23/10/2023
★ হুল জোহার দিশুম সমাজ কিলি কুপুল কো অড়ঃ সমাজ লাউড়িয়া কো-
ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির ৭৬ বর্ষ পরেও বারে বারেই আদিবাসী ভূমিজ সমাজ সহ গোটা আদিবাসী সমাজ আজও বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, অবহেলিত। তাই বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, অবহেলিত করে রাখার প্রতিবাদে এবং নিম্নে উল্লেখিত নাহ্য দাবি সমূহ আদায়ের লক্ষ্যে -
আগামী ৮ই নভেম্বর ২০২৩,বুধবার "ভারতীয় আদিবাসী ভূমিজ সমাজ (পঃবঃ)" - ঝাড়গ্রাম জেলা কমিটির পক্ষ থেকে " JHARGRAM REGIONAL OFFICE ( TDCC Ltd) এ তালা ঝুলিয়ে JHARGRAM DM OFFICE অনির্দিষ্টকালীন ঘেরাও কর্মসূচী " আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
উক্ত আন্দোলনকে সাফল্য মন্ডিত করার জন্য নির্ধারিত দিনে আদিবাসী জাতীয় অস্ত্র সহ বাদ্যযন্ত্র সহযোগে সমস্ত আদিবাসীদের দলে দলে যোগদান করার আহ্বান জানাই।
👉 পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী উন্নয়ন সমবায় নিগম লিমিটেড, ঝাড়গ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে এবং ঝাড়গ্রাম জেলাশাসকের কার্যালয়ে দাবি সমূহ -
১। পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী উন্নয়ন সমবায় নিগম লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত রাজ্যস্তরীয় আদিবাসী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ২০২১ এ " মাছকাঁদনা আদিবাসী ভূমিজ সুসুন দুরাং গাঁওতা " এর শংসাপত্রে জাতির জায়গায় "ভূমিজ" না লিখে লেখা হয় "সাঁওতাল" এবং আঙ্গিকের জায়গায় "কারাম" না লিখে লেখা হয় "সাড়পা"।
এই ভুল শংসাপত্র সংশোধন করে সাংস্কৃতিক দলের হাতে সঠিক শংসাপত্র তুলে দেওয়ার জন্য বারে বারে জানানো সত্ত্বেও আজও তা কোনো ভাবেই কার্যকারী করা হয় নাই। অবিলম্বে সঠিক শংসাপত্র সাংস্কৃতিক দলের হাতে তুলে দিতে হবে।
২। পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী উন্নয়ন সমবায় নিগম লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত রাজ্যস্তরীয়, ঝাড়গ্রাম জেলাস্তরীয় আদিবাসী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ২০২২ এর পুরস্কার সাম্মানিক টাকা আজও সাংস্কৃতিক দলগুলির হাতে তুলে দেওয়া হয় নাই। বারে বারে এ বিষয়ে অভিযোগ করা হলে জানানো হয় ফান্ডে টাকা নেই। অথচ আদিবাসী উন্নয়নের টাকা অ-আদিবাসী কুড়মিদেরকে করম উৎসব করার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হয়। যার আমরা তীব্র প্রতিবাদ করছি সঙ্গে আদিবাসী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার পুরস্কার সাম্মানিক টাকা যাতে অবিলম্বে সাংস্কৃতিক দলগুলির হাতে তুলে হয় তার দাবি জানাচ্ছি।
৩। পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী উন্নয়ন সমবায় নিগম লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত আদিবাসী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার মূল লক্ষ্যই হল আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষা,সাংস্কৃতিক -কে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াস। কিন্তু রাজ্যস্তরীয় আদিবাসী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ২০২০,২০২১,২০২২ এ দেখা যায় আদিবাসী ভূমিজ সমাজের মাতৃভাষা " ভূমিজ ভাষা " কে গুরুত্ব না দিয়ে বাংলা ভাষা কে গুরুত্ব দেওয়া হয় অর্থাৎ ভূমিজ ভাষায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনকারী নৃত্যদল গুলিকে অগ্রাধীকার না দিয়ে বাংলা ভাষায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনকারী নৃত্যদল গুলিকে অগ্রাধীকার দেওয়া হয়। এবিষয়েও Managing Director (WBTDCC Ltd) কাছে অভিযোগ জানিয়েও কাজের কাজ কিছু হয় নি। তাই আদিবাসী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতায় প্রাথমিক স্তরেই যাতে কোনো বাংলাভাষী ভূমিজ সাংস্কৃতিক দল অংশগ্রহণ করার সুযোগ না পায় তার অবিলম্বে সু-ব্যবস্থা করিতে হবে।
৪। পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী উন্নয়ন সমবায় নিগম লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত রাজ্যস্তরীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতায় আদিবাসী ভূমিজ সমাজের মাতৃভাষা - ভূমিজ ভাষা সহ সাংস্কৃতিক, পরম্পরা, রীতি রেওয়াজ জানা জাজ রাখার বিষয়ে বারে বারে Managing Director (WBTDCC Ltd) কাছে লিখিত ভাবে জানালেও কোনো কর্ণপাত করা হয়নি।
তাই ভূমিজ ভাষা সহ সাংস্কৃতিক, পরম্পরা, রীতি রেওয়াজ জানা জাজ রাখা হয় তার জন্য অবিলম্বে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫। পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী উন্নয়ন সমবায় নিগম লিমিটেড, ঝাড়গ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে যাতে চূয়াড় বিদ্রোহ (১৭৬৭-১৮৩৩) এর মহানায়ক বীর শহীদ রঘুনাথ সিং [ ভূমিজ ] এবং ভূমিজ বিদ্রোহ (১৮৩২-১৮৩৩) এর মহানায়ক বীর শহীদ গঙ্গানারায়ণ সিং [ ভূমিজ ] - মহানায়কদ্বয়ের ছবি টাঁঙ্গানো এবং কোনো একটি কক্ষের বা হলের নাম যাতে বীর শহীদ রঘুনাথ সিং [ ভূমিজ ] এর নামে নামাঙ্কিত করা হয় তার সু-ব্যবস্থা করিতে হইবে।
৬। আদিবাসী ভূমিজ সমাজের কোনো সাংস্কৃতিক দলকে আজও অবধি লোকপ্রসার শিল্পীর তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করা হয় নাই। আদিবাসী ভূমিজ সমাজের ঝাড়গ্রাম জেলার তথা পশ্চিমবঙ্গের সুনামধন্য সাংস্কৃতিক দল - " মাছকাঁদনা আদিবাসী ভূমিজ সুসুন দুরাং গাঁওতা "। তাই এই সাংস্কৃতিক দলকে অবিলম্বে যাতে লোকপ্রসার শিল্পীর তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করা হয় এবং অনান্য ভূমিজ সাংস্কৃতিক দলগুলিকেও যাতে লোকপ্রসার শিল্পীর তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করা হয় তার ব্যবস্থা করিতে হবে।
৭। ঝাড়গ্রাম জেলা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরে চূয়াড় বিদ্রোহের মহানায়ক বীর শহীদ রঘুনাথ সিং এবং ভূমিজ বিদ্রোহের মহানায়ক বীর শহীদ গঙ্গানারায়ণ সিং - মহানায়কদ্বয়ের ছবির স্থান দেওয়া হলেও জেলাশাসকের দ্বারা পরিচালিত সরকারি অনুষ্ঠানে অনান্য শহীদ বীরদের বা মনিষীদের ছবি ব্যানারে থাকলেও এই দুই মহানায়কদ্বয়ের ছবি দেওয়া হয় নাই।
তাই জেলাশাসক দ্বারা পরিচালিত সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানারে যাতে এই দুই মহানায়কদ্বয়ের ছবি দেওয়া হয় তার ব্যবস্থা করিতে হইবে।
৮। ঝাড়গ্রামের আদিবাসী মিউজিয়ামে যাতে আদিবাসী ভূমিজ সমাজের পরিচিতি বহনকারী জিনিসপত্র রাখা হয় তার সু-ব্যবস্থা করিতে হইবে।
৯। আদিবাসী উন্নয়ন তহবিল থেকে যাতে আদিবাসী ভূমিজ সমাজের ঝাড়গ্রামের শারুল পূজা করা হয় তার সু-ব্যবস্থা করিতে হইবে।
১০। নতুন ডি.এম ভবনের কোনো একটি অফিস কক্ষ বা হলের নামকরণ ভূমিজ বিদ্রোহের মহানায়ক বীর শহীদ গঙ্গানারায়ণ সিং - এর নামে নামকরণ করতে হবে।
১১। নব নির্মিত ম্যাডিকেল কলেজের নামকরণ চূয়াড় বিদ্রোহের মহানায়ক বীর শহীদ রঘুনাথ সিং এর নামে নামকরণ করতে হবে।
👉 পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আমাদের দাবি-
১। আদিবাসী ভূমিজ সমাজের মাতৃভাষা " ভূমিজ ভাষা (লিপি- অল অনল) " কে অবিলম্বে দ্বিতীয় রাজ ভাষার স্বীকৃতি দিতে হবে।
২। আদিবাসী ভূমিজ সমাজের উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করতে হবে।
৩। চূয়াড় বিদ্রোহ (১৭৬৭-১৮৩৩) এর মহানায়ক বীর শহীদ রঘুনাথ সিং -এর জন্মজয়ন্তীতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা সহ সরকারি উদ্যোগে মূর্তি স্থাপন করতে হবে।
৪। ভূমিজ বিদ্রোহ (১৮৩২-১৮৩৩) এর মহানায়ক বীর শহীদ গঙ্গানারায়ণ সিং-এর জন্মজয়ন্তীতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা সহ সরকারি উদ্যোগে মূর্তি স্থাপন করতে হবে।
৫। আদিবাসী ভূমিজ সমাজের ভাষা,সংস্কৃতি রক্ষার্থে সাংস্কৃতিক একাডেমি বোর্ড গঠন করতে হবে।
৬। আদিবাসী ভূমিজ জনবহুল এলাকার বিদ্যালয় গুলিতে মাতৃভাষা "ভূমিজ ভাষা" তে পঠন পাঠনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৭। আদিবাসী ভূমিজ সমাজের নায়া,মোড়ল,ডাকুয়া,জানগুরু, পাণিগিরাই পদাধিকারীদের সরকারি স্বীকৃতি দিতে হবে এবং সরকারি ভাতা প্রদান করতে হবে।
৮। আদিবাসী ভূমিজ সমাজের ধর্মীয় পবিত্র স্থল জাহের থান, হাড়িশালী (উকশ্মাশন), শারুল থান গুলিকে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।