষ্টকর। কখনো নিজেই তাদের কাজে সহযোগিতা করেন। তাদের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজ-খবর নেন। তিনি তাঁর ওস্তাদদের প্রতিও যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে চলেন।

মেয়েদের পর্দার ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত কঠোর। ফুরফুরা দরবারে বেপর্দা মেয়েদের আসা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। দারুস্সালাম ও পাকশী মাহফিলেও পর্দার খেলাফ হবার ভয়ে মহিলাদের আসতে তিনি নিষেধ করে দিয়েছেন । যেসব মহিলা মুরীদ হতে চান তিনি তাদেরকে স্বামী, ভাই, বাপ, ছেলে বা অন্য কোন মাহরাম পুরুষের মাধ্যমে মুরীদ হতে উপদেশ দেন।
বর্তমান পীর সাহেব হুজুর শিশুকাল হতে আজ পর্যন্ত বছরের অধিকাংশ সময় বাংলাদেশেই অবস্থান করছেন। তাঁর শৈশব, কৈশোর আর যৌবনের সোনালী দিনগুলো এখানেই কেটেছে। এই সুদীর্ঘ সময়ে মাদ্রাসার হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষক, কর্মচারী, দরবারের মুরিদ-মুহিব্বিন, খাদেম, ভাড়াটিয়া, প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজন তাঁর সংস্পর্শে এসেছেন। কিন্তু তিনি এঁদের কারো সাথে কোনোদিন খারাপ ব্যবহার করেছেন, কটু কথা বলেছেন বা কারো কোনো হক তাঁর দ্বারা নষ্ট হয়েছে বলে জানা যায়নি আমরা দেখিনি, শুনিওনি।

বর্তমান পীর সাহেব হুজুর দাম্পত্য জীবন শুরু করেন ২০০১ সনে। সৌদি আরবের রিয়াদ প্রবাসী বিশিষ্ট আলেম মরহুম মাওলানা রাকীবুদ্দিন আহমাদ (রহ.)এর দ্বিতীয়া কন্যা হাফেজা শাইমা হোসাইনের সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।

আলহামদুলিল্লাহ, ফুরফুরা দরবার, পাকশী খানকাহ শরীফে চলছে অর্ধ-বার্ষিকী তালিমি মাহফিলের প্রস্তুতিমূলক মিটিং,,,।
06/06/2026

আলহামদুলিল্লাহ, ফুরফুরা দরবার, পাকশী খানকাহ শরীফে চলছে অর্ধ-বার্ষিকী তালিমি মাহফিলের প্রস্তুতিমূলক মিটিং,,,।

ইনশাল্লাহ সবাই উপস্থিত থাকবে
05/06/2026

ইনশাল্লাহ সবাই উপস্থিত থাকবে

আমাদের প্রিয় রাহাবার। আল্লাহ তাআলা হুজুরের কবরকে নুরে নূরান্বিত করুন আমীন সুম্মা আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন
02/06/2026

আমাদের প্রিয় রাহাবার। আল্লাহ তাআলা হুজুরের কবরকে নুরে নূরান্বিত করুন আমীন সুম্মা আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন

আবনায়ে ফুরফুরা দারুসসালাম এর আয়োজনে "স্মরণসভা ও দোয়ার মাহফিল"
20/05/2026

আবনায়ে ফুরফুরা দারুসসালাম এর আয়োজনে "স্মরণসভা ও দোয়ার মাহফিল"

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা জিলহজের নতুন চাঁদ দেখবে—অথবা ১০ দিন শুরু হবে—এবং তোমাদের মধ্যে কেউ কোরবানি দেওয়ার ন...
18/05/2026

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা জিলহজের নতুন চাঁদ দেখবে—অথবা ১০ দিন শুরু হবে—এবং তোমাদের মধ্যে কেউ কোরবানি দেওয়ার নিয়ত করে, তবে সে যেন তার চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৭৭)
আজ সন্ধ্যায় জিলহজ্জ মাসের চাঁদ উদিত হতে পারে ইনশাআল্লাহ। বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ দশ দিন চলে এসেছে, আপনি প্রস্তুত তো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিনের আমলের চেয়ে, অন্য কোনো দিনের আমল উত্তম নয়।(বুখারী, হা ৯৬৯) প্রত্যেক দিনের রোযা এক বছরের রোযার ন্যায়, আর প্রত্যেক রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের ন্যায় । (তিরমিযী,১ম খন্ড, ১৫৮ পৃ)

সবাই জিলহজের ১ হতে ৯ তারিখ রোজা রাখতে চেষ্টা করি। একান্তই না পারলে আরাফার দিন অর্থাৎ হজ্জের দিন অবশ্যই রাখি। আরাফার দিনে রোযা রাখলে আল্লাহতাআলা রোযাদারের বিগত এক বৎসরের ও সামনের এক বছরের গোনাহ মাফ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ।
এই দশ দিন ও রাতগুলোতে বেশি বেশি নফল নামায, কুরআন তিলাওয়াত, তাসবীহ-তাহলীল, তাওবা-ইস্তিগফার ও রোনাজারী ইত্যাদি ইবাদতের মাধ্যমে কাটাই।
এ দিনগুলোতে উঠতে বসতে চলতে ফিরতে ঘরে বাইরে বাজারে সর্বদা সর্বত্র বেশি বেশি তাকবির বলি- "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।" জিলহজের ৯ হতে ১৩ তারিখে প্রত্যেক ফরয নামাযের পর এই তাকবীর বলা ওয়াজিব।
যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব তারা জিলহজের চাঁদ ওঠে গেলে নখ চুল পশম ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকুন। কুরবানী করার পর এগুলো কাটবেন ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ পাক সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

প্রিয় শায়েখ শায়খুল হাদিস আবু বকর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী আল- কোরাইশী সাহেব গদ্দীনশীন পীর সাহেব হুজুর ফুরফুরা দরবার শর...
17/05/2026

প্রিয় শায়েখ
শায়খুল হাদিস আবু বকর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী আল- কোরাইশী সাহেব
গদ্দীনশীন পীর সাহেব হুজুর ফুরফুরা দরবার শরীফ।

লোকেশনঃ নেছারাবাদ দরবার শরিফ
বাংলাদেশ হিজবুল্লাহ জমিয়াতুল মুছলিহীন নেছারাবাদ ঝালকাঠি এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়
ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা

আজ নাটোরে ফুরফুরার গদ্দিনশীন পীর শায়খ আবু বকর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী আল-কুরাইশী (حَفِظَهُ اللّٰه)।
17/05/2026

আজ নাটোরে ফুরফুরার গদ্দিনশীন পীর শায়খ আবু বকর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী আল-কুরাইশী (حَفِظَهُ اللّٰه)।

ফুরফুরা দরবারের পীর মুজাদ্দিদে জামান (রহ.) এর পূর্ণ কামালিয়াতের অধিকারী গদ্দীনশীন পীর (বড় হুজুর রহ.) এর ‘কর্ম ও ভাবনাদর্...
15/05/2026

ফুরফুরা দরবারের পীর মুজাদ্দিদে জামান (রহ.) এর পূর্ণ কামালিয়াতের অধিকারী গদ্দীনশীন পীর (বড় হুজুর রহ.) এর ‘কর্ম ও ভাবনাদর্শন’ বিষয়ক এক দিবসীয় সেমিনার।
এবং তদীয় ছোট সাহেবজাদা পীর আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী (রহ.) এর ইয়াদগারে ওয়াজ মাহফিল ও ঈসালে সাওয়াব ২০২৬।
মুনাজাত পরিচালনায়: ফুরফুরার নায়েবে আমীর পীরজাদা শায়খ আ.ন.ম আব্দুল হাই সাওবান সিদ্দিকী আল-কুরাইশী

প্রফেসর ড. খোন্দকার আবু নসর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) প্রতিষ্ঠিত আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত ...
12/05/2026

প্রফেসর ড. খোন্দকার আবু নসর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) প্রতিষ্ঠিত আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত জামিয়াতুস সুন্নাহর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ এবং দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে "ইসলাহী দারস" প্রদান করেন আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট এর সম্মানিত মুরুব্বী ও ট্রাস্টি, ফুরফুরার গদ্দীনশীন পীর শাইখুল হাদিস আবু বকর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী আল-কুরাইশী (হাফিজাহুল্লাহ)।
উক্ত "ইসলাহী দারসে" সভাপতিত্ব করেন আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের সম্মানিত চেয়ারম্যান,
শায়েখ উসামা খোন্দকার (হাফিজাহুল্লাহ) এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য দায়িত্বশীল বৃন্দ।

Address

রুপপুর ঈশরদী
Pabna

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আলোর পথে অগ্রযাত্রা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to আলোর পথে অগ্রযাত্রা:

Share

Category