04/10/2024
(পবিত্র কুরআন হাদীসের আলোকে)
মানুষের রুহ বা আত্মার চক্ষু খোলা প্রসঙ্গ
রচনায়
(বান্দায়ে নালায়েক) মোহাম্মদ আলী (গুফিরা লাহু)
প্রতিষ্ঠাতা মুতাওয়াল্লী, খানকায়ে মুহিব্বিয়া মাদানিয়া হাপানিয়া (মাদানী নগর), পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ।
খাদেম, দারুল ইফতা (ফিকাহ ও ফতোয়া বিভাগ) হয়বতনগর আনওয়ারুল উলূম মাদরাসা, কিশোরগঞ্জ।
আত্মার চক্ষু খোলা প্রসঙ্গঃ
মানুষের রুহ্ বা আত্মার চক্ষু খুলে যায় তিন ভাবে-
👉রুহের চক্ষু খোলার প্রথম পদ্ধতি:
রুহের চক্ষু খোলার একটি পদ্ধতি হলো মৃত্যুবরণ করা। অর্থাৎ মৃত্যুবরণ করলে রুহের চক্ষু খুলে যায়।
اللهُ يَتَوَفَّى الْأَنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا (سُورَةُ الزُّمَرِ : ٤٢).
অর্থ: আল্লাহ মানুষের রুহকে বের করে নিয়ে যান মৃত্যুর সময়। (সূরা যুমার, আয়াত নং-৪২)।
এই কারণে রুহের চক্ষু খুলে রুহের চোখে পরকালের সব দেখে ইয়াকীন
হাসিল হয়ে আমল করতে পুনরায় দুনিয়াতে আসতে চায়। যেমন: আল্লাহ পাক বলেন- قُلْ يَتَوَفَّكُمْ مُلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وَكِلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَى رَبَّكُمْ تُرْجَعُوْنَ وَلَوْ تَرَى إِذِ الْمُجْرِمُوْنَ ط نَاكِسُوا رُؤُوسِهِمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ رَبَّنَا أَبْصَرْنَا وَ سَمِعْنَا فَارْجِعْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا إِنَّا مُوْقِنُونَ (سورة السجدة : ۱۱-۱۲).
অর্থ: আপনি বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবে। যদি আপনি দেখতেন যখন অপরাধীরা তাদের পালনকর্তার সামনে নতশীর হয়ে বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা দেখলাম ও শুনলাম। কাজেই, আমাদেরকে পুনরায় পাঠিয়ে দেন আমরা নেক আমল করব। নিশ্চয়ই আমরা ইয়াকীনওয়ালা (দৃঢ় বিশ্বাসী) হয়ে গেছি। (সূরা সাজদাহ, আয়াত নং-১১-১২)।
উপরিউক্ত আয়াতদ্বয়ের দ্বারা বুঝা গেল যে, মৃত্যুর সময় মানুষের রুহ বা আত্মার চক্ষু খুলে যায়। তখন সে পরকালের সব দেখে-শুনে চাক্ষুষ বিশ্বাসী (দৃঢ় বিশ্বাসী) তথা ইয়াকীনওয়ালা হয়ে যায়। সেজন্য সে পুনরায় নেক আমল করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। বুঝা গেল যে, রুহের চক্ষু খুলে গেলে ইয়াকীন হাসিল হয় তথা চাক্ষুষ বিশ্বাসী বা দৃঢ় বিশ্বাসী হয় এবং আমল করতে বা আমলদার হতে চায়। কিন্তু মরে যাওয়ার পর এই রুহ বা আত্মার চক্ষু খুলার কোন দাম নেই। দুনিয়াতে রুহের চক্ষু খুলতে পারলেই দাম।
👉রুহের চক্ষু খোলার দ্বিতীয় পদ্ধতি:
রুহের চক্ষু খোলার দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো ঘুমিয়ে পড়া। অর্থাৎ ঘুমিয়ে পড়লে রুহের চক্ষু খুলে যায়।
و الَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا سُوْرَةُ الزُّمَر : (٤٢).
অর্থ: যারা মৃতুবরণ করে নাই তাদের রুহ বা আত্মাকে আল্লাহ বের করে নিয়ে যান তাদের ঘুমের সময়। (সূরা যুমার, আয়াত নং-৪২)।8
বুঝা গেল যে, ঘুমিয়ে পড়লে মানুষের রুহ বের হয়ে মানুষের রুহের চক্ষু খুলে সে রুহের চোখে স্বপ্ন দেখতে থাকে। আর ঘুমিয়ে পড়লে রুহ বের হয় তার প্রমাণ হাদীস শরীফেও আছে। যেমন: বুখারী শরীফের ৮৩ পৃষ্ঠায় রয়েছে-
قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم : إن الله قبضَ أَرْوَاحَكُمْ حِينَ شَاءَ وَ رَدَّهَا عَلَيْكُمْ جين شاء (رواه البخاري ۸۳/۱) في كِتَابِ مَوَاقِيتِ الصَّلَاةِ ، بَابُ الْأَذَانِ بَعْدَ ذَهَابِ
الوقت).
অর্থ: (সাহাবায়ে কেরাম ঘুমিয়ে যাওয়ার পর জাগ্রত হলে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের রুহসমূহকে কবজা করে নিয়ে গিয়েছিলেন যখন চেয়েছিলেন তখন (তোমাদের ঘুমের সময়)। আর এই রুহসমূহকে তোমাদের উপর ফেরত দিয়েছেন যখন চেয়েছেন তখন (তোমাদের জাগ্রত হওয়ার সময়)। (বুখারী শরীফ ১/৮৩, হাদীস-৫৮৭)।
এই ঘুমের সময় রুহ বের হয়ে রুহের চক্ষু খুলে গেলে এই খুলারও কোন দাম নেই; বরং তৃতীয় পদ্ধতিতে রুহের চক্ষু খুললে যা সামনেই তিন নাম্বারে আসছে সেই চক্ষু খুলারই দাম।
(ধারাবাহিক চলবে ইনশাআল্লাহ)