03/04/2024
অনুমান করে ইবাদত হয় না!
নামায যেমন সময় হিসাব করে দেখেশুনে যত রাকাত ফরজ ততটুকু আদায করতে হয়, তেমনি যাকাতযোগ্য মালের পূর্ণ হিসাব করে, যতটুকু ওয়াজিব তা পূর্ণ হিসাব করে বের করে, যথার্থ হকদারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
যাকাতের মতো ইসলামের অন্যতম মূল স্তম্ভ আদায়ে অলসতা ও গাফলতী কিছুতেই কাম্য নয়।
অনির্ভরযোগ্য বা যাকাতের বিধিবিধান সম্পর্কে অজ্ঞ সংগঠন বা সংস্থাকে যাকাত দিয়ে যাকাতের মতো ইবাদতকে নষ্ট করবেন না।
তাই যাকাত ও অনুদান প্রদান করুন নিজের গরীব আত্মীয়দের। নিজ এলাকার চেনাজানা গরীব মানুষদের। সেই সাথে গরীব ও মিসকিন পড়াশনো করে এমন দ্বীনী প্রতিষ্ঠানে।
সেই হিসেবে দেশের কওমী মাদরাসাগুলোর মিসকিন ফান্ডে নির্ধিদ্ধায় আপনারা যাকাত ও ওয়াজিব সদকা প্রদান করতে পারেন।
এর দ্বারা একদিকে যেমন আপনার যাকাত যথার্থ হকদারের কাছে পৌঁছবে, তেমনি দ্বীনী শিক্ষা প্রসারে ভূমিকা রাখার সওয়াবও অর্জিত হবে ইনশাআল্লাহ।
যাকাত অনাদায়কারী ব্যক্তির ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কিত একটি হাদীস শুনুন!
আবূ হুরায়রাহ্ রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন, কিন্তু সে এর যাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে টেকো (বিষের তীব্রতার কারণে) মাথা ও দুই চোখে তিল বিশিষ্ট বিষধর সাপের আকৃতি দান করে তার গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হবে। সাপটি তার মুখের দু’পার্শ্ব কামড়ে ধরে বলবে, আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার জমাকৃত মাল। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করেন :
(وَلا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْراً لَهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَهُمْ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلِلَّهِ مِيرَاثُ السَّمٰوَاتِ وَالأرْضِ وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ)
‘‘আল্লাহ যাদেরকে সম্পদশালী করেছেন অথচ তারা সে সম্পদ নিয়ে কার্পণ্য করছে, তাদের ধারণা করা উচিত নয় যে, সেই সম্পদ তাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে, বরং তা তাদের জন্য অকল্যাণকর হবে। অচিরেই ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে, যা নিয়ে কার্পণ্য করছে তা দিয়ে তাদের গলদেশ শৃক্মখলাবদ্ধ করা হবে’’- (সূরা আলে ‘ইমরানঃ ১৮০)। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১৪০৩]