19/02/2025
#শিকড়ের_টানে
তারা বলেন, "আমরা যা করি তাতে হয়তো বিশ্ব উষ্ণায়ন বন্ধ হবে না, কিন্তু এটা অবশ্যই আমাদের চারপাশের শিশুদের জীবনে পরিবর্তন আনবে।"
অপরাজিতা এবং তার স্বামী দেবল মজুমদার গত 15 বছর ধরে প্রাকৃতিক চাষাবাদ করে আসছেন। তাদের 2 একর জমিতে, তারা ডাল, চাল, শাকসবজি, ফলমূল, মশলা ইত্যাদির মতো প্রয়োজনীয় সবকিছুই চাষ করেন। তাদের জীবনের লক্ষ্য হল একটি সুস্থ এবং সাস্টেনেবল জীবন।
গ্রামে বসবাস, কৃষিকাজ করা এবং স্বনির্ভর হওয়া আমাদের দেশে খুবই সাধারণ বিষয়, কারণ আজও বেশিরভাগ জনসংখ্যা এভাবেই জীবনযাপন করছে। কিন্তু, অপরাজিতা এবং দেবলের গল্পটি এইজন্যে আলাদা, কারণ এই স্বামী-স্ত্রী দুজনেই আমেরিকায় তাদের বেশ আরামদায়ক ও বিলাসবহুল জীবন ত্যাগ করে ভারতে ফিরে এসে এই কাজ শুরু করেছেন।
ইংরেজি সাহিত্য ও সিনেমায় PhD করা অপরাজিতা সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরতা ছিলেন এবং তার স্বামী দেবল একটি সুপরিচিত কোম্পানিতে সফটওয়্যার ডেভেলপার ছিলেন। অপরাজিতা বলেন যে, সেখানে থাকার সময় তাদের জীবন খুবই ব্যস্ত ছিল এবং যেহেতু উভয় দেশের সংস্কৃতি আলাদা ছিল, তাই খাবার এবং পানীয়ও সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। সেখানে তারা কেবল হাইপার মার্কেট বা মল থেকে গৃহস্থালী এবং মুদিখানার জিনিসপত্র কিনতেন।
ধীরে ধীরে তারা বুঝতে শুরু করেন যে, সেখানে চাষাবাদ করা হয় জিনগতভাবে পরিবর্তিত বীজ ব্যবহার করে। শুধু তাই নয়, রাসায়নিক ইত্যাদি ব্যবহার করে সেখানে ফল ও সবজি পাকানো হয়। অপরাজিতা বলেন যে, তিনি অনুভব করতে শুরু করেছিলেন যে, তিনি যে প্রতিটি গ্রাস খাচ্ছেন, তাতে রাসায়নিক পদার্থ থাকছে এবং আশ্চর্যের বিষয় হল ওখানকার লোকেরা এই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্বও দেয় না।
দেবল এবং অপরাজিতা যত বেশি বিষয়টি পড়তে শুরু করলেন এবং আলোচনা করলেন, ততই তারা তাদের নিজস্ব লাইফস্টাইল বুঝতে পারলেন। উন্নত প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় জীবনের তাড়ায় আমরা পরিবেশ, জল এবং বাতাসকে বিষাক্ত করে তুলেছি। এই জীবন থেকে বেরিয়ে এসে সমাজ ও পরিবেশের জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা অপরাজিতা এবং দেবলকে তাদের জন্মভূমিতে ফিরিয়ে আনে।
2011 সালে ভারতে আসার পর, তারা প্রথমে কলকাতার কাছে ঠাকুরপুরে কৃষিকাজ শুরু করেন। 2014 সালে, তারা শান্তিনিকেতনের কাছে একটি গ্রামে জমি কেনেন এবং এখানেই তারা 'Smell of the Earth' নামে তাদের খামারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এখানেই তারা তাদের বসবাসের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করেন।
“আমরা নিজেরাই কৃষিকাজ শুরু করার আগে বিভিন্ন কৃষি পদ্ধতি শিখেছি। আমরা পার্মাকালচার কৌশল শিখেছি, প্রাকৃতিক কৃষিকাজে নিজেদের প্রশিক্ষিত করেছি এবং এখানে কৃষিকাজ শুরু করেছি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো আমাদের সকল চাহিদা পূরণ করা এবং একই সাথে পরিবেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালন করা। যদি আমরা আমাদের মেয়েকে বিশুদ্ধ খাবার এবং পরিবেশ সরবরাহ করতে নাই পারলাম, তাহলে তাকে সবচেয়ে দামি খেলনা বা গ্যাজেট দেওয়ার কোনও মানেই হয় না।"
গ্রামে থাকার কারণে, অপরাজিতা এবং দেবল আমেরিকার জীবনকে কখনও মিস করেননি। তারা কেবল নিজেদের জীবনই বদলে নেননি, বরং এই গ্রামের মানুষের জীবনেও পরিবর্তন আনছেন। তারা এখানকার কৃষকদের রাসায়নিক চাষ সম্পর্কে সচেতন করছেন এবং কৃষকদের প্রাকৃতিক চাষ করতে উৎসাহিত করছেন। আজ, তাদরে প্রচেষ্টার ফলে, এই গ্রামে দেশীয় বীজ দিয়ে চাষাবাদ করা হচ্ছে এবং বাড়িতে কিচেন গার্ডেন এর ধারণাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।