07/03/2026
আলহামদুলিল্লাহ 🤲
আল্লাহ পাক জীবনের অনেক বড় বড় চাওয়ার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি চাওয়া পূরণ করে দিয়েছেন। জীবনের অধিকাংশ মোনাজাতে আমি আল্লাহর কাছে একটি জিনিসই বেশি করে চেয়েছি—
আল্লাহ যেন আমাকে তাঁর প্রিয় হাবীব, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর রওজা মুবারকের পাশে দাঁড়িয়ে সালাম দেওয়ার তাওফিক দান করেন।
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ পাক চাওয়ার থেকেও অনেক বেশি দান করেছেন।
রিয়াজুল জান্নাহতে এশার নামাজ, নফল ও তারাবি আদায় করার এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে ইবাদত করা, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পাশে দাঁড়িয়ে মন খুলে রবের সাথে কথা বলা—এ যেন ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় এবং পরম পাওয়া।
মদিনায় অবস্থানের তিন দিনে মদিনার ঐতিহাসিক স্থানগুলো জিয়ারতের সৌভাগ্যও হয়েছে, যা হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি—
১️⃣ জান্নাতুল বাকি – যেখানে প্রায় ১০ হাজার সাহাবী ও অনেক আহলে বাইত শায়িত আছেন।
২️⃣ মসজিদে কুবা – মদিনায় রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নির্মিত প্রথম মসজিদ।
৩️⃣ মসজিদে কিবলাতাইন – যেখানে নামাজরত অবস্থায় মুসলমানদের দ্বিতীয় কিবলার ওহি নাজিল হয় এবং কিবলা পরিবর্তন করা হয়।
৪️⃣ উহুদ পাহাড় – যেখানে উহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল এবং প্রায় ৭০ জন সাহাবী শাহাদাত বরণ করেছিলেন। সেখানে সেই মহান সাহাবীদের মাকবারা জিয়ারতের অনুভূতি সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
মদিনার প্রতিটি মসজিদে আদায় করা নামাজ ও সিজদাহর অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
আলহামদুলিল্লাহ, আমার প্রতিটি মোনাজাতে বিশেষ কয়েকটি চাওয়ার মধ্যে একটি চাওয়া সবসময় ছিল—
ইসলামিক স্মার্ট সিটির পরিপূর্ণতা ও সফলতা।
আল্লাহ যেন এই স্বপ্নকেও বাস্তবতায় রূপ দেন।
এছাড়াও যারা আমার কাছে দোয়া চেয়েছিলেন, আলহামদুলিল্লাহ তাদের সকলকেই আমার দোয়ার মোনাজাতে সামিল রেখেছি।
মদিনার এই সংক্ষিপ্ত সফর শেষে এখন রওনা হয়েছি বায়তুল্লাহর পথে, রবের ঘরে হাজিরা দেওয়ার জন্য।
যারা জীবনে এখনো এই অনুভূতি পাওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেননি—আমি তাদের সকলের জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন সবাইকে মদিনার এই চমৎকার, হৃদয়ছোঁয়া অনুভূতি লাভ করার তাওফিক দান করেন।
আর আমরা যারা এই সৌভাগ্য লাভ করেছি, আল্লাহ যেন আমাদের বারবার মদিনায় আসার তাওফিক দান করেন।
আমিন🤲