ময়নামতি সার্ভে ট্রেনিং সেন্টার

ময়নামতি সার্ভে ট্রেনিং সেন্টার এই পেইজটি শুধুমাত্র তাদের জন্য, যারা আ

======================বায়না=============================================দলিল==================“বায়না দলিল কি, কেন, কিভাব...
07/03/2022

======================বায়না=============================================দলিল==================

“বায়না দলিল কি, কেন, কিভাবে” নামক পর্বে আমরা ইতিপূর্বে জানতে পেরেছি যে, বায়না দলিল রেজিস্ট্রেশন না হলে সেই দলিলের বিপরীতে আইনানুগ সুযোগ সুবিধা পাওয়া সহজলভ্য নয়। কিন্তু আমাদের সমাজে এই বায়না দলিল রেজিস্ট্রেশন না করার প্রচলন একেবারে ঘরে ঘরে। একটি বাস্তব উদাহরণ টানছি, এই অণুচ্ছেদটি লেখার ঠিক আগের দিন আমি নিজে একটি বায়না দলিলের সাক্ষী হয়েছিলাম। আমার এলাকার দুইজন চাচাতো ভাই নিজেদের মধ্যে সম্পত্তি ক্রয় বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বায়না করেছে আর দুইজনের পক্ষেই আমি উক্ত টাকা লেনদেন করেছি এবং সাক্ষী ছিলাম। কিন্তু, দলিলটি প্রস্তুত করেছেন আমাদেরই একজন চাচা যিনি কিনা একজন প্রবীণ দলিল লেখক। দলিলটি হাতে লিখা হয়েছে এবং যা যা অনুসরণ করা দরকার একটি বায়না দলিল প্রস্তুত করতে তার পুরোটাই তিনি করেছেন। কিন্তু, উভয় পক্ষের আপত্তিতে দলিলটি আর রেজিস্ট্রেশন পর্যন্ত গড়াবে না বলে তারা জানিয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, প্রবাসে থাকাবস্থায় প্রবাসীর অনুকূলে বায়না দলিল করতে আপত্তি থাকলেও আমার যে আত্মীয় বায়না দলিল মূলে ক্রেতা, তিনি কিন্তু প্রবাসেই রয়েছেন। গ্রামে গঞ্জে এই যে অনিয়ম সেটা যতোটা না আবেগে তারচেয়ে অনেক বেশী আইন না জানার কারণে। আজকে যদি বায়না দলিল মূলে যে বিক্রেতা বায়নার টাকা গ্রহণ করেছেন, তিনি যদি উক্ত টাকা মেরে দেন, অর্থাৎ মূল দলিল (সাব কবলা) রেজিস্ট্রেশন করে না দেন, তাহলে কেবলমাত্র সম্পাদিত বায়না দলিল নিয়ে বায়না দলিলের ক্রেতা কতটা আইনের দুয়ারে দুয়ারে দৌড়াতে হবে সেটা আপনি এখন এই অণুচ্ছেদ পড়তে পড়তে উপলব্ধি করতে পারবেন না।

আবার ক্রেতা যদি শেষ পর্যন্ত সম্পত্তি কিনতে রাজি না হয়, তখন বিক্রেতাও ক্রেতাকে আইনত বাধ্য করতে পারবে না, যদি বিক্রেতাকে কোন আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হয় না; সাময়িক ক্রেতা খুঁজে পাওয়ার বিড়ম্বনা ব্যতীত। কিন্তু, অরেজিস্ট্রিকৃত বায়না দলিলের জন্য মোটের উপর ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় ক্রেতাকে। শেষ পর্যন্ত এমনও হতে পারে যে, দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা লেগে গেছে, তখন গ্রাম্য সালিশ বা থানার মধ্যস্থতায় উক্ত ঝামেলা মীমাংসা করতে হবে যেখানে ক্রেতা তার পুরো টাকা ফেরত না পাওয়ার সম্ভাবনাই শতভাগ; সেটা কেন তা না হয় আর লিখে প্রকাশ করলাম না। তবে, আরও বিভিন্ন উপায়ে ঐ টাকা আদায় করার উপায় রয়েছে যা পরে কখনো সময় করে লিখবো। আবার, দলিল রেজিস্ট্রেশন করবে না জানেন, তখন উক্ত দলিল লেখার সময় কি ধরনের টেকনিক অবলম্বন করলে ক্রেতা তার অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য আইনি প্রতিকার পেতে পারেন, সেটি নিয়েও ভবিষ্যতে লিখবো। অথচ এত ছলচাতুরী না করে তারা যদি এই দলিল সম্পাদনের ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে দুইজনই আইনানুগভাবে বাধ্য থাকবে চুক্তি বলবত করতে। আবার দুইজন মিলে যদি বায়না দলিল বাতিল করতে চায়, সেটাও সম্ভব। আবার এক পক্ষ চাইলের বাতিল আবার অপর পক্ষ চাইলে প্রবলের মামলা করেও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। সেই সম্বন্ধে আমাদের ‘বায়না দলিল বাতিল ও প্রবলের মামলা’ অণুচ্ছেদটি পড়ে ধারণা পেতে পারেন।

বায়না দলিলের নমুনা নিয়ে আলোচনা করতে এসে কেন বায়না দলিল রেজিস্ট্রেশন নিয়ে বাড়তি কথা বলছি তা একটু বলে নেই আগে। আজকাল ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখে আমরা অনেক কাজ শিখে নিজে নিজে করে ফেলছি। রান্না করা তার মধ্যে বেশ জনপ্রিয় একটি উদাহরণ। রেসিপি দেখে দেখে আমরা বিভিন্ন আইটেম বানানো শিখে নিজেরাই বাসায় ট্রাই করে ফেলছি। কখনো ভালো হচ্ছে, কখনো না মুখেই নেওয়া যায় না। তবে, মোটের উপর বিভিন্ন রেসিপি শেখার জন্য অনলাইনের এইসব টিউটোরিয়াল খুবই কার্যকরী। কিন্তু তার মানে তো এই না যে আপনি ইউটিউবে দেখে দেখে মোটর সাইকেল কিভাবে চালাতে হয় তা শিখে সরাসরি মোটর সাইকেলে উঠে বসলেন হাইওয়ে রাইড দেওয়ার জন্য, সাথে নেই আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স। একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না, নিজের বিপদ তো ঘটাতে পারেনই, পরের জীবনও কেড়ে নিতে পারেন এই স্বল্প জ্ঞান ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বিহীন কোন কার্যকলাপের জন্য। নিম্নে আমরা বায়না দলিলের একটি নমুনা পিডিএফ আকারে সংযুক্ত করে দিয়েছি যাতে আপনি বায়না দলিল সম্বন্ধে একটি ধারণা পেতে পারেন। তার মানে কিন্তু এই না যে আপনি এই নমুনা দেখে দেখে আপনার কাঙ্ক্ষিত জমির বায়না দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রেশন করে ফেলবেন। যার কাজ যেটা তাকে সেটাই করতে দেওয়া উচিত; আপনি শুধু কাজটি সঠিক ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কিনা সেই বিষয়ে নজরদারী করতে পারেন। বহু দলিল লেখক বায়না দলিল করে কিন্তু রেজিস্ট্রেশনের কথা বলে না। আপনি এখন জানতে পারলেন বায়না দলিল সম্পাদনের ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে; এখন আপনি দলিল লেখককে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য বলবেন। তারপর বায়না দলিলে সময়সীমা উল্লেখ করতে বলবেন। দাতা এবং গ্রহীতার নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, জন্ম তারিখ, গ্রাম/রোড নং, ইউনিয়ন/ওয়ার্ড, থানা/উপজেলা, জেলা, জাতীয়তা, ধর্ম এই সব কিছু নিজ নিজ জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে সঠিক হয়েছে কিনা। জাতীয় পরিচয় পত্র বলতে এখানে জন্ম নিবন্ধন কার্ড বা ভোটার আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট যেকোনো একটি হলেই চলবে তবে পরের দুইটির যেকোনো একটি থাকলে সেটিই ব্যবহার উত্তম। তারপর তফসীলে গিয়ে জমির সাবেক এবং বর্তমান খতিয়ান নাম্বার, দাগ নাম্বার ঠিক আছে কিনা সেটা বারবার মিলিয়ে নিবেন। কেননা, সবচেয়ে বেশী ভুল এই জায়গায় হয়ে থাকে। শুধু বায়না দলিল না মূল দলিলেও এই তফসীল বারংবার দেখবেন। সবচেয়ে বেশী দলিল সংশোধনের মামলা হয়ে থাকে এই জায়গার ভুলের কারণে।

বহু লোক অভিযোগ করে যে, তাদের দলিলের সবকিছু ঠিক আছে শুধু খতিয়ান নাম্বার বা দাগ নাম্বার ভুল উঠেছে। তাই এই প্যারাটি বারংবার চেক করে দেখবেন। যেই জমিটি ক্রয় করছেন সেই জমির মোট মূল্য যদি এক সাথে আপনাকে বিক্রেতার একাউন্ট নাম্বারে পাঠাতে বলে, তখন ঐ ব্যক্তির একাউন্টে টাকা পাঠানোর সময় আপনি যতটা সতর্ক থাকবেন, একটি ডিজিট ভুলের কারণে টাকা অন্য কারো কাছে চলে যেতে পারে, তেমনি খতিয়ান বা দাগ নাম্বার ভুলের কারণে পুরো জমি নিয়েই আপনি ঝামেলায় পড়ে যাবেন। যাদের ইতিমধ্যে ভুল হয়ে গেছে, তাদের করণীয় নিয়েও আমাদের অণুচ্ছেদ থাকবে, চোখ রাখুন আমাদের পেইজে। তারপর জমির পরিমাণটি ঠিক আছে কিনা সেটি দেখবেন। কত শতাংশ বা কত কাঠা জমি ক্রয় করছেন তা ভালো করে দেখুন বা কত স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাট ক্রয় করছেন সেটিও যাচাই করুন। বিক্রেতার মালিকানা স্বত্বের ইতিহাসটা ঠিক আছে কিনা সেটিও পরখ করে দেখুন। এরপর চৌহদ্দি দেখবেন, আপনার উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিমে কে বা কি আছে সেটি ঠিক আছে কিনা তাও বাস্তবের সাথে মিলিয়ে নিন। টাকার পরিমাণ কি লিখেছে, কত বায়না হিসেবে পেয়েছে, কত বকেয়া রয়েছে সেগুলোও মিলিয়ে নিন। তারপর দুই পক্ষের সাক্ষী রাখুন। বায়না দলিল বিভিন্ন রকম হতে পারে, তারপরও একটি নমুনা আমরা আপনাদের সুবিধার্থে দিয়ে দিলাম। এটি দেখে দেখে আপনি মিলিয়ে নিতে পারেন, তবে সব বায়না দলিল ঠিক এমনি হতে হবে তা কিন্তু নয়।

অতএব, পড়ুন, দেখুন, জানুন; তারপর যাচাই করুন। দেখবেন ঠকবার সম্ভাবনা কমে গেছে, ইনশাআল্লাহ্‌।

download: https://drive.google.com/file/d/1aYDHG_ld3uv5XjwdStewJEKdwjlMHm-Y/view?usp=sharing

Credit: https://article.legalfist.com/

জমির খাজনা দিবেন কখন ও কীভাবে?জমি থাকলে জমির খাজনা দিতে হবে সেটাই নিয়ম। নিয়মিত খাজনা প্রদানের মধ্য দিয়ে জমির প্রতি মালিক...
04/03/2021

জমির খাজনা দিবেন কখন ও কীভাবে?

জমি থাকলে জমির খাজনা দিতে হবে সেটাই নিয়ম। নিয়মিত খাজনা প্রদানের মধ্য দিয়ে জমির প্রতি মালিকের অধিকার শক্ত হয় এবং মালিকানা প্রমাণে খাজনা প্রদানের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সব ধরনের জমিরই কি খাজনা দিতে হয়?

কোনো জমি ভোগদখলের সুবিধা গ্রহণের জন্য সরকারকে প্রতি শতাংশ জমির জন্য বছরপ্রতি যে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রদান করতে হয় তাকেই ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা বলে। ১৯৭৬ সালের ভূমি উন্নয়ন কর বিধিমালার ৭ বিধি অনুসারে, নাগরিকের বেশকিছু খাজনাসংক্রান্ত অধিকার রয়েছে। যেমন : খাজনা প্রদান করে দাখিলা গ্রহণের অধিকার, খাজনা প্রদান করে দাখিলার মাধ্যমে জমির মালিকানা প্রমাণের অধিকার, যদি কোনো ব্যক্তি খাজনাসংক্রান্ত ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো আদেশে অসন্তুষ্ট হন সে ক্ষেত্রে আপিলের অধিকার ইত্যাদি।

১৯৭৬ সালের ভূমি উন্নয়ন কর বিধিমালা অনুসারে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিনা খাজনায় জমির ভোগদখলের অধিকার রয়েছে। প্রথমত ২৫ বিঘার কম জমি থাকলে, দ্বিতীয়ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি পর্যায়ে নিজে শারীরিক পরিশ্রম করে হাঁস-মুরগির খামার কিংবা ডেইরি ফার্ম হিসেবে কোনো জমি ব্যবহার করলে, তৃতীয়ত পাঁচটির কম হস্তচালিত তাঁত যদি কোনো জমির ওপর অবস্থিত হয় এবং তাঁতগুলো যদি জমির মালিক নিজে শারীরিক পরিশ্রম করে চালান, চতুর্থত যদি কোনো জমি প্রধানত প্রার্থনার স্থান অথবা ধর্মীয় উপাসনালয় অথবা সর্বসাধারণের কবরস্থান কিংবা শ্মশানঘাট হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে।

ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা প্রদানের বেশকিছু সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই অত্যন্ত প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন এবং আইনি বিষয় সম্পর্কে প্রায় অজ্ঞ থাকার কারণে বিভিন্ন বিষয় অবহেলা করেন। এসবের মধ্যে খাজনা প্রদান একটি। কিন্তু তারা জানেন না যে খাজনা প্রদান করলে কী কী সুবিধা তারা ভোগ করতে পারবেন। ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের ফলে যে দাখিলা পাওয়া যায় ওই দাখিলা মালিকানা প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে গণ্য হয়। ভূমি উন্নয়ন কর নিয়মিত প্রদান করলে রেকর্ড হালনাগাদ থাকে। নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করলে দুষ্ট লোকেরা ভুয়া রেকর্ডের সুযোগ নিতে পারে না। অনেক সময় একজন আরেকজনের জমি গোপনে নামজারি বা রেকর্ড করিয়ে নেন। জমির মালিক নিজের জমির খোঁজখবর না রাখার কারণে ভুয়া নামজারি বা মিউটেশনের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন না। ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধ থাকলে জমি নিলাম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।


ভূমি উন্নয়ন কর বার্ষিক ভিত্তিতে দিতে হয়। প্রতি বছরের ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা যথাসময়ে নিয়মিত পরিশোধ করলে কোনো সুদ দিতে হয় না। যদিও ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) অন্য যে কোনো ধরনের করের তুলনায় কম, তবুও খাজনা বকেয়া পড়তে থাকলে সুদের হার জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে ভূমি উন্নয়ন করের ওপর ধার্যকৃত সুদের হার ৬.২৫ শতাংশ।
যদি ভূমি উন্নয়ন কর এক বছরের বকেয়া হয় সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাংলা সনের ৩০ চৈত্রের পরই ওই কর বকেয়া বলে গণ্য হবে এবং মূল পাওনাকৃত করের সঙ্গে ৬.২৫ হারে সুদ যোগ হবে এবং যত বছরের কর বাকি থাকবে তত গুণ সুদ বেশি হবে এবং মূল করের সঙ্গে যুক্ত হবে।

কৃষি জমির ক্ষেত্রে ২৫ বিঘা পর্যন্ত খাজনা মওকুফ করে দেয়া হয়েছে। ২৫ বিঘার অধিক থেকে ১০ একর পর্যন্ত জমির প্রতি শতাংশ জমির জন্য ৫০ পয়সা করে। ১০ একরের বেশি হলে প্রতি শতাংশ জমির জন্য ১ টাকা হারে খাজনা দিতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ এলাকার আবাসিক জমির খাজনা কিছুটা ভিন্নরকম। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা মহানগরীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার আবাসিক জমির জন্য খাজনা শতকপ্রতি ২২, জেলা সদরের (ঘনবসতি জেলা ছাড়া) পৌর এলাকার জমির জন্য খাজনার হার শতকপ্রতি ৭ এবং অন্যসব পৌর এলাকার আবাসিক জমির জন্য কর শতকপ্রতি ৬ টাকা।


পল্লী এলাকার আবাসিক জমির ক্ষেত্রে খাজনার হার ভিন্নরকম। ১৯৯০ সালের ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়েলের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পল্লী এলাকায় বসবাসকারী কৃষি পরিবারের চাষের জমি এবং বসতবাড়ি কৃষি জমি হিসেবে গণ্য করে কৃষি হারে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করতে হবে। তবে পল্লী এলাকার পাকা ভিটির বাড়ির জন্য শতকপ্রতি ৫ টাকা হারে খাজনা দিতে হবে।

শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত ভূমির জন্য খাজনার হার যেভাবে নির্ধারিত হবে তা হলো যে পরিমাণ জায়গা শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয় তার খাজনা বাণিজ্যিক হারে আদায় করতে হবে। যে পরিমাণ জমি আবাসিক কাজে ব্যবহৃত হবে তার খাজনা আবাসিক হারে আদায় করতে হবে। অব্যবহৃত বা পতিত জমির কর কৃষি হারে (১ টাকা প্রতি শতাংশ) আদায় করতে হবে।

কর কর্তৃপক্ষের কিছু কাজ আপনার অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। যেমন : খাজনা প্রদানের পর দাখিলা/রসিদ প্রদান না করা, খাজনা প্রদান করে দাখিলার মাধ্যমে জমির মালিকানা প্রমাণে বাধা দেয়া, ২৫ বিঘার কম জমি থাকা সত্ত্বেও খাজনা দাবি করা, খাজনা মওকুফের জন্য দরখাস্ত গ্রহণ না করা, রেন্ট সার্টিফিকেট মামলা হওয়ার আগে নোটিশ প্রদান করা ইত্যাদি। আপিলের মাধ্যমে এসব লঙ্ঘনের প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে। ১৯৭৬ সালের ভূমি উন্নয়ন কর বিধিমালার ৭ বিধি অনুযায়ী, খাজনা প্রদানসংক্রান্ত কোনো ব্যাপারে সমস্যা সৃষ্টি হলে থানা রাজস্ব কর্মকর্তা তথা সহকারী ভূমি কমিশনারের অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন করসংক্রান্ত কোনো প্রাথমিক দাবি সম্পর্কে কোনো ব্যক্তির বা ভূমি মালিকের কোনো আপত্তি থাকলে আপত্তি দাখিল করা যাবে। ১৯৭৬ সালের ভূমি উন্নয়ন কর বিধিমালার ৭ বিধি অনুসারে আপত্তি দাখিল করতে হবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অথবা জেলা প্রশাসক (ডিসি)-এর কাছে। ১৫ দিনের মধ্যে এ আপত্তি দাখিল করা যাবে। জেলা প্রশাসকের আদেশে কোনো ব্যক্তি সন্তুষ্ট না হলে সে আদেশের বিরুদ্ধেও আপিল করা যাবে। এ ধরনের আপিলের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে যেতে হবে। বিভাগীয় কমিশনারের আদেশে কোনো ব্যক্তি সন্তুষ্ট না হলে সে আদেশের বিরুদ্ধেও আপিল করা যাবে ভূমি আপিল বোর্ডের কাছে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে।

সি.এস. জরিপ/রেকর্ড (Cadastral Survey)“সিএস” হলো Cadastral Survey (CS) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। একে ভারত উপমহাদেশের প্রথম জরিপ ব...
27/12/2020

সি.এস. জরিপ/রেকর্ড (Cadastral Survey)

“সিএস” হলো Cadastral Survey (CS) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। একে ভারত উপমহাদেশের প্রথম জরিপ বলা হয় যা ১৮৮৮ (ভূমি মন্ত্রণালয় অুনসারে ১৮৮৭) সাল হতে ১৯৪০ সালের মধ্যে পরিচালিত হয়। এই জরিপ ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাতন্ত্র আইনের ১০ম পরিচ্ছেদে অনুসারে সিলেট ও পার্বত্য জেলা ব্যতীত সারা দেশে পরিচালিত হয়। উক্ত জরিপের মাধ্যমে জমির বিস্তারিত মৌজা নকশা (ম্যাপ) প্রস্তুত করা হয় এবং প্রত্যেক মালিকের জন্য দাগ নম্বর উল্লেখপুর্বক ভূমির বাস্তব অবস্থা, আয়তন, শ্রেণী, পরিমাণ, খাজনার পরিমাণ ইত্যাদি উল্লেখপূর্বক খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়। এ জরিপ পি-৭০ সীটে কিস্তোয়ারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

সিএস জরিপ ১৮৮৮ সালে কক্সবাজারের রামু থানা হতে আরম্ভ হয় এবং ১৯৪০ সালে দিনাজপুর জেলায় শেষ হয়। সে সময়ে সিলেট জেলা আসাম প্রদেশের অধীন থাকায় সিলেট জেলায় সিএস জরিপ হয়নি। তবে জরুরী বিবেচনায় ১৯৩৬ সালের সিলেট প্রজাস্বত্ব আইনের (Sylhet tenancy Act) আওতায় সিলেট জেলার ক্যাডাষ্ট্রাল সার্ভে ১৯৫০ সালে আরম্ভ করা হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর অধীনে ঐ জরিপ ১৯৬৩ সালে শেষ হয়।

সি.এস. জরিপে সময় প্রস্তুতকৃত খতিয়ানে জমিদারগণের নাম খতিয়ানের উপরিভাগে এবং দখলকার রায়তের নাম খতিয়ানের নিচে লেখা হত। সে সময় জমিদারগণ সরকার পক্ষে জমির মালিক ছিলেন এবং রায়তগণ প্রজা হিসেবে শুধুমাত্র ভোগ দখলকার ছিলেন।

প্রথম জরিপ এই জরিপ এবং প্রস্তুতকৃত নকশা ও খতিয়ান খুবই নিখুঁত ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে এখনো গ্রহণীয়। মামলার বা ভূমির জটিলতা নিরসনের ক্ষেত্রে এই জরিপকে বেস হিসেবে অনেক সময় গণ্য করা হয়।

সিএস/CS খতিয়ান/পর্চা চেনার উপায় কি?
১. খতিয়ানটির পৃষ্টা লম্বাকৃতির হবে এবং উপরে “বাংলাদেশ ফরম নং ৫৪৬৩” লেখা থাকবে।
২. খতিয়ানটি উভয় পৃষ্ঠায় লেখা থাকবে যার মধ্যে
৩. প্রথম পৃষ্ঠায় জমিদার এবং প্রজার নামে দুইটা ভাগ থাকবে
৪. অপর পৃষ্ঠায় “উত্তর সীমানা” নামে একটা কলাম থাকবে

CS জরিপ কোন এলাকায় কত সালে হয়েছিল?
১ চট্রগ্রাম ১৮৮৮-৯৮ সালে- সি জি অ্যানেল
২ বাকেরগঞ্জ ১৯০৪-০৬ সালে- জে সি জ্যাক
৩ ফরিদপুর ১৯০৪-১৪ সালে-জে সি জ্যাক
৪ ময়মনসিংহ ১৯০৮-১৯ সালে-এফ এ স্যাকেল
৫ ঢাকা ১৯১০-১৭ সালে-এফ ডি এসকোলি
৬ রাজশাহী ১৭১২-২২ সালে-ডব্লিউ এইচ নেলসন
৭ নোয়াখালী ১৯১৪-১৯ সালে-ডব্লিউ এইচ টমসন
৮ ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ১৯১৫-১৯ সালে-ডব্লিউ এইচ টমসন
৯ যশোর ১৯২০-২৪ সালে-এম এ মোমেন
১০ নদীয়া ১৯১৮-২৬ সালে-জে এম প্রিঙ্গল
১১ খুলনা ১৯২০-২৬ সালে-এল আর ফুকাস
১২ পাবনা-বগুড়া ১৯২০-২৯ সালে-ডনান্ড এফ সি ফেরসন
১৩ মালদহ ১৯২৮-৩৫ সালে-ডনান্ড এফ সি ফেরসন
১৪ রংপুর ১৯৩১-৩৮ সালে-এ সি হার্টলি
১৫ দিনাজপুর ১৯৩৪-৪০ সালে-এফ ও বেল
১৬ সিলেট ১৯৫০-৬৪ সালে-এন আহমেদ
১৭ খুলনা (শুধু সুন্দরবন) ১৯৪০-৫০ সালে-এস এ মজিদ এবং এম হক

====দলিল সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা====দলিল                বলতে যে কোন চুক্তির লিখিত ও আইনগ্রাহ্য রূপ বোঝায়। তবে বাংলা ...
04/10/2020

====দলিল সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা====

দলিল বলতে যে কোন চুক্তির লিখিত ও আইনগ্রাহ্য রূপ বোঝায়। তবে বাংলা ভাষায় সম্পত্তি, বিশেষ করে জমি-জমা ক্রয়-বিক্রয়, বণ্টন এবং হস্তান্তরের জন্য ‘দলিল’ শব্দটি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। দলিলের পাঁচটি মৌলিক তথ্য হলো: (ক) সম্পত্তির বর্ণনা, (খ) দাতার পরিচয়, (গ) গ্রহিতার পরিচয়, (ঘ) সাক্ষীদের পরিচয় এবং (ঙ) দলিল সম্পাদনের তারিখ। দলিল সম্পাদনের পর সরকারের মনোনীত কর্মকর্তা কর্তৃক নিবন্ধনের বিধান রয়েছে। এতে দলিলের আইনি বৈধতা দৃঢ়তর হয়। দলিল সম্পাদনের জন্য সরকারকে রাজস্ব দিতে হয়।

জমি-জমা ক্রয়-বিক্রয় এবং হস্তান্তরের জন্য দলিল শব্দটি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হলেও যে কোনও চুক্তির ক্ষেত্রে দলিল শব্দটি প্রয়োগ করা যায়। বিয়ের কাবিননামা, যুদ্ধের আত্মসমর্পণ চুক্তি, ক্রয়ের জন্য লিখিত কার্যাদেশ, আদালতের আদেশনামা ইত্যাদিও দলিল পর্যায়ভুক্ত।

দলিলের প্রকারভেদঃ

১ সাফকবালা দলিল
২ দানপত্র দলিল
৩ হেবা দলিল
৪ হেবা বিল এওয়াজ
৫ এওয়াজ দলিল
৬ বণ্টনমানা দলিল
৭ অছিয়তনামা দলিল
৮ উইল দলিল
৯ না-দাবী দলিল
১০ দখলনামা দলিল
১১ রায় দলিল
১২ ডিক্রি দলিল
১৩ আরজি দলিল
১৪ আদালত যোগে সাফকবলা দলিল
১৫ বায়নাপত্র দলিল
১৬ বেনামী দলিল

১. সাফকবালা দলিল

কোন ব্যক্তি তাহার সম্পত্তি অন্যের নিকট বিক্রয় করে যে দলিল সম্পাদন ও রেজিষ্টারী করে দেন তাকে সাফাকবালা বা বিক্রয় কবলা বা খরিদা কবালা বলা হয়। এই কবালা নির্ধারিত দলিল ষ্ট্যাম্পে লিখার পর দলিল দাতা অর্থাৎ বিক্রেতা সাবরেজিষ্টারী অফিসে উপস্থিত হয়ে দলিল সহি সম্পাদন করে গ্রহিতা অর্থাৎ খরিদ্দারের বরাবরে রেজিষ্টারী করে দিবেন। এই দলিল রেজিষ্টারী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলিলের তফছিলে লিখিত অর্থাৎ বিক্রিত ভূমির যাবতীয় স্বত্ব দলিল দাতা হতে বিলুপ্ত হয়ে দলিল গ্রহিতাতে অর্থাৎ খরিদ্দারের উপর অর্পিত হলো। দলিলদাতা ময় ওয়ারিশানক্রমে উক্ত জমি হতে নিঃস্বত্ববান হলেন।

২. দানপত্র দলিল
যে কোন সম্প্রদায়ের যে কোন ব্যক্তি তার সম্পত্তি দান করতে পারেন। এই দানপত্র দলিলে শর্তবিহীন অবস্থায় সকল প্রকার ক্ষমতা প্রদানের দান করতে হবে। স্বত্ব সম্পন্ধে দাতার কোন প্রকার দাবী থাকলে দানপত্র শুদ্ধ হবে না।

৩. হেবা দলিল

মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এই হেবা অর্থাৎ দানপত্র দলিল, এই দলিল কোনকিছুর বিনিময়ে নয়, কেবলমাত্র সন্তুষ্ট হয়ে এইরূপ দান করা হয়। কিন্তু এই হেবা সর্তবিহীন অবস্থায় দান বিক্রয়, কট রেহান ও রূপান্তর ইত্যাদি সকল ক্ষমতা প্রদানে দান বা হেবা করতে হবে। স্বত্ব সম্বন্ধে দাতার কোনরূপ দাবী থাকলে সেই দান বা হেবা শুদ্ধ হবে না এবং তা যে কোন সময় বাতিলযোগ্য। এরূপ দানপত্রে দাতার কোন স্বার্থ সংরক্ষিত থাকবে না।

৪. হেবা বিল এওয়াজ

এই হেবা বিল এওয়াজ মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি দানপত্র দলিল এই দানও সন্তুষ্ট হয়ে করা হয় বটে। কিন্তু ইহা কোন কিছুর বিনিময়ে হয়ে থাকে, যেমন- পবিত্র কোরআন, জায়নামাজ, তছবিহ, মোহরানার টাকা, এমন কি যে কোন জিনিসের বিনিময়েও হতে পারে, যেমন আংটি ইত্যাদি। এই হেবা বিল এওয়াজ দলিল সম্পূর্ণ শর্তবিহীন অবস্থায় গ্রহিতা যাবতীয় হস্তান্তর ও রূপান্তরের সকল প্রকার ক্ষমতার অধিকারী হবে এবং দাতার যাবতীয় স্বত্ব গ্রহিতাতে অর্পিত হবে। দাতার স্বার্থে কোন প্রকার স্বত্ব দাতার জন্য সংরক্ষিত থাকলে দলিল শুদ্ধ হবে না। এই হেবা বিল এওয়াজ অবশ্যই রেজিষ্টারী হতে হবে।

৫. এওয়াজ দলিল

যে কোন সম্প্রদায়ের বা একই সম্প্রদায়ের বা একই বংশের বা কোন ব্যক্তি যে কোন ব্যক্তির সহিত তাহাদের লপ্ত ও সুবিধা মত একের ভূমি অপরকে দিতে পারেন অর্থাৎ পরস্পর এওয়াজ পরিবর্তন সরতে পারেন। এই দলিল অবশ্যই রেজিষ্টারী হতে হবে। এওয়াজ পরিবর্তন দলিলের একটা ব্যাখ্যা দেওয়া হলো: ক এর জমি খ এর বাড়ীর নিকট এবং খ এর জমি ক এর বাড়ীর নিকট। উভয়ের জমিই উভয়ের বেলপ্ত। কাজেই ক তার জমি খ কে এবং তার জমি ক কে দিয়ে উভয়ে একটি দলিল সম্পাদন করে রেজিষ্টারী করে নিল। একেই এওয়াজ পরিবর্তন দলিল বলে। এই দলিলের কেহ প্রিয়েমশান করতে পারে না।

৬. বণ্টনমানা দলিল

শরিকগণ মধ্যে সম্পত্তি ক্রমে নিজ নিজ ছাহাম প্রাপ্ত হয়ে উক্ত ছাহামের বাবদ যে দলিল করতে হয় তাকে বণ্টননামা দলিল বলে। একই সম্পত্তিতে মালিক একই বংশের লোককে সাধারণত শরিক বলা হয়। শরিক দুই প্রকারের, যথা- উত্তরাধিকার সূত্রে শরিক ও কোন শরিক হতে খরিদ সূত্রে শরিক। ইংরেজিতে বলা হয় কো-শেয়ারার বাই ইনহেরিটেন্স এন্ড কো-শেয়ারার বাই পারচেজ। বণ্টননামা দলিল করবার সময় সকল শরিকগণ দলিলে পক্ষভুক্ত থেকে ও দস্তখত করে বণ্টননামা দলিল করতে হবে। কোন একজন শরিক বাদ থাকলে বণ্টননামা শুদ্ধ হবেনা। বণ্টননামা দলিল রেজিষ্টারী করতে হবে কিন্তু ঘরোয়াভাবে বণ্টন করে সকল পক্ষগণ যদি বণ্টননামা দলিলে দস্তখত করে থাকেন তা হলেও বণ্টননামা কার্যকরী হতে পারে। যদি শরিকগণ আপোষ মতে বণ্টন করতে রাজী না হন তাহলে যে কোন শরিক বণ্টনের জন্য আদালতে নালিশ করতে পারেন।

৭. অছিয়তনামা দলিল

কোন ব্যক্তি তার সম্পত্তি কাউকে বা তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে অছিয়তকারী ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের মদ্যে সকলকে না দিয়ে যদি একজনকে বা কোন তৃতীয় ব্যক্তিকে প্রদান করে থাকেন এবং অছিয়তকারীর মৃত্যুর পর যদি তাহার উত্তরাধিকারীগণ দাবী উত্থাপন করেন তাহলে যাকে সম্পত্তি অছিয়ত করা হলো সেই ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ পাবে এবং অবশিষ্ট দুই তৃতীয়াংশের মালিক উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সকলেই হবেন।

৮. উইল দলিল

হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক তাদের নিজস্ব সম্পত্তি তাদের আত্মীয়দের মধ্যে যাকে ইচ্ছা উইল করে দিতে পারেন। যিনি উইল করলেন তিনি জীবমানে একের অধিক উইল করতে পারেন। কিন্তু সর্বশেষ যে উইল করলেন কেবল ঐটাই কার্যকরী হবে।

৯. না-দাবী দলিল

কোন ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট কোন সম্পত্তিতে তার স্বত্ত্বাধিকার নাই মর্মে অথবা স্বত্ত্বাধিকার ত্যাগ করছেন মর্মে দলিল সম্পাদন ও রেজিষ্ট্রি করে দিতে পারেন। এরূপ দলিলকে নাদাবী দলিল বলা হয়।
৯.১ বয়নামা দলিল: প্রজাদের ভূমি রাজস্ব বাকী পড়লে উপরস্থ মালিকগণ আদালতে খাজনার নালিশ করে ডিক্রি করতেন। প্রজা উক্ত ডিক্রিকৃত টাকা জমিদারকে প্রদান না করলে উক্ত খাজনার ডিক্রিজারী দিয়ে উক্ত ভূমি নিলাম করাতেন। উক্ত নিলাম উপরস্থ মালিকসহ সর্ব সাধারণের খরিদ করবার অধিকার ছিল। যে ব্যক্তি অধিক টাকায় নিলামের ডাক উঠাতেন তিনি উক্ত নিলাম খরিদ্দার বলে গণ্য হতেন। খাজনার ডিক্রি ছাড়া আরও কয়েক প্রকারের নিলাম হয়ে তাকে যেমন সরকার কর্তৃক বাকী ভূমি রাজস্বের নিমিত্ত মানী মোকদ্দমার দাবীর ওদেওয়ানী মোকদ্দমার খরচের টাকার নিমিত্ত ও রেহানী ঋণের দরুন। যিনি নিলাম খরিদ করতেন তাকে একটি নিদর্শন পত্র বা সার্টিফিকেট দেওয়া হতো, তাকে বয়নামা বলা হয়।

১০. দখলনামা দলিল

বণ্টনের মোকদ্দমা, স্বত্ব সাব্যস্ত পূর্বক খাস দখল, উৎপাত ও প্রিয়েমশান ইতা্যাদি মোকদ্দমায় ডিক্রির পর আদালত হতে বণ্টনের মোকদ্দমায় কমিশনার ও অন্যান্য মোকদ্দমায় আদালতের পদাতিক বা নায়েব, নাজির যোগে ডিক্রির মর্মমতে দখলী পরওয়ানের ভিত্তিতে দখল গ্রহণ করিতে হয় এবং দখল দেওয়ার পর কমিশনার ও আদালতের পদাতিক বা নায়েব নাজির রিপোর্টসহ উক্ত দখলী পরওয়ানা আদালতে দাখিল করেন। তাকে দখলনামা দলিল বলা হয়।

১১. রায় দলিল

কোন সম্পত্তি টাকা পয়সা কিংবা অন্যান্য যে কোন কারণে আদালতে নালিশ হলে বাদীর আরজি, বিবাদীর জবাব দৃষ্টে সাক্ষী প্রমাণ গ্রহণ করে একতরফা বা দোতরফা শুনানীর পর বিচারক বিচার করে উক্ত বিচার লিখিতভাবে জানিয়ে দেন তাকে রায় বলা হয়।

১২. ডিক্রি দলিল

রায়ের মর্মমতে রায়ের আদেশাংশ সংযোজন করে বাদী ও বিবাদী পক্ষের নাম ঠিকানাসহ সম্পত্তি সংক্রান্ত হলে সম্পত্তির তফসিল পরিচয়সহ একখানা দলিল আদালত কর্তৃক জারী করা হয় তাকে ডিক্রি বলে।

১২. আরজি দলিল

বাদী বিরোধীয় ভূমির জন্য বিবাদীগণের বিরুদ্ধে আদালতে যে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন তাকে আরজি বলা হয়। এই আরজিতে বাদী তার স্বত্ব সম্বন্ধে যাবতীয় বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন এবং প্রতিকার প্রার্থনা করেন। কোন কোন দরখাস্ত আরজি গণ্যে বিচার হয় যেমন প্রিয়েমশান অভিভাবক নিযুক্তির দরখাস্ত উত্তরাধিকার নিদর্শনপত্র, প্রবেট ইত্যাদি।

১৩. আদালত যোগে সাফকবলা দলিল

কোন ব্যক্তি তার সম্পত্তি বিক্রয় করবোর জন্য কারোও নিকট হতে বায়না বাবদ টাকা গ্রহণ করে বায়নাপত্র সম্পাদন করে দিয়ে যদি দলিল সম্পাদন ও রেজিষ্টারী করে না দেয় তাহলে যে ব্যক্তি বায়না দিয়েছেন তিনি আদালতযোগে নালিশ করে আদালত কর্তৃক দলিল সম্পাদন ও রেজিষ্টারী করিয়ে নিতে পারেন। আদালতের বিচারে দলিল সম্পাদনের মোকদ্দমা ডিক্রি হলে উক্ত ডিক্রি ঐ আদালতে জারী দিয়ে দলিলের মুসাবিদা ও ষ্ট্যাম্প আদালতে দাখিল করলে তম্মর্মে দলিললিপি করে আদালত দাতার পক্ষে দস্তখত করে দলিল রেজিষ্টারী করে দিবেন।

১৪. বায়নাপত্র দলিল

কোন সম্পত্তি বিক্রয়ের জন্য ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যে চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হয় তাকে বায়নাপত্র বলে। বর্তমানে বায়না দলিল রেজিষ্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। বায়না পত্রের মাদ্যমেও স্বত্ব হস্তান্তরিত হতে পারে। যদি কোন ব্যক্তি বায়নাপত্র মারফত জমির দখল বুঝিয়ে দিয়ে থাকেন এবং মূল্যের টাকা গ্রহণ করে থাকেন এবং বিশেষ কারণে দলিল সম্পাদন ও রেজিষ্টারী করে দেন নাই বা দিতে পারেন নাই। যেহেতু দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং গ্রহীতা দখল বুঝিয়ে নিয়ে ভোগ দখল করছেন সেহেতু সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৩ ধারা মতে আংশিক বিক্রয় কার্যকরী হয়েছে। অতএব জমিতে খরিদ্দারের স্বত্ব হয়েছে বলে গণ্য হবে।

১৫. বেনামী দলিল

কোন ব্যক্তি বিশেষ কোন কারণে তার নিজের নামে সম্পত্তি খরিদ করতে অসুবিধার সম্মুখীন হওয়া বিবেচিত হলে ঐ ব্যক্তি নিজ অর্থে ও স্বার্থে সম্পত্তি খরিদ করে তার দলিল নিজের নামে না করে তার যে কোন আত্মীয়ের বা বিশ্বাসী বন্ধু বান্ধবের নামে বেনামী দলিল করতে পারেন বা নিজের সম্পত্তি ঋণের দায়ে বা অন্য কোন কারণে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ঐ ব্যক্তি তার নিজের সম্পত্তি কোন আত্মীয় স্বজনেবা বন্ধু বান্ধবের নামে দলিল করে দিতে পারেন। সেই দলিল অবশ্যই সাফকবালা ক্ষেত্র বিশেষে দানপত্র দলিল হবে।

--------   নামজারি কেন জরুরি?   --------নামজারি কেন জরুরি- সে প্রশ্নের উত্তর জানার আগে সম্ভবত ‘নামজারি’ বলতে আমরা কী বুঝ...
02/10/2020

-------- নামজারি কেন জরুরি? --------

নামজারি কেন জরুরি- সে প্রশ্নের উত্তর জানার আগে সম্ভবত ‘নামজারি’ বলতে আমরা কী বুঝি তা খানিকটা জানা প্রয়োজন।

এক কথায় ‘নামজারি’ বলতে-কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোন বৈধ পন্থায় ভূমি/জমির মালিকানা অর্জন করলে সরকারি রেকর্ড সংশোধন করে তার নামে রেকর্ড আপটুডেট (হালনাগাদ) করাকেই নামজারি বলা হয়। কোন ব্যক্তির নামজারি সম্পন্ন হলে তাকে একটি খতিয়ান দেয়া হয় যেখানে তার অর্জিত জমির একখানি সংক্ষিপ্ত হিসাব বিবরণী উল্লেখ থাকে। উক্ত হিসাব বিবরণী অর্থাৎ খতিয়ানে মালিকের নাম, কোন্ মৌজা, মৌজার নম্বর (জে এল নম্বর), জরিপের দাগ নম্বর, দাগে জমির পরিমান, একাধিক মালিক হলে তাদের নির্ধারিত হিস্যা ও প্রতি বছরের ধার্যকৃত খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) ইত্যাদি লিপিবদ্ধ থাকে।

---------- নিচে নামজারি খতিয়ানের নমুনা দেওয়া আছে ---------------

এবার মূল আলোচনায় আসা যাক। কেন নামজারি এত জরুরি তার মধ্যে নিম্নলিখিতগুলি গুরুত্বপূর্ণঃ

* শুধুমাত্র কোন দলিলের মাধ্যমে অর্জিত মালিকানার ভিত্তিতে অথবা ওয়ারিশ হিসেবে পিতা-মাতার জমিতে দখলসূত্রে থাকলেই সরকারি রেকর্ডে উক্ত ভূমিতে তাঁর মালিকানা নিশ্চিত হয় না। কোন ভূমিতে বৈধ ওয়ারিশ বা ক্রয়সূত্রে মালিক হবার পর পূর্বের মালিকের নাম হতে নাম কেটে বর্তমান মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হয়, তাহলেই তার মালিকানা সরকার কর্তৃক নিশ্চিত হয়। আর এটিই হল নামজারি পদ্ধতি।

** আপনি যদি ওয়ারিশ হিসাবে বা ক্রয়সূত্রে কোন জমির মালিক হন কিন্তু নামজারি না করান, তবে আপনার অজান্তে কোনভাবে এক/একাধিক দলিল সম্পাদন করে কোন স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি আপনার আগে নামজারি করে ফেলতে পারে। তাতে আপনি পরবর্তীতে নামজারি করতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই সমস্যায় পড়বেন। বাস্তবক্ষেত্রে জটিলতা আরো বাড়তে দেখা গেছে যখন উক্ত স্বার্থানেষী ব্যক্তি অপর এক বা একাধিক ব্যক্তির নিকট ঐ জমি ইতোমধ্যে বিক্রয় করে ফেলেছে। বর্তমানে এরকম ঘটনা অহরহ ঘটছে। এসব ক্ষেত্রে নানারকম মামলা মোকদ্দমার সৃষ্টি হয়ে থাকে যা দীর্ঘদিন যাবৎ অর্থ, সময় ও মানুষে-মানুষে সম্পর্কের অবনতি ঘটায়।

*** সাধারণভাবে আমাদের ধারণা, দলিল সম্পাদন হলেই কাজ শেষ।
নামজারির দরকার কী? এটি অত্যন্ত ভুল ধারণা। দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে শুধুমাত্র মালিকানা হস্তান্তর হয়, সরকারের খাতায় মালিক হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়া যায় না।

**** রেজিস্ট্রেশন দপ্তরটি আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি অফিস। সকল প্রকার দলিল সম্পাদন, রেজিস্ট্রিকরণ উক্ত দপ্তরের কাজ। দলিল রেজিস্ট্রিকরণের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত যিনি বিক্রেতা তিনি আদৌ উক্ত জমির মালিক হিসাবে সরকারের রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত আছেন কী না তার কোন রেকর্ড জেলা রেজিস্টার বা সাব-রেজিস্টারের দপ্তরে নেই। ফলে ভুলবশত: একই জমির এক বা একাধিক দলিলের মাধ্যমে বিক্রয়ের ঘটনা ঘটে। অপরদিকে ভূমি অফিসগুলি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন যার কাছে সরকারের কাছে রেকর্ডভুক্ত মালিকদের নাম, পূর্ববর্তী নামজারিকৃত মালিকদের নাম, নথিসহ বিস্তর তথ্য থাকে। ফলে একবার নামজারি করাতে সক্ষম হলে একই জমির একাধিকবার বিক্রয় হলেও মূল মালিকের আর ক্ষতিগ্রস্ত বা হয়রানী হবার সম্ভাবনা কম থাকে।

***** নামজারি আবেদনের মাধ্যমে আবেদনকারি যে স্বত্বলিপি অর্জন করেন, যাকে প্রচলিত ভাষায় আমরা ‘খতিয়ান’ বলে থাকি, এর মাধ্যমে তার উক্ত জমিতে মালিকানা স্বত্ব প্রমাণে নিশ্চয়তা লাভ করেন যা অন্য কোন দালিলিক মাধ্যমে লাভ করেন না।

****** নামজারি করা না থাকলে শুধু একাধিক বিক্রয়ের আশঙ্কাই বিদ্যামান থাকেনা, পরবর্তীতে আপনার অর্জিত সম্পত্তিতে দখলে থাকলেও পরবর্তীতে আপনার অবর্তমানে আপনার উত্তরাধিকারগণ উক্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবার আশঙ্কা থাকে।

******* যে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ঋণ নিতে গেলে জমি বন্ধকের ক্ষেত্রে খতিয়ান ছাড়া আবেদন গ্রহণ করা হয় না।
ওয়ারিশনমূলে প্রাপ্ত জমির মালিকরা যদি নামজারি না করান তাহলে তাদের মধ্যে বিশেষত: নারী অংশীদারগণ এবং ভবিষ্যতে তাদের ওয়ারিশগণদের মধ্যে মারাত্নক জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ জন্য ওয়ারিশগণ সমঝোতার মাধ্যমে প্রথমেই নামজারি সম্পন্ন করে রাখলে পরবর্তীতে অনেক জটিলতা পরিহার করা সম্ভব হয়।

পরিশেষে, উপরোক্ত বিষয়গুলির আলোকে জমির মালিকগণকে অনুরোধ করা যাচ্ছে-যাঁরা এখনও গড়িমসি করে নামজারি সম্পন্ন করেননি তারা অনতিবিলম্বে নামজারির জন্য আবেদন জানান। মনে রাখবেন, এটি একটি সহজ প্রক্রিয়া, এতে ভয়ের কিছু নেই, যদি আপনি এখানে উদ্ধৃত নিয়মগুলি একটি পড়ে নেন এবং সে অনুযায়ী কাজ করেন তাহলে আপনার-জমি সংশ্লিষ্ট বড় ধরণের আপত্তি কিংবা মামলা-মোকদ্দমা না থাকে তবে নির্ধারিত ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে আপনাকে নামজারির খতিয়ান সৃজন করে দেয়া সম্ভব।

26/09/2020
26/09/2020

Address

Chittagong Road (Near At Narayanganj Polytechnic Institute), Narayanganj
Siddhirganj
1431

Telephone

+8801628871347

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ময়নামতি সার্ভে ট্রেনিং সেন্টার posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to ময়নামতি সার্ভে ট্রেনিং সেন্টার:

Share

Category