24/04/2024
গল্প/:::; বড়লোকের ছেলে যখন রিকশাচালক
*
*
* লেখক::: রাসেল চৌধুরী 🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
*
*
* পর্ব/;;;;:::::;::::::(৩) তিন
*Page.Tm Tarekツ
*
* সকালে ঘুম থেকে উঠে যাদের সামনে দেখলাম, তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। এরা আর কেউ নয়। আমার বাবা মা আর বোন । কিন্তু তারা এখানে আসলো কি ভাবে।
*
* মা আমাকে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিল।
*
* আম্মু/: বাবা তুই কেমন আছিস। তোর এ মাকে কেমনে ভুলে থাকলি। তোর বাবা না হয় রাগের মাথায় বলেছে ঘর থেকে বেড়িয়ে যেতে, তাই বলে তুই বাসা থেকে বেরিয়ে আসবি।
*
* আব্বু/: রাসেল তুই আমাকে ক্ষমা করে দেয়। আমি না বুঝে তোকে ঘর থেকে বার করে দিছি। মিমে আমাদের সব কিছু খুলে বলছে। তুই বাসায় ফিরে চল।
*
* আমি/: এখন কেন আমাকে বাসায় যেতে বলছো। আমি তোমাদের নিজের সন্তান, আমার কথা তোমরা বিশ্বাস করলে না। তোমরা মিমের কথা বিশ্বাস করলে। তুমি তো আমাকে মৃত বলে দাবি করছো। তাহলে কেন আসলে এখানে। আমি আর তোমাদের বাসায় যেতে চাই না। আমি এখানে অনেক সুখে আছি।
*
* আম্মু/: সবার সাথে না হয় রেগে আছিস । তোর এ মাকে কেমনে ভুলে গেলি। আমার তো কোনো অপরাধ ছিল না।
*
* আমি/; আম্মু আমি তোমাকে কখনো ভুলি নাই। তোমার ছবি দেখে দেখে দিন পার করে দি। আর জানলে কেমনে আমি এখানে।
*
* তিশা/: আমি বলেছি ভাইয়া। গতকাল আমি তোর পিছনে পিছনে আসি , তার পর দেখি তুই বস্তিতে থাকিস। তাই বাসায় গিয়ে আব্বু আম্মু কে বলি। তারা রাতে আসতে চেয়েছিল। আমি তাদের সকালে নিয়ে আসি। তুই প্লিজ সবাইকে ক্ষমা করে দেয়। আবার বাসায় ফিরে চল।
*
* আব্বু/: আমি তোর পায়ে পরছি বাবা
*
* আমি বাবাকে পা ধরতে না দিয়ে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলাম।
*
* আমি/: আব্বু তুমি এ কি করছো। আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিছি। শুধু অভিমান ছিল এতো দিন। এখন আর কোনো অভিমান রাগ কিছুই নেই।
*
* আম্মু/: তাহলে আমাদের সাথে বাসায় ফিরে চল। আমি আর থাকতে পারছি না তোকে ছাড়া।
*
* তিশা/: ভাইয়া তোর এই ছোট বোনটাকে কি ক্ষমা করা যায় না।
*
* আমি/: আমি তোকে ক্ষমা করে দিছি। একটা কথা মনে রাখবি। আগে সত্যটা জেনে তার পর একটা মানুষ কে বুঝে শুনে কথা বলবি। এমন কোনো কথা বলবি না। যাতে সারাজীবন তোকে পস্তাতে হয়।
*
* তিশা/: আমি কখনো কিছু না জেনে কাউকে কিছু বলবো না।
*
* আমি/: হুম।
*
* আব্বু/: অনেক কথা হয়েছে। এবার বাসায় ফিরে চল।
*
* আমি): তোমরা দাড়াও আমি আমার সব জিনিস গাড়িতে উঠাতে হবে।
*
* আব্বু/: তোর কিছু করতে হবে না। ডাইভার সব জিনিস নিয়ে আসবে। তুই আমাদের সাথে চল।
*
* আমি): ঠিক আছে চলো।
*
* তার পর সবাই গাড়িতে এসে বসলাম। আব্বুকে বলেছি আমি গাড়ি চালাবো। আব্বু না করে নাই। আমি গাড়ি চালিয়ে সবাইকে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।
*
* আজ প্রায় এক বছর পর নিজের বাসায় আসলাম। গেট দিয়ে ঢুকতেই দারোয়ান আমাকে সালাম দিল। আমি সালাম নিয়ে বাসার ভিতরে ঢুকে গেলাম।
*
* বাসার সব আগের মতই আছে। আমি আমার রুমে চলে গেলাম। রুমে ঢুকে দেখি যেরকম রেখে গেছি সেইরকম আছে। আর রুমটা গুছিয়ে রাখছে।
*
* আমি ওয়াস রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে নিচে আসলাম। তার পর সবার সাথে বসে নাস্তা করতে লাগলাম। হঠাৎ কলিং বেল চাপ পড়লো। আম্মু গিয়ে দরজা খুলে দিল।
*
* আম্মুর সাথে যাকে দেখলাম তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। হুম ঠিকই ধরেছেন সাদিয়া। আম্মুর সাথে কথা বলতে বলতে আমাদের দিকে আসছে। সাদিয়া আমাকে দেখে অবাক হয়ে গেল।
*
* সাদিয়া); তুই এখানে।
*
* আমি/: আমার বাসা, আমি থাকবো না তো কে থাকবে।
*
* সাদিয়া/: তোর বাসা মানে।
*
* আম্মু/: আরে সাদিয়া তুই ওকে চিনিস না। ও তো আমাদের রাসেল। তোর ছোট বেলার খেলার সাথী।
*
* সাদিয়া/: কিন্তু তোমরা বলেছিলে ও দেশের বাইরে গেছে পড়ালেখা করার জন্য। আর তুই আমাকে চিনিস।
*
* আমি/: তোকে আমি প্রথম যেদিন এবাসায় নিয়ে আসি , তখন তোকে কি বলেছিলাম মনে আছে। আমি বলছি না আরমান সিকদার তোর কি হয়। তখন তুই কি বলেছিলি। আমি তখন তোকে চিনি।
*
* সাদিয়া/; তাহলে আমাকে বললি না কেন। আর তুই রিকশা চালিয়েছিস কেন।
*
* আমি/: সেটা তোকে পরে বলবো। এখন বস সবার সাথে নাস্তা কর।
*
* তার পর সাদিয়া সবার সাথে বসে নাস্তা করলো। নাস্তা করে আমি রুমে চলে আসলাম। সাদিয়া ও আমার রুমে আসলো।
*
* সাদিয়া/: এবার বল। কি কারণে তুই বল কি কারনে তুই বাহিরে ছিলি। আর কেন রিকশা চালিয়েছিস।
*
* আমি/: তাহলে শুন। (এক বছর আগে)
*
*
*
* ঠাসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসস
*
* আমি/: তোর সাহস কি করে হয় আমাকে কিস করার। ( একটা থাপ্পড় দিয়ে)
*
* মিম/: আমি তোকে ভালবাসি। তাই তোকে কিস করেছি। ( গালে হাত দিয়ে)
*
* আমি/: কিন্তু আমি তো তোকে ভালবাসি না।
*
* মিম/: তুই কেন আমাকে ভালোবাসতে পারবি না। আমি দেখতে খারাপ । তুই জানিস আমার পিছনে কতো ছেলে ঘুরে। কিন্তু আমি তো তোকে ভালবাসি। প্লিজ রাসেল আমাকে তুই ফিরিয়ে দিস না। ( আমার হাত ধরে)
*
* আমি/: আমি কি বলছি তুই দেখতে খারাপ। তুই অনেক সুন্দর, তুই আমার থেকে আরো ভালো ছেলে পাবি।
*
* মিম/: আমি তোর থেকে ভালো ছেলে চাইনা। আমি তোকে চাই।
* আমি/: কিন্তু আমি তোকে ভালোবাসতে পারবো না।
*
* মিম/: কেন তুই আমাকে ভালোবাসতে পারবি না।
*
* আমি/: একজনকে ভালোবাসি। তাকে আমি ছোট কাল থেকে ভালোবেসে আসছি।
*
" মিম/; কে সে আমি কি জানতে পারি।
*
* আমি/: ওটা তোর জানলেও চলবে। আমি তোকে কখনো ভালোবাসতে পারবো না।
*
* মিম/: তুই আমার না হলে আমি তোকে কারো হতে দিব না , কথাটা মনে রাখিস। ( বলে আমার রুম থেকে বেরিয়ে গেল)
*
* এবার আপনাদের বলি। মিম হচ্ছে আমার মামাতো বোন। মা বাবা তাকে আমাদের বাসায় নিয়ে এসে পড়ালেখা করায়। মিমে আমাকে ভালোবাসে, সে আমাকে অনেক বার বলেছে। কিন্তু আমি তাকে না করে দিছি।
*
* কিন্তু আজকে সকালে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ মিম আমার রুমে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে কিস করতে থাকে। তার পর কি হলো আপনারা তো জানেন।
*
*
* আমি ফ্রেশ হয়ে নিচে গেলাম। সবার সাথে নাস্তা করে কলেজে চলে গেলাম। মিম আর আমি একসাথে কলেজে পড়ি। আজকে মিমকে না নিয়ে আমি কলেজে চলে আসলাম।
*
* আমি গিয়ে ক্লাসে বসলাম। কিন্তু মিমকে দিখি নাই ক্লাসে , আজকে মনে হয় আসবে না। আমি সব ক্লাস শেষ করে বাসায় চলে আসলাম। রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেতে গেলাম। গিয়ে দেখি মিম খাবার খাইতে আছে।
*
* আমি একটা চেয়ার টেনে বসলাম। আম্মু খাবার বেড়ে দিল। খাবার খেয়ে রুমে চলে আসলাম। কেউ কারো সাথে কথা বলি নাই।
*
*
আমি রুমে এসে কিছুক্ষণ মোবাইল টিপে ঘুমিয়ে পড়লাম। হঠাৎ মিমে আমার রুমে এসে চিৎকার করতে লাগলো। আমি চোখ খুলে দেখি মিমের জামা কিছু জায়গায় ছিঁড়ে ফেলেছে। হঠাৎ আম্মু দরজা ধাক্কা তে লাগলো। মিমে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেখি আম্মুকে জড়িয়ে ধরল।
*
* কিন্তু তার চেয়ে অবাক হলাম তিশা আর আব্বু কে দেখে। আব্বু কখন এলো বাহির থেকে আর তিশা তো হোষ্টেলে ছিল।
*
* আব্বু/: কি হয়েছে মিম । তোমার জামা ছিড়া কেন।
*
* মিম/: আজকে আমার শরীরটা খারাপ ছিল। তাই কলেজে যেতে পারি নাই। তাই রাসেল এর কাছে আসছি নোট গুলো নেওয়ার জন্য। কিন্তু রাসেল আমাকে ( আর কিছু না বলে কান্না করে দিল)
*
* ঠাসসসসসসস দুইটা থাপ্পড় দিয়ে বলতে লাগলো।
*
* আব্বু/: তুই এতো খারাপ আমার জানা ছিল না। তোকে অনেক ভালো মনে করছি। কিন্তু তুই এমন কাজ করবি আমি ভাবতেও পারিনি।
*
* আমি/: আব্বু তুমি বিশ্বাস করো আমি কিছুই করিনি।
*
* তিশা/: একটা মেয়ে তার ইজ্জত নিয়ে কখনো মিথ্যা কথা বলে না। তোকে আমার ভাই ভাবতে গ্নিনা লাগছে। তোর মতো ভাই থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।
*
* আব্বু/: তুই এখনি এ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যা। আজকে থেকে মনে করবো আমার এক মেয়ে। তুই আমাদের কাছে মৃত । তোর মতো ছেলে আমার দরকার নেই।
*
* আমি/: তোমরা আমার কথা বিশ্বাস করলে না। শুধু একটা কথাই বলি নিজের ছেলেকে বিশ্বাস না করে অনেক বড় ভুল করছো। সত্য কখনো চাপা থাকে না। একদিন না একদিন প্রকাশ হবে। সেদিন আমাকে খুঁজে পাবে না।
*
* এ বলে বাসা থেকে বেরিয়ে আসলাম। আম্মু কিছু বলে নাই। শুধু কান্না করে গেছে। আমি বাসা থেকে বেরিয়ে একটা দোকানে বসে ছিলাম। রাত অনেক হয়েছে। পকেটে একটা টাকাও নেই। খিদে পেয়েছে অনেক।
*
* হঠাৎ একজন রিকশাচালক চাচা আমার সামনে এসে বললো।
*
* চাচা/: তোমাকে অনেকক্ষন থেকে দেখছি এখানে বসে আছো। কি হয়েছে তোমার।
*
* আমি/: চাচা আমাকে বাসা থেকে বের করে দিছে।
*
* চাচা/: কেন।
*
* আমি/: তাহলে শুনুন। ( তার পর চাচাকে সব খুলে বললাম)
*
* চাচা/: চিন্তা করো না, সব ঠিক হয়ে যাবে। তা এখন কোথায় যাবে।
*
* আমি/: জানিনা।
*
* চাচা): কিছু মনে না করলে তুমি আমার সাথে থাকতে পারো। আমি একাই থাকি। আপন বলতে আমার কেউ নেই।
*
* আমি/: ঠিক আছে যাবো। তবে আমাকে একটা কাজের বেবস্থা করে দিতে হবে।
*
* চাচা): কেন।
*
* আমি/: আমি কাজ করে পড়াশোনা করতে চাই।
*
*চাচা/: তোমাকে কোনো কাজ করতে হবে না। আমি তোমার সব খরচ চালাবো। আমার কিছু টাকা জমানো আছে।
*
* আমি); কিন্তু।( আমাকে আর বলতে না দিয়ে)
*
* চাচা/: কোনো কিন্তু নয়। এখন আমার সাথে চলো।
*
* তার পর চাচা ওনার সাথে তার বাসায় নিয়ে গেল।
*
* তার পর কি হলো তোমরা তো জানোই। পাশে তাকিয়ে দেখি সাদিয়া কান্না করে চোখের পানি দিয়ে জামা কাপড় ভিজিয়ে ফেলেছে।
*
* আমি/: আরে তুই কান্না করছিস কেন।
*
* সাদিয়া/ তোর অনেক কষ্ট হয়েছে নারে।
*
* আমি/: হুম, কষ্ট তো হয়েছে। কিন্তু এখন আর কষ্ট নেই। এখন আমি আবার আগের মত চলতে পারবো।
*
* সাদিয়া/: মেয়েটা কে।
*
* আমি/: কোন মেয়েটা
*
* সাদিয়া): মিমকে বলেছিলি না , তুই একজনকে ভালোবাসিস।
*
* আমি): ওহ, সেটা সময় হলে জানতে পারবি।
*
* সাদিয়া/; ওহ, ঠিক আছে আমি বাসায় যাচ্ছি।
*
* আমি): আজকে থেকে যা ।
*
* সাদিয়া/: নারে কিছু কাজ আছে বাসায় , আমার যেতে হবে।
*
* আমি); ঠিক আছে, তাহলে যা তোর সাথে ফোনে কথা হবে।
*
* ঠিক আছে বলে সাদিয়া চলে গেল। দেখে মনে হচ্ছে মন খারাপ। আমি আর কোনো কিছু চিন্তা না করে ঘুমিয়ে পড়লাম।
*
*
*
*
* চলবে ♥️♥️♥️♥️♥️♥️♥️♥️♥️♥️♥️♥️♥️♥️
*
*
*
* কেমন হয়েছে জানাবেন। ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। হয়তো আমি গল্প সাজিয়ে লিখতে পারি না। তার পর ও লাইক এবং কমেন্ট দিয়ে জানাবেন কেমন হয়েছে। ( ধন্যবাদ সবাইকে পাশেই থাকবেন 🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡🧡
*
*
*
*
* পরবর্তি পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন 🌿🌷🌿🌿🌷🌷🌷🌿🌷🌷🌷🌿🌷🌿🌷🌷🌷🌿🌷🌿🌷🌷🌷🌿🌷🌿🌷🌷🌷🌿🌷🌿🌷🌷🌷🌿🌷🌿🌷🌷🌷🌿🌷🌿🌷🌷🌷🌿🌷🌿🌷🌷🌷🌿🌷🌿🌷🌷🌷🌿🌷🌿🌷🌷🌷🌿🌷🌿🌷🌷🌷🌿🌷🌿🌷🌷🌿🌷🌿🌷🌷🌷🌷🌷🌷