Property Manager

Property Manager Looking for Sell or Rent property in Sylhet? Do it with ease with the Property Manager.

05/09/2023

জমি কেনার আগে ক্রেতার করণীয় : পর্ব ২

জমিজমা সংক্রান্ত আমাদের দেশে যতো সমস্যা তৈরি হয়, তার বেশির ভাগ সমস্যারই সৃষ্টি হচ্ছে জমি ক্রয়বিক্রয়ের সময়। আপনি জমি ক্রয়ের সময় যদি সচেতনতা অবলম্বন করতে না পারেন, কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে ক্রয় করতে না পারেন, তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ঐ জমির কাগজপত্র নিয়ে আপনাকে বাকী জীবনের কোন না কোন এক সময় ভীষণ পেরেশানির সহিত দৌড়াদৌড়ি করতে হবে।

গত পর্বে আমরা আলোচনা করেছি, জমি ক্রয়ের পূর্বে কি কি বিষয়ে লক্ষ্য রাখা জরুরী। আজ আমরা সেই সব বিষয়ের মধ্যে একটি বিষয় সম্বন্ধে একটু বিশদ আলোচনা করবো। আর সেটি হচ্ছে, জমির দলিল। জমি ক্রয়ের পূর্বে জমির বিক্রেতার মালিকানা নিশ্চিত করতে জমির যেসব বিষয়ে সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, দলিল।

যদি জমির বিক্রেতা জমিটি ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে থাকে, তাহলে তার কাছে নিশ্চয়ই পূর্বের দলিল রয়েছে, যেটাকে বলে ভায়া দলিল। আপনাকে ভায়া দলিল গুলোও দেখতে হবে। আপনি যার কাছ থেকে ক্রয় করবেন, তিনি যার কাছ থেকে ক্রয় করেছে, তার আগে কে কার কাছ থেকে ক্রয় করেছে এভাবে অন্তত ৩০ বছর পূর্বে পর্যন্ত কে কে এই জমির মালিক ছিল, তাদের বৈধ কাগজপত্র চেক করে দেখবে হবে। যদিও ৩০ বছর পূর্বে পর্যন্ত ভায়া দলিল যাচাই বাছাই করে দেখতে বলা হয়, তারপরও অনেক সময় দেখা যায় ৩০ বছরেরও আগে কোন একটি ত্রুটি হয়েছিল, যা অনেকেরই চোখে পড়েনি, দাদার করে যাওয়া ভুল বাবার চোখে না পড়লেও নাতির চোখে পড়তেই পারে। তাই, যথাসম্ভব যাচাই বাছাই করে তারপর জমি কিনবেন।

একটা ঘটনা দিয়ে ভায়া দলিলের গুরুত্ব আলোচনা করা যায়, আমি আমার এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে একটি জমি ক্রয় করবো, আমার প্রতিবেশী নিজেও জমিটি ক্রয় করেছেন বেশি দিন হয়নি। প্রতিবেশী যার কাছ থেকে ক্রয় করেছেন, তিনি আবার ঐ জমির একক মালিক ছিলেন না। যে দলিলের ভিত্তিতে তিনি ঐ সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন, সেই দলিলে তিনি তার ভাইয়ের সাথে যৌথ ভাবে মালিক ছিলেন। কিন্তু, ভাই বিদেশ থাকার কারণে ভাইয়ের অবর্তমানে তিনি একাই পুরো সম্পত্তির মালিক সেজে পুরো সম্পত্তি উক্ত প্রতিবেশীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। প্রতিবেশী জানতে পেরে হোক বা না পেরে হোক, তিনি আমার কাছে ঐ জমি বিক্রি করতে এসেছেন। এখন, আমি যদি শুধু মাত্র আমার প্রতিবেশীর ক্রয় কৃত সাফ কবলা দলিলটি দেখে আমার দলিল তৈরি করি বা যাকে বলে হুবহু দলিল থেকে দলিল করি, তাহলে আমার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চান্স কতটুকু, আপনিই বলুন?

নামাজে যত সুন্দর করেই কেরাত পড়ুন আর রুকু সেজদা ঠিক মতো করুন না কেন, ওযু না করে যদি নামাজ পড়েন, তবে আপনার সেই নামাজ কি হবে?
কেউ জমি ক্রয় করে বাসস্থান করতে, কেউ ক্রয় করে কৃষি কাজ করতে, কেউ আবার বাণিজ্যিক স্থাপনা করতে, কেউবা আবার অলস টাকা ফেলে না রেখে জমিতে বিনিয়োগ করবে বলে জমি ক্রয় করে। কিন্তু, জমি ক্রয় করে ঝামেলা বা হয়রানী হতে হয় না এমন লোকজনের পরিমাণ খুবই কম। তার কারণ হচ্ছে, জমি কেনার যে একটা আকাঙ্ক্ষা বা উত্তেজনা মানুষের মাঝে কাজ করে, সেই উত্তেজনা অনেক সময় মানুষকে অধৈর্য করে তুলে। কখন বিক্রেতাকে টাকা বুঝিয়ে দিয়ে নিজে জায়গা বুঝে নিবে, এই উত্তেজনায় কাগজপত্র যাচাই বাছাই করার হিতাহিত জ্ঞান থাকে না।

এর জন্য আরেকটা বিষয়ও দায়ী, মানুষের জমি জমার আইন সম্বন্ধে অজ্ঞতা বা স্বল্প জ্ঞান। জমিজমার বিষয়ে যেহেতু সকল শ্রেণীর মানুষ জড়িত, সেহেতু জমিজমার আইন বা নিয়মকানুন গুলো আসলে সমাজের সকল স্তরের মানুষদের কাছে সরল এবং সহজলভ্য করা উচিত। একটা বিষয় খেয়াল করলে দেখবেন যে, একটা মানুষ তার পুরো জীবনে কোন দিনও থানা পুলিশ তথা ফৌজদারি মামলায় নাও জড়াতে পারে, কিন্তু জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিটি মানুষকেই জড়াতে হবে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ মাটির উপরই অবস্থান করছে, যদিও মৌলিক চাহিদার তৃতীয়টি হচ্ছে বাসস্থান, কিন্তু মানুষ জঙ্গলে বসবাস করলেও এখন সরকারি খাস জমিতে থাকতে হয়, যেটা কিনা কোথাও কোথাও এখন অনুমতি সাপেক্ষে থাকতে হয়। তারপর প্রথম মৌলিক চাহিদা অন্ন, এই অন্ন আসে কোথা থেকে?

কারো না কারো জমি থেকে। সেটাও এখন মালিকানাধীন। পৃথিবী সৃষ্টির গোড়াতে বা কিছু কাল আগেও মানুষের পরনে জামা কাপড় ছিল না, কিন্তু অন্ন আর বাসস্থান বরাবরই ছিল; ভবিষ্যতেও থাকবে। তাই, এই জমিজমার সাথে আমাদেরকে সম্পৃক্ত থাকতেই হবে। আর, গণ মানুষের সম্পৃক্ততা যেখানে, সেখানেই নিয়মকানুন থাকবে। সেই নিয়মকানুন আগে জানতে হবে, তারপর মানতে হবে। যেখানে জানার বালাই নেই, সেখানে মানার তো প্রশ্নই উঠে না।

এজন্যই শুরু থেকেই বুঝানোর চেষ্টা করছি যে, জমি কেনার আগে জমির ভায়া দলিল গুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করে নিবেন। আপনি নিজে জমিজমার কাগজপত্র বুঝলে তো সমস্যা নাই, কিন্তু যদি না বুঝেন তাহলে দলিল লেখক বা আমীন বা উকিল বা জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে অবগত, এমন কাউকে দিয়ে অবশ্যই ভায়া দলিলগুলো যাচাই বাছাই করে নিবেন।

আপনি জানেন, ব্যাংক আপনাকে ঋণ দেওয়ার পূর্বে আপনার যে জমিটি মরগেজ/বন্ধক রাখে, সেই জমির কাগজপত্র যাচাই বাছাই করার জন্য ব্যাংকের প্যানেল উকিল রয়েছে। ব্যাংকাররাও ও তো কম শিক্ষিত নন, তারা নিজেরা জমির কাগজপত্র চেক না করে বাড়তি টাকা খরচ করে কেন প্যানেল উকিলদেরকে দিয়ে চেক করাচ্ছে?- আপনাকে বুঝতে হবে, সবাই সব বিষয়ে অভিজ্ঞ না। পড়াশোনা করা মানুষ যেখানে ঝুঁকি নিচ্ছে না একটা জমি মরগেজ নিতে, আপনি কেন জমি কেনার সময় আপনার এতগুলো টাকা ঝুঁকিতে ফেলবেন?

পরবর্তী পর্বগুলো পড়তে আমাদের #প্রোপার্টি_ম্যানেজার পেইজ ফলো দিয়ে রাখুন।

04/09/2023

জমি কেনার আগে ক্রেতার করণীয় : পর্ব ১

জমিজমা সংক্রান্ত আমাদের দেশে যতো সমস্যা তৈরি হয়, তার বেশির ভাগ সমস্যারই সৃষ্টি হচ্ছে জমি ক্রয়বিক্রয়ের সময়। আপনি জমি ক্রয়ের সময় যদি সচেতনতা অবলম্বন করতে না পারেন, কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে ক্রয় করতে না পারেন, তবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ঐ জমির কাগজপত্র নিয়ে আপনাকে বাকী জীবনের কোন না কোন এক সময় ভীষণ পেরেশানির সহিত দৌড়াদৌড়ি করতে হবে।
আমরা একটা জমি ক্রয় করতে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করতে রাজি কিন্তু জমি ক্রয় করার আগে কাগজ পত্রগুলো যাচাই বাছাই করার জন্য পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা খরচ করতে রাজি হই না। এটা অনেকটাই লাখ টাকা খরচ করে ঘোড়া কিনার মত, যে ঘোড়ার গলায় সামান্য কয় টাকার দড়ি নেই। দড়ি হীন ঘোড়ার মালিকানা নির্ধারণ করা কতো মুশকিল সেটা একবার ঘোড়া কিনে ঘোড়ার দড়ি খুলে ফেললেই বুঝবেন। বলা বাহুল্য, ঘোড়াকে সম্ভবত দড়ি নয়, বরং বেল্ট পরানো হয়।

জমি কেনার আগের যে দলিল লেখক দলিলটি লিখবেন, তিনি যথাসম্ভব দলিলটি প্রস্তুতে যেসব কাগজপত্র রয়েছে সেগুলো যাচাই বাছাই করে থাকেন, কিন্তু তারপরও এমন সব বিষয় আছে যেগুলো দলিল লেখকের দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে না আবার দলিল লেখক যে সব বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন হবেন তাও কিন্তু নয়। আবার অনেক দলিল করা হয় দলিল থেকে দলিল, তখন দলিল লেখকের আর বাড়তি কাগজপত্র যাচাই বাছাই করতে হয় না, যার ফলে অতীতের কোন ভুল ত্রুটি থেকে থাকলে তা সংশোধন তো করাই হয় না বরং ঝামেলা আরও জটিল হয়ে যায় পক্ষগণ বৃদ্ধির বদলতে।

জমি কেনার আগে বিক্রেতা আপনার সাথে যত সুন্দর ব্যবহার করবেন, টাকা বুঝে পাওয়ার পর বিক্রেতার চেহারা সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে; পাল্টে যাওয়াই স্বাভাবিক। বেচারার জমি চলে গেলে আপনার কাছে এখন আবার আপনার জমির ভুলভ্রান্তিও সংশোধন বেচারাকে সংশোধন করতে হবে, এটা কি মেনে নেওয়া যায়? অবশ্যই যায় না; আপনি যতো টাকা দিয়েই ক্রয় করুন না কেন, জমির বিক্রেতার দায়িত্ব নয় আপনার জমির আইনানুগ সমস্যাগুলো তিনি সমাধান করে দিবেন। তিনি ইচ্ছে করলে পারেন, কিন্তু তাকে বাধ্য করে করানো সম্ভব না। কারণ, তখন সেটি আপনার ক্রয় কৃত জমি, আপনাকেই সমাধান করতে হবে। আমার নিছক এই খোঁচা যদি আপনি বুঝতে পারেন তাহলে এটাও বুঝতে আর বাকী নেই যে, জমি কেনার আগে জমির মালিককে দিয়ে সকল সমস্যা সমাধান করানো উচিত; বিক্রেতা নিজে জমিকে ভুল ভ্রান্তি মুক্ত করতে না পারলে জমি কেনার দরকার নাই। কথায়ই তো আছে, দুষ্টু গরুর চেয়ে, শূন্য গোয়াল ভালো।

আজকে প্রথম পর্বে কোন একটি টপিক নিয়ে বিশদ আলোচনা না করলেও কি কি বিষয় যাচাই বাছাই করা উচিত, সেগুলো সম্বন্ধে একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো। বুলেট পয়েন্টের মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করবো, যে বিষয় গুলো যাচাই বাছাই না করে জমি ক্রয় করলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে:

• জমির দলিল:
যদি জমির বিক্রেতা জমিটি ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে থাকে, তাহলে তার কাছে নিশ্চয় পূর্বের দলিল রয়েছে, আপনাকে সেগুলো দেখতে হবে। অন্তত ৩০ বছর পূর্বে পর্যন্ত কে কে এই জমির মালিক ছিল, তাদের বৈধ কাগজপত্র চেক করে দেখবে হবে।

• খতিয়ান সূত্রে মালিক:
অনেক জমির মালিক আছে, যাদের কোন দলিল নেই। তারা রেকর্ড সূত্রে বা খতিয়ান সূত্রে মালিক। তাদের খতিয়ান গুলো আপনাকে দেখতে হবে। সিএস খতিয়ান থেকে শুরু করে বিএস খতিয়ান পর্যন্ত আপনাকে চেক করে দেখতে হবে যে, তিনি প্রকৃতপক্ষেই রেকর্ড সূত্রে মালিক কিনা।

• দখল:
জমির বিক্রেতার দলিল, খতিয়ান ঠিক থাকার পরও অনেক মালিক জমিতে যেতে পারে না; কারণ দখল নিয়ে তাদের ঝামেলা রয়েছে। কারো পুরো জমিরই দখল নেই, কারো বা আংশিক দখল নেই। টাকা দিয়ে জমির কাগজ কিনবেন, জমিতে তো আপনাকে যেতে হবে, নাকি?

• সার্ভেয়ার/ আমীন:
৫ শতক জায়গা কিনলেন ৫০ লক্ষ টাকা খরচ করে। কিন্তু, জায়গাতে গিয়ে দেখলেন জায়গা আছে, ৪.৫ শতক। চারপাশে বাড়ি উঠায় সবাই একটু একটু করে ছাপতে ছাপতে আপনার আধা শতক জায়গা ছেপে দিয়েছে। দাম কতো পড়ল আধা শতকের ?- ৫ লক্ষ টাকা। অথচ ৫,০০০/- টাকা খরচ করে আমীন দিয়ে জমিটা মাপিয়ে নিতে পারতেন, ৪,৯৫,০০০/- টাকা বেছে যেত।

• খারিজ/ নামজারি:
জমি কেনার পর জমিটি ভূমি অফিস থেকে খারিজ/ নামজারি করাতে পারবেন কিনা সেটা নিশ্চিত না হয়ে জমি কেনার পর ভূমি অফিসে আবার দিনের পর দিন ঘুরতে হয় নামজারির জন্য?

• মামলা:
বিয়ে করলে শালী ফ্রি, একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি। জমি তো কিনেছেন সাথে মামলা ফ্রি কিনা সেটা কেনার আগে যাচাই করে দেখুন।

• অগ্রক্রয়:
বিয়ের আগে হবু বউয়ের বয়ফ্রেন্ড আছে কিনা জেনে নিন, নাহলে বিয়ের মঞ্চ থেকে বা বিয়ের সংসার করতে করতে হঠাৎ আপনাকে ফেলে বয়ফ্রেন্ডের হাত পালাবে। তেমনি জমি কেনার আগে দেখুন এই জমি আপনার আগে অন্য কেউ কেনার জন্য বৈধ ভাবে হকদার কিনা।

• অংশীদার:
যে জমি ক্রয় করছেন, সেটি বিক্রেতার একক মালিকানাধীন জমি নাকি আরও মালিক আছে, এজমালি সম্পত্তি কিনা এসবও যাচাই বাছাই করুন।

• নাবালকের সম্পত্তি:
নাবালক সম্পত্তি বিক্রি করতে পারে না তবে নাবালকের সম্পত্তি আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিভাবক বিক্রি করতে পারে। আদালতের অনুমতি আছে কিনা সেটাও দেখতে হবে।

এছাড়াও লীজ, ওয়াকফসহ আরও অনেকগুলো ছোটখাটো বিষয় আছে যেগুলো যাচাই বাছাই করে দেখে তারপর জমি কেনা উচিত। বায়নাপত্র করার পর অনেকে জমির ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়, এটাও ঠিক না। বায়নার টাকা দিয়ে দেওয়ার পর যদি জমিতে সমস্যা আছে, এটা টের পান, তাহলে ঐ টাকা উদ্ধার করতে কম ভোগান্তি হবে আপনার?
টাকা আরেকজনের পকেটে গেলে সেটা তার হয়ে যায়। তাই, টাকা পয়সা লেনদেন করার আগে, জমির বিষয়ে সুনিশ্চিত হয়ে নিন; তারপর ক্রয় করুন। উপরের বুলেট পয়েন্ট গুলো আরও বিস্তারিত ভাবে লিখবো পরের আর্টিকেল গুলোতে। সেখান থেকে নিজে নিজেই বুঝতে পারবেন, কোনটা কীভাবে যাচাই বাছাই করতে হবে।

আগামী পর্ব পড়তে আমাদের #প্রোপার্টি_ম্যানেজার পেইজ ফলো দিয়ে রাখুন।

16/08/2023

যৌথ বা এজমালি সম্পত্তি ক্রয়ের পূর্বে যে বিষয়গুলো দেখবেন

জয়নাল আবেদীন সাহেব মৃত্যুকালে ৫৩ শতাংশ জমিয়ে রেখে যান। উনার স্ত্রী উনার পূর্বেই পরলোক গমন করেন। মৃত্যুকালে উনার চার সন্তান ছিল, দুই ছেলে দুই মেয়ে। চার সন্তানের সকলেই উচ্চশিক্ষিত এবং প্রতিষ্ঠিত। দুই মেয়ে বিবাহ করে স্বামীর সংসারে থাকলেও তাদের একজন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
অন্যদিকে দুই ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই আমেরিকায় থাকে, আরেকজন দেশে সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। বাবা মায়ের মৃত্যুর পর তারা আর গ্রামে নিয়মিত যায় না। না যেতে যেতে তাদের মধ্যে বাড়ির প্রতি মায়া মমতা আকর্ষণ বোধ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়েছে।

এখনকার দিনে যেমন হয়, বাবা-মা অনেক শখ করে যে বাড়ি তৈরি করেন, সারা জীবন বিভিন্ন স্মৃতি লালন করেন, ঐতিহ্য আকড়ে ধরে রাখেন, সন্তানরা কে কিভাবে থাকবে সেই ধরনের পরিকল্পনা করে থাকেন, স্বপ্ন দেখে থাকেন; অথচ সেই বাবা মায়ের মৃত্যুর পর ঐ বাড়ির প্রতি সন্তানদের আর তেমন মায়া মমতা থাকে না।
যার ফলে দেখা যায়, উক্ত সম্পত্তি অবহেলায় দিন দিন আরো নষ্ট হতে থাকে। কেউবা সেটি বিক্রি করে দেওয়ার জন্য পায়তারা করে। তেমনি ভাবেই জয়নাল আবেদীনের মৃত্যুর পর তার সন্তানেরাও ঐ সম্পত্তিতে না আসতে আসতে ঐ বাড়িটি ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে।

এভাবে চলতে চলতে একসময় দেশে থাকা তিন ভাই বোন ঠিক করে গ্রামের ঐ সম্পত্তিটি বিক্রি করে দিবে। কেননা দুই বোনের স্বামীর নামে শহরে জায়গা কিনে নিজেরা বাড়িঘর করেছে, সরকারি উচ্চ পদস্থ যে কর্মকর্তা তিনিও শহরে জায়গা ক্রয় করেছেন, এখন বাড়ি করার পালা। তাই, ৩ ভাইবোন মিলে যে ভাই আমেরিকায় থাকেন, তাকে ঐ সম্পত্তি বিক্রি করার জন্য প্রস্তাব দিল।
আমেরিকাতে থাকা ঐ ভাই ঐ সম্পত্তি বিক্রি করতে আপত্তি করে। তার যুক্তি হচ্ছে, দেশে আসলে ঐ বাড়িই হবে আমাদের কেন্দ্রস্থল হওয়া উচিত, আমাদের হয়তো নিয়মিত থাকা হবে না কিন্তু বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করা থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজনের সাথে মাঝে মাঝে দেখাশোনা করার জন্য হলেও ঐ বাড়িটি থাকা উচিত।
তাছাড়া ঐ ৫৩ শতক জমি বিক্রি করে খুব বেশি টাকা যে পাওয়া যাবে তা কিন্তু নয়। কেন শুধু শুধু বিক্রি করে বাবা-মায়ের এত পরিশ্রমের বাড়িতে অন্যের হাত তুলে দিবে, তাই আমেরিকান প্রবাসী ঐ ভাই সরাসরি আপত্তি জানিয়েছে। কিন্তু দেশে থাকা তিন ভাই বোন চিন্তা করল শুধু শুধু বাড়িতে ওই সম্পত্তিটি পড়ে থেকে কোন লাভ নেই, এর মধ্যে বাড়িতে না থাকার কারণে চোর বাটপাররা এসে আজকে এটা, কালকে ঐটা খুলে নিয়ে যাচ্ছে, এতে যতদিন যাবে সম্পত্তিটি আরো বেশি নষ্ট হবে। বাড়িতে লাগানো গাছগাছালি গুলো মানুষ নষ্ট করে দিচ্ছে, ফলমূল তো খেয়ে শেষ দিচ্ছে তাতে সমস্যা নেই কিন্তু যার যেমন দরকার লাড়কির প্রয়োজনীয় বিভিন্ন গাছ গাছালি নষ্ট করছে। এভাবে পড়ে পড়ে নষ্ট হওয়ার চেয়ে ভালো কারো কাছে বিক্রি করে দিলে তারা সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবে।

তাই তারা ৩ জন প্রবাসী ভাইকে ক্রয় করার জন্য প্রস্তাব দেয়, কিন্তু সে নিজে ক্রয় করতেও আপত্তি জানায়। তখন বাকি তিন ভাই বোন ঐ বাড়ি বিক্রি করার জন্য এলাকাতে যারা জমির ব্যবসা করে তাদেরকে প্রস্তাব দেয়। এখন কথা হচ্ছে এই যে যৌথ বা এজমালি সম্পত্তি, যে সম্পত্তির মালিক চার ভাই বোন তাদের মধ্যে তিন ভাইবোন বিক্রি করতে রাজি থাকা সত্ত্বেও আরেক যে ভাই আপত্তি করেছে, সেই ভাই বিক্রিতে রাজি না থাকলে সেক্ষেত্রে একজন ক্রেতা হিসেবে আপনার ঐ জমি ক্রয় করা উচিত কিনা?

এখন একজন ক্রেতা চাইলে ঐ ৫৩ শতক জমির মধ্যে এক ভাই এবং দুই বোনের যে হিস্যা বা অংশ রয়েছে, সেই অনুসারে জমি ক্রয় করতে পারেন। কিন্তু সমস্যাটা হবে যেহেতু চার ভাই বোনের মধ্যে সম্পত্তি এখনো বণ্টন হয়নি, তারা চার ভাই বোন মিলে ঐ সম্পত্তির মালিক হলেও ঐ সম্পত্তিতে কে কোন দিক থেকে নিচ্ছে, কে কতটুকু করে নিচ্ছে সেটি কিন্তু এখনো স্পষ্টীকরণ করা হয়নি। যার ধরুন, একজন ক্রেতা তিন ভাইবোনের হিস্যা অনুযায়ী সম্পত্তিটি ক্রয় করার পর যেহেতু সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি বা চৌহদ্দি নির্ধারণ করা হয়নি, সেক্ষেত্রে যদি আমেরিকান প্রবাসী বাকি ভাই কখনো দেশে এসে বলে যে ঐ জমিতে আমার যে হিস্যা আছে, সেটি আমি আমার মত করে নির্দিষ্ট জায়গা দিয়ে নিবো, যে জায়গা দিয়ে জমি নিলে ক্রেতা খুবই বিপদে পড়তে পারে, তখনি শুধু হবে বিরোধ, বিপত্তি, অশান্তি।

যেমন ধরুন, ৫৩ শতক জমির মধ্যে গ্রামীণ বাড়ির পাশাপাশি যে ঘরটি রয়েছে ঐ ঘরটি বিল্ডিং এবং এর জন্যই ক্রেতা একটি বিশেষ মূল্য প্রদান করল। কিন্তু প্রবাসী ভাই এসে বলল যে, সে তার হিস্যা অনুযায়ী দখল নিবে ঠিক ঘর যেখানে আছে সেখানে। আবার ধরুন, পুরো জমির মধ্যে যে জায়গা দিয়ে বাড়ির মধ্যে চলাচল করা হয় সেই জায়গা দাবী করে বসল প্রবাসী ভাই বা যে জমিটুকু রাস্তের পাশে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, যার ফলে এর মূল্যমানও অপেক্ষাকৃত বেশি সেটি প্রবাসী ভাই দাবী করে বসল; তখন সেক্ষেত্রে ক্রেতা কিন্তু আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তাই এখনকার দিনে যৌথ বা এজমালি সম্পত্তি বিক্রয় করার ক্ষেত্রে বণ্টন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা, বণ্টন ব্যতীত কেউ যদি এজমালি সম্পত্তি তার নিজ হিস্যা অনুযায়ী বিক্রি করেও, সেক্ষেত্রেও ক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদি বাকি কোন অংশীদার এসে ক্রেতাকে তার সীমানা বা চৌহদ্দি নিয়ে ঝামেলা করে, তখন ক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তাই একজন ক্রেতা হিসেবে উচিত হচ্ছে, এজমালি সম্পত্তি ক্রয় করার পূর্বে তাদের আপোষবন্টন দলিলটি দেখে নেওয়া বা বাটোয়ারা মামলার মাধ্যমে সম্পত্তি যেভাবে বাটোয়ারা হবে সেই অনুযায়ী চৌহদ্দি নির্ধারণ করা থাকা অবস্থায় সম্পত্তি ক্রয় করা। এতে ভবিষ্যতে মামলা মোকদ্দমা থেকে শুরু করে প্রতিবেশীর বিড়ম্বনা থেকে আপনি বেঁচে থাকতে পারবেন।
অনেকেই আপনাকে পরামর্শ দিবে, আপনি বণ্টন দলিল ছাড়াই শুধুমাত্র তিনজনের হিস্যা অনুযায়ী সম্পত্তি ক্রয় করতে পারবেন, কিন্তু এতে ভবিষ্যতে আপনি বাকি অংশীদারদের যেমন বিড়ম্বনায় পড়বেন, তেমনিভাবে সারাজীবন ঐ জায়গায় যে প্রতিবেশীরা থাকবে তাদের সাথে আপনার একটি শত্রু ভাবাপন্ন সম্পর্ক বজায় থাকবে।

বিক্রেতা বিক্রি করে টাকা নিয়ে চলে যাবে, দালাল তার কমিশন নিয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমবে আর আপনি আপনার কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে কোন সম্পত্তি ক্রয় করার পর ফ্রিতে কিছু শত্রু পাবেন আর প্রতিনিয়ত সীমান্তে বসবাসের অনুভূতি পাবেন। তাই, কব্জির জোরে বা কারো প্রলোভনে না পড়ে বণ্টন কৃত জমি নিজের চৌহদ্দি বুঝেশুনে জমি ক্রয় করুন।

06/08/2023

জমি কেনার আগে অবশ্যই যা যা যাচাই করতে হবে:

১. জরিপের মাধ্যমে প্রণীত রেকর্ড অর্থাৎ খতিয়ান ও নকশা যাচাই করতে হবে।

২. জমির তফসিল অর্থাৎ জমির মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর উক্ত দাগে জমির মোট পরিমাণ জানতে হবে।

৩. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিএস; এসএ; আরএস পরচা দেখাতে হবে।

৪. বিক্রেতা ক্রয়সূত্রে ভূমির মালিক হয়ে থাকলে তার ক্রয় দলিল বা ভায়া দলিল রেকর্ডের সঙ্গে মিল করে বিক্রেতার মালিকানা নিশ্চিত হতে হবে।

৫. বিক্রেতা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হলে সর্বশেষ জরিপের খতিয়ান বিক্রেতা বা তিনি যাঁর মাধ্যমে প্রাপ্ত তাঁর নামে অস্তিত্ব (যোগসূত্র) মিলিয়ে দেখতে হবে।

৬. জরিপ চলমান এলাকায় বিক্রেতার কাছে রক্ষিত মাঠ পরচা যাচাই করে দেখতে হবে।

৭. উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি বিক্রেতার শরিকদের সঙ্গে বিক্রেতার সম্পত্তি ভাগাভাগির বণ্টননামা (ফরায়েজ) দেখে নিতে হবে।

৮. বিক্রেতার কাছ থেকে সংগৃহীত দলিল, খতিয়ান/পরচা ইত্যাদি কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে গিয়ে তলবকারী /স্বত্বলিপি রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

৯. সর্বশেষ নামজারি পরচা ডিসিআর খাজনা দাখিল (রসিদ) যাচাই করে দেখতে হবে। জমির খাজনা বকেয়া থাকলে এবং বকেয়া খাজনাসহ জমি ক্রয় করলে বকেয়া খাজনা পরিশোধের দায় ক্রেতার।

১০. বিবেচ্য জমিটি সার্টিফিকেট মোকদ্দমা ভুক্ত কি না, কখনো নিলাম হয়েছে কি না, তা তহশিল অফিস / উপজেলা ভূমি অফিস থেকে জেনে নিতে হবে। সার্টিফিকেট মামলাভুক্ত সম্পত্তি বিক্রয়যোগ্য নয়।

১১. বিবেচ্য ভূমি খাস, পরিত্যক্ত/অর্পিত, অধিগ্রহণকৃত বা অধিগ্রহণের জন্য নোটিশকৃত কি না, তা তহশিল, উপজেলা ভূমি অফিস বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এল এ শাখা থেকে জেনে নিতে হবে।

১২. বিবেচ্য ভূমি কোনো আদালতে মামলা–মোকদ্দমাভুক্ত কি না, তা জেনে নিতে হবে। মামলাভুক্ত জমি কেনা উচিত নয়।

১৩. বিবেচ্য জমিটি সরেজমিনে যাচাই করে এর অবস্থান নকশার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে এবং দখল সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে বিক্রেতার মালিকানা ও দখল নিশ্চিত হতে হবে।

১৪. সাব–রেজিস্ট্রারের অফিসে তল্লাশি দিয়ে জমির সর্বশেষ বেচাকেনার তথ্য জেনে নেওয়া যেতে পারে।

১৫. প্রস্তাবিত জমিটি ঋণের দায়ে কোনো ব্যাংক /সংস্থার কাছে দায়বদ্ধ কি না।

১৬. প্রস্তাবিত জমিতে যাতায়াতের রাস্তা আছে কি না, তাও দেখা প্রয়োজন।

জনস্বার্থে : #প্রোপার্টি_ম্যানেজার_সিলেট

05/08/2023

What is Property Manager?

The Property Manager is an ideal solution for owners who do not live near their rental properties or simply do not enjoy dealing with tenants, toilets, and so on.

The Property Manager acts on behalf of the owner to preserve the value of the property while generating income.

The Property Manager's responsibilities include supervising and coordinating building maintenance and work orders, doing light handyman and cleaning work, resolving tenant concerns and complaints, advertising, showing and leasing vacant units, collecting and depositing rent, and communicating regularly with the property owner on the status of the property.

The Property Manager is the owner’s eyes and ears on the property, making certain that issues are being dealt with promptly and the property itself is cared for professionally.

If you are a owner of property in Sylhet, you can trust us. Mind it, your property, our responsibility and management.

Address

Bondor Bazar
Sylhet
3100

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Property Manager posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share