13/06/2023
Rajdip Mondal
কোনো এক সময় দুটো পাখি একটি গাছের ডালে বাসা বেঁধে সুখে বসবাস করতে লাগলো, তারা দুজন দুজনকে খুবি ভালোবাসতো, এভাবেই চলতে থাকে তাদের সুখের জীবন, হটাৎ একদিন খুব ঝর বৃষ্টি হয়, তারা দুজনে সারারাত ঝড় বৃষ্টিতে ভিজতে থাকে আর তাদের সুখের বাসা টাকে বাঁচানোর খুব চেষ্টা করতে থাকে, কিন্তূ তাতে কোনো লাভ হয়নি, বাঁচাতে পারেনি তারা সেই সুখের বাসা টা কে ।
সেদিনের রাত টা খুব কষ্টকর ছিল তাদের, তারা দুজনে খুব ক্লান্ত হয়ে গেছিলো, একসময় তারা দুজনে ঘুমিয়ে পড়ে, এর পরে সকালের সূর্যের আলোয় তাদের ঘুম ভাঙলো আর মেয়ে পাখি টা দেখলো যে তার একটি ডানা তে আঘাত পেয়েছে যার কারণে মেয়ে পাখি টা উড়তে পারছেনা।
তখন মেয়ে পাখি টা ছেলে পাখি কে ঘুম থেকে ডেকে তোলে আর সেটা তাকে দেখায় ........
তখন মেয়ে পাখি টা ছেলে পাখি কে বলে আমি তো আর তোমার সঙ্গে উড়তে পারবনা, তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাবেনা তো,তখন ছেলে পাখি টা মেয়ে পাখিটার চোখ এর দিকে তাকিয়ে বলছিলো ... মনে পড়ে তোমার সেই দিন এর কথা যেদিন আমরা দুজনে সারাজীবন একসাথে চলার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম ।।
মেয়ে পাখি : হ্যাঁ মনে আছে কিন্তূ আমি তো আর আগের মতো উড়তে পারবনা যার কারণে আমার সাথে থাকতে তোমার অনেক সমস্যা হবে ।
ছেলে পাখি : মুচকি হেসে বলল আজ যদি তোমার মতো অবস্থা আমার হতো তাহলে কি তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যেতে?
মেয়ে পাখি : না আমি তোমাকে ছেড়ে খোকনও যেতাম না।
ছেলে পাখি : তাহলে আমি কি করে তোমায় এই অবস্থায় ছেড়ে যাবো বলো,তুমি আমার ওপরে ভরসা রাখো একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে আর আমরা আবার আকাশে উড়বো একসাথে।
এর পরে ছেলে পাখিটা মেয়ে পাখিটিকে একটা গাছের নিচে রেখে চলে যায় খবর খুঁজতে তার জন্য খাবার আনে এবং তারা দুজনে একসাথে খাবার খায়।
এর পরে ছেলে পাখিটা মাঝে মাঝে মেয়ে পাখিটিকে রেখে উড়ে চলে যায় আর সারা দিন পরে ফিরে আসে, এই দেখে মেয়ে পাখিটার খুব খারাপ লাগে কিন্তূ সে এ বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলে না ছেলে পাখি কে, সারাদিন একা একা থাকে আর চিন্তা করে যে সে হয়তো নতুন কোনো জীবন সঙ্গী পেয়েছে ।
ধীরে ধীরে মেয়ে পাখিটার ডানা ঠিক হতে থাকে,সে একটু একটু উড়তে পারে কিন্তূ কষ্ট হয়, এদিকে ছেলে পাখি টা সকাল হলে কোথায় যায় সেটা দেখার জন্য নিজেকে সুস্থ করার চেষ্টা টা বাড়াতে থাকে।
এভাবে কিছু দিন চলার পড়ে মেয়ে পাখিটার ডানা ঠিক হয়ে যায় কিন্তূ সেই কথা টা ছেলে পাখিটাকে বলেনা,মেয়ে পাখিটা ভাবে যে ছেলে পাখি টা উড়ে কোথায় যায় সেটা দেখবে, সকালে যখন ছেলে পাখি টা উড়ে চলে যেতে থাকে তখন মেয়ে পাখি টা তার পিছু নেয় এবং কিছু সময় বাদে মেয়ে পাখি টা একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে দেখতে থাকে আর মেয়ে পাখিটার চোখ দিয়ে জল পড়তে থাকে,কারণ ছেলে পাখিটা অনেক কষ্ট করে তাদের জন্য একটা বাসা তৈরি করেছিল একটি নিরাপথ স্থান এ, যাতে করে আর তাদের ঝড় বৃষ্টিতে বাসা ভেঙ্গে না যায়।
ছেলে পাখি টা নিজের মতো করে বাসা তৈরি করেছিল হটাৎ তার পাশে ঠোঁটে করে মেয়ে পাখিটা শুকনো পাতা নিয়ে উড়ে এসে বসলো তখন ছেলে পাখি টা পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখে সেই মেয়ে পাখি টা, তখন ছেলে পাখি টা অনেক খুশি হয়, তখন মেয়ে পাখিটা কান্না করতে থাকে আর বলে .......
মেয়ে পাখি : আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও, আমি না জেনে তোমাকে ভুল ভেবেছিলাম, আমি ভেবেছিলাম হয়তো তুমি আমাকে রেখে অন্য পাখির সাথে দেখা করতে যেতে, তাই আমি পুরো সুস্থ হওয়ার কথা তোমায় বলিনি, মণে মনে অনেক ভুল ভেবেছিলাম তোমাকে।
ছেলে পাখি : তুমি আর এই সুখের সময় ওসব কথা বলোনা, আমি তোমাকে না জানিয়ে চলে যেতাম হয়তো সেই জন্যে তোমার মনে সুস্থ হওয়ার ইচ্ছে টা বেশি করে জেগেছে আর তাই তুমি এত তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়েছো। যাইহোক যা হয়েছে তা ভালোর জন্য হয়েছে।
তারপর তারা দুজনে মিলে তাদের বাসা তৈরি করে এবং সেখানে নতুন করে দুজনে একসাথে থাকতে শুরু করে, এবং নতুন করে বাঁচার লড়াই চালিয়ে যায়।
কিছু দিন পরে মেয়ে পাখিটা ২ টা ডিম দেয় আর সেই ডিম থেকে বাচ্চা হয় তারপর তারা সবাই খুব সুখে দিন কাটায়।।