31/01/2024
বিশ্ববাসীর কাছে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
স্বামী বিবেকানন্দ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঈশ্বর প্রেরিত অবতার (চৎড়ঢ়যবঃ) হিসেবেই চিহ্নিত করে উচ্চ মর্যাদার আসন দেন এবং বলেন, "কৃষ্ণের প্রাচীন বাণী বুদ্ধ, খ্রিষ্ট ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এই তিন মহাপুরুষের বাণীর সমন্বয়। খ্রিষ্টানরা যীশুর নামে রাজনীতি এবং পারসিকরা দ্বৈতভাবে প্রচার করছে দেখে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাদের ঈশ্বর এক। যা কিছু আছে, সব কিছুরই প্রভু তিনি। ঈশ্বরের সাথে অন্য কারও তুলনা হয় না। বাস্তবে এটাই হচ্ছে সকল ধর্মের মূলকথা।” বিশ্বখ্যাত ঐতিহাসিক টমাস কার্লাইল বলেন, "মুহাম্মদকে মনে হয়েছিল প্রমাণ হয়ে জ্বলে উঠেছে দিল্লী থেকে গ্রানাডা পর্যন্ত"। বিখ্যাত পণ্ডিত মাইকেল এইচ হার্ট তার সাড়া জাগানো 'দি হান্ড্রেড' নামক গ্রন্থে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে প্রথম স্থানে রাখতে বাধ্য হয়েছেন। 'এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকায়' লেখা আছে, পৃথিবীর ধর্মনেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাফল্য লাভ করেছেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।”
জন ডেভেনপোর্ট বলেন, "কোন ধর্মনেতা বা বিজয়ীর জীবনই বিস্তৃতি ও ঐতিহাসিকতার দিক দিয়ে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের সাথে তুলনা হতে পারে না।” বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর নাযিলকৃত ধর্মগ্রন্থ কুরআন চৌদ্দশ-বছর পরও অবিকৃত রয়েছে এবং থাকবে, এ ঘোষণা আল্লাহপাক কুরআনেই দিয়েছেন। "আপনার প্রতিপালকের বাক্য পূর্ণ সত্য ও সুষম। তার বাক্যের কোন পরিবর্তনকারী নেই। তিনি শ্রবণকারী ও মহাজ্ঞানী।" (সূরা আনআম : ১১৫)
বর্তমানে কম্পিউটারলব্ধ গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে (ড. রাশাদ খলীফা)। "আল-কুরআন ১৯ সংখ্যার বন্ধনে আবদ্ধ। কুরআনের ১টি হরফও এদিক সেদিক হলে এই হিসাব মিলবে না।" এছাড়া অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ কেউ মুখস্থ রাখে না বা রাখতে পারে না। একমাত্র কুরআন শরীফই আল্লাহর অশেষ রহমতে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষী লক্ষ লক্ষ মুসলমান আরবীতেই অবিকল মুখস্থ রাখছে। এমনকি বাচ্চা শিশু- কিশোর-কিশোরীও হুবহু কুরআন মুখস্থ রাখতে পারছে এবং ভবিষ্যতে এর ব্যতিক্রম হবে না।
ইংরেজ লেখক ড. স্ত্রীঙ্গার তার "লাইফ অফ মুহাম্মদ" গ্রন্থে আরব জাতি ও বিশ্বনবী মুহাম্মদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাস্তবে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহান জীবনাদর্শ বা সীরাতুন নবী এমন এক মহাসমুদ্র, যার কূল-কিনারা নির্ধারণ করা কোন মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, "আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মের পর থেকে এ নশ্বর জগত ত্যাগের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সর্বাধিক কলুষমুক্ত ও সুপবিত্র ছিলেন এবং বিশ্বের সর্বস্তরের সকল মানুষের জন্যে তিনি ছিলেন অনুপম অনুকরণীয় আদর্শ।" বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি প্রেমের নমুনা পাবেন এ হাদীস থেকেঃ "একদিন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কিয়ামত কখন হবে? বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমার ধ্বংস! তুমি কিয়ামতের জন্য কী প্রস্তুত করেছ? সে বলল, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি এবং এছাড়া আমি কোন প্রস্তুতি গ্রহণ করিনি। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি তাঁর সাথে যাকে ভালবাস।" এ হাদীস বর্ণনা করে আনাস (রা.) বলেন যে, “ইসলামে দাখিল হওয়ার পর মুসলমানদেরকে অন্য কোন জিনিসে বা বিষয়ে এ সংবাদের চেয়ে বেশি খুশি হতে দেখিনি!” (বুখারী ও