26/09/2026
জেদ্দায় চাকরির প্রলোভনে প্রতারণার অভিযোগ, ‘ফাহাদ গ্লোবাল এজেন্সি’ নিয়ে সতর্কবার্তা
জেদ্দা প্রতিনিধি: সৌদি আরবের জেদ্দায় প্রবাসীদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং পরে প্রতিশ্রুত কাজের সঙ্গে বাস্তবতার মিল না থাকার অভিযোগ উঠেছে ফাহাদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি ‘ফাহাদ গ্লোবাল এজেন্সি’ নামে একটি WhatsApp গ্রুপের মাধ্যমে বিভিন্ন আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রবাসীদের আকৃষ্ট করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ফাহাদের বাড়ি চাঁদপুরে এবং তিনি জেদ্দার আবু... এলাকায় বসবাস করেন। তাদের দাবি, দিনের বেলা তিনি ইলেকট্রিক মিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন এবং সন্ধ্যার পর চাকরির দালালি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, একটি ভিলায় অসহায় ও চাকরিপ্রত্যাশী প্রবাসীদের নিয়ে এসে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। পরে তাদের দূরের বিভিন্ন লোকেশনে পাঠানো হলেও সেখানে গিয়ে ভুক্তভোগীরা দেখতে পান, আগে যে কাজের কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে তার সঙ্গে কাজের কোনো মিল নেই। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ভিলার লোকেশন পরবর্তীতে মুছে দেওয়া হয় এবং সেখানে থাকা ব্যক্তিদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, ইতোমধ্যে কয়েকজনকে ফোন করে এক্সিট লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে জেদ্দায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এছাড়া ফাহাদের সঙ্গে জাহাঙ্গীর নামে আরও একজন সহযোগী থাকার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তদের বক্তব্যও এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের আহ্বান
ভুক্তভোগীরা বলছেন, তারা আর কোনো প্রবাসীকে একই ধরনের প্রতারণার শিকার হতে দিতে চান না। তাদের দাবি, চাকরির নামে টাকা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, কর্মস্থল, চুক্তিপত্র এবং কাজের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—কেউ যদি ‘ফাহাদ গ্লোবাল এজেন্সি’ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রতারিত হয়ে থাকেন, তাহলে প্রমাণসহ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান এবং অন্যদের সতর্ক করুন।
সতর্ক থাকুন, যাচাই না করে চাকরির নামে কাউকে টাকা দেবেন না।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে; অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।