27/10/2024
আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত যে, এদেশের অমুসলিম নাগরিকগণ স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের কল্যাণ কামনার সাথে সাথে দেশেরও কল্যাণ চান। কারণ দেশে অশান্তি বিরাজ করলে তারা কোথায় শান্তি পাবেন? দেশের মঙ্গল-অমঙ্গল সাথে সকল নাগরিকের ভাগ্যই সমভাবে জড়িত। এদেশে এখনও কোন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো স্থিতিশীল হয়নি। বিভিন্ন দল ও আন্দোলন দেশটাকে তাদের নিজস্ব মতবাদ ও আদর্শে গড়ে তুলবার চেষ্টা করছে।
জামায়াতে ইসলামী বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদের (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) অনুকরণে কুরআনের বিধানকে এদেশে চালু করতে চায়। তাই যারা অন্য আদর্শের অনুসারী, তারা জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে জঘন্য অপপ্রচারে লিপ্ত। এ সব বিরোধীদের প্রচারণায় পক্ষপাতমূলক ধারণা নিয়ে জামায়াত সম্পর্কে কোন মতামত স্থির করা একেবারেই অযৌক্তিক। সুতরাং অমুসলিম নাগরিকদের কাছে আমার আকুল আবেদন যে, আপনারা সরাসরি জামায়াতের সাহিত্য, জামায়াতের সংগঠন, এর কার্যাবলী ও সদস্যদের নিকট থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে মতামত স্থির করুন। আশা করি এটা একটা জাতীয় দায়িত্ব মনে করেই আপনারা জামায়াতকে জানার চেষ্টা করবেন।
রাজনৈতিক ময়দানে নাকি এখন দলের সংখ্যা শ' খানিক। বিভিন্ন দল দেশকে বিভিন্নভাবে গড়তে চাচ্ছে। একটা নতুন দেশ হিসেবে এখন এ দেশটি আদর্শিক দিক দিয়ে নোঙ্গরহীন অবস্থায়ই আছে। এ দিক দিয়ে দেশের ভবিষ্যত এখন একেবারেই অনিশ্চিত।
জনগণের সমস্যার সমাধান দিতে হলে কোন আদর্শকে ভিত্তি করেই তা সম্ভব। আদর্শহীন লোক শাসনের নামে শোষণই করে থাকে। আর আদর্শের ময়দানে ইসলাম ছাড়া আর কিছু যে নেই, সে কথা প্রত্যেক সচেতন নাগরিকই দেখতে পাচ্ছেন। আমি এদেশের অমুসলিম নাগরিকদেরকে এ কথা গভীরভাবে বিবেচনা করার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি। যা দেশের জন্য কল্যাণকর, তা হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবারই জন্য মঙ্গলকর।
জামায়াতে ইসলামী কুরআনের বিধান অনুযায়ী এদেশের সব সমস্যার সমাধান করতে চায়, যেমন ১৪শ' বছর আগে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আরব দেশে করেছিলেন। এদেশে যখন এ আন্দোলন দানা বেঁধেছে, তখন এ সম্বন্ধে ভালভাবে জানবার চেষ্ট করা দেশের সব নাগরিকেরই কর্তব্য। অমুসলিম নাগরিকগণও আশা করি জানার দায়িত্ব বোধ করবেন।
ইসলামের নাম শুনেই জামায়াতে ইসলামীকে সাম্প্রদায়িক কোন দল মনে করলে মারাত্মক ভুল হবে। ইসলামী শাসন মানে মুসলিম নামধারী ইসলাম বিরোধী চরিত্রের লোকদের শাসন নয়। কুরআনে যে বিধান রয়েছে, তা বাস্তবে কায়েম করলেই ইসলামী শাসন হবে। ইসলাম ও মুসলিম এক কথা নয়। জামায়াতে ইসলামী মুসলিম শাসন চায় না, ইসলামী শাসন চায়। তাই যে কোন মুসলিমকে জামায়াতে ইসলামী এর সদস্য হিসেবে গ্রহণ করে না। চিন্তা, কথা, কর্ম ও চরিত্রে ইসলামের সত্যিকার অনুসারী না হলে জামায়াতে ইসলামী কাউকে সদস্য করে না। তাই জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক দল। কোন সম্প্রদায় বিশেষের লোক হলেই এর সদস্য হওয়া যায় না।
অধ্যাপক গোলাম আযম (রহ.)
সাবেক আমীর, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ