10/12/2023
🚩🕉️শ্রীমদ্ভগবদগীতা যথাযথ🕉️🚩
🕉️ওঁ অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন শলাকয়া ।
চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ ।।🙏
🕉️নারায়ণং নমস্কৃত্য নরঞ্চৈব নরোত্তমম্ ।
দেবীং সরস্বতীঞ্চৈব ততো জয়মুদীরেয়ৎ ।।🙏
🕉️কৃষ্ণায় বাসুদেবায় দৈবকিনন্দন এ চঃ ।
অশেষষেনাশয় গোবিন্দায় নমঃ নমঃ।।🙏
🕉️হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধু দীনবান্ধো জগতপতে ।
গোপেশ গোপিকাকান্ত রাধাকান্ত নমহস্তু তে ।।🙏
🕉️তপ্তকাঞ্চনগৌরাঙ্গি রাধে বৃন্দাবনেশ্বরি ।
বৃষভানুসুতে দেবি প্রণমামি হরিপ্রিয়ে ।।🙏
🕉️হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ।
হরে রাম হরে রাম, রাম রাম হরে কৃষ্ণ।।🙏
🕉️দশম অধ্যায়
🕉️বিভূতিযোগ
🕉️শ্লোক - ১২ - ১৩
🕉️অর্জুন উবাচ
পরং ব্রহ্ম পরং ধাম পবিত্রং পরমং ভবান্ ।
পুরুষং শাশ্বতং দিব্যমাদিদেবমজং বিভুম্ ।। ১২ ।।
আহুস্ত্বামৃষয়ঃ সর্বে দেবর্ষির্নারদস্তথা ।
অসিতো দেবলো ব্যাসঃ স্বয়ং চৈব ব্রবীষি মে ।। ১৩ ।।
🕉️অনুবাদ :- অর্জুন বললেন- তুমি পরম ব্রহ্ম, পরম ধাম, পরম পবিত্র ও পরম পুরুষ। তুমি নিত্য, দিব্য, আদি দেব, অজ ও বিভু। দেবর্ষি নারদ, অসিত, দেবল, ব্যাস আদি ঋষিরা তোমাকে সেভাবেই বর্ণনা করেছেন এবং তুমি নিজেও এখন আমাকে তা বলছ।
🕉️তাৎপর্য :- এই দুটি শ্লোকের মাধ্যমে পরমেশ্বর ভগবান মায়াবাদী দার্শনিকদের তাঁর সম্বন্ধে যথাযথভাবে অবগত হওয়ার সুযোগ দান করেছেন। কারণ এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, স্বতন্ত্র জীবাত্মা থেকে পরম তত্ত্ব ভিন্ন। এই অধ্যায়ে ভগবদগীতার সারস্বরূপ চারটি মুখ্য শ্লোক শোনার পর অর্জুন সব রকম সন্দেহ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়েছিলেন এবং শ্রীকৃষ্ণকে পরমেশ্বর ভগবানরূপে স্বীকার করেছিলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করলেন, "তুমিই পরং ব্রহ্ম, অর্থাৎ পরমেশ্বর ভগবান।” পূর্বে শ্রীকৃষ্ণ নিজেই বলেছেন যে, তিনি সকলের ও সব কিছুর আদি। প্রতিটি মানুষ, এমনকি স্বর্গের দেবদেবীরাও তাঁর উপর নির্ভরশীল। অজ্ঞানতার বশবর্তী হয়ে মানুষ ও দেবতারা মনে করেন যে, তাঁরা পূর্ণ এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মতো সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন। ভক্তিযোগ সাধন করার ফলে এই অজ্ঞানতার অন্ধকার সম্পূর্ণভাবে বিদূরিত হয়। সেই কথা পূর্ববর্তী শ্লোকে ভগবান নিজেই ব্যাখ্যা করেছেন। এখন ভগবানের কৃপার ফলে অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে পরম সত্য বলে স্বীকার করেছেন এবং সেই কথা বেদেও স্বীকার করা হয়েছে। এমন নয় যে, শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের অন্তরঙ্গ বন্ধু বলে অর্জুন তাঁকে পরমেশ্বর ভগবান বা পরম তত্ত্ব বলে তোষামোদ করেছেন। এই শ্লোক দুটিতে অর্জুন যা বলেছেন, সে সবই বৈদিক শাস্ত্রসম্মত। বেদে বলা হয়েছে যে, ভক্তির মাধ্যমেই কেবল ভগবানকে উপলব্ধি করা যায়; এ ছাড়া আর কোনভাবেই তাঁকে জানতে পারা সম্ভব নয়। এই শ্লোক দুটিতে অর্জুন যা বলেছেন, তাঁর প্রতিটি কথা বেদের নির্দেশ অনুসারে অক্ষরে অক্ষরে সত্য।
কেন উপনিষদে বলা হয়েছে যে, পরম ব্রহ্মই সব কিছুর আশ্রয়। আর শ্রীকৃষ্ণ সেটি ইতিপূর্বেই বর্ণনা করে বলেছেন যে, তিনিই সব কিছুর পরম আশ্রয়। মুণ্ডক উপনিষদে প্রতিপন্ন করা হয়েছে যে, সব কিছুর আশ্রয়স্বরূপ পরমেশ্বর ভগবানকে নিরন্তর চিন্তা করার মাধ্যমেই কেবল উপলব্ধি করা যায়। শ্রীকৃষ্ণকে এইভাবে নিরন্তর চিন্তা করাকে বলা হয় স্মরণম্, যা ভগবদ্ভক্তির একটি অঙ্গ। কৃষ্ণভক্তির ফলেই কেবল আমরা আমাদের স্বরূপ সম্বন্ধে অবগত হয়ে এই জড় দেহের বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারি।
বেদে পরমেশ্বর ভগবানকে পরম পবিত্র বলে স্বীকার করা হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণকে যিনি পরম পবিত্র বলে উপলব্ধি করতে পারেন, তিনি সব রকম পাপকর্ম থেকে মুক্ত হয়ে পবিত্র হন। পরমেশ্বর ভগবানের চরণে আত্মসমর্পণ না করলে পাপকর্ম থেকে মুক্ত হওয়া যায় না। শ্রীকৃষ্ণকে যে অর্জুন পরম পবিত্র বলে ঘোষণা করেছেন, তা বৈদিক নির্দেশেরই পুনরাবৃত্তি। এই সত্য সমস্ত মুনি-ঋষিরাও স্বীকার করেছেন, যাঁদের মধ্যে নারদমুনি হচ্ছেন প্রধান।
শ্রীকৃষ্ণ পরমেশ্বর ভগবান এবং তাঁর ধ্যানে মগ্ন থেকে আমরা তাঁর সঙ্গে আমাদের অপ্রাকৃত সম্পর্কের আনন্দ উপলব্ধি করতে পারি। তিনিই শাশ্বত অস্তিত্ব। তিনি সব রকম দৈহিক প্রয়োজন, জন্ম ও মৃত্যু থেকে মুক্ত। সেই কথা যে কেবল অর্জুনই বলেছেন তা নয়, সমস্ত বৈদিক সাহিত্য, পুরাণ ও ইতিহাসও সেই কথা ঘোষণা করেছে। সমস্ত বৈদিক সাহিত্যে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে এভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে এবং চতুর্থ অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ নিজেই তার পুনরাবৃত্তি করে বলেছেন, "যদিও আমি অজ, তবুও এই পৃথিবীতে আমি ধর্ম সংস্থাপন করবার জন্য অবতরণ করি।" তিনি পরম উৎস; তাঁর কোন কারণ নেই, কেননা তিনিই সর্ব কারণের কারণ এবং তাঁর থেকেই সব কিছুর প্রকাশ হয়। ভগবানের কৃপার প্রভাবেই কেবল এই দিব্যজ্ঞান লাভ করা যায়।
ভগবানের কৃপার প্রভাবেই অর্জুন তাঁর এই উপলব্ধির কথা বর্ণনা করতে সক্ষম হয়েছেন। আমরা যদি ভগবদগীতা যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে চাই, তা হলে এই শ্লোক দুটিতে বর্ণিত ভগবান সম্বন্ধে বিবৃতি সম্পূর্ণভাবে মেনে নিতে হবে। একে বলা হয় পরম্পরার ধারা, অর্থাৎ গুরু-শিষ্য-পারম্পর্যে পরম তত্ত্বজ্ঞান লাভ করা। পরম্পরার ধারায় অধিষ্ঠিত না হলে ভগবদ্গীতার যথার্থ জ্ঞানলাভ করা যায় না। তথাকথিত কেতাবী বিদ্যার দ্বারা ভগবদগীতার জ্ঞানলাভ করা কখনই সম্ভব নয়। দুর্ভাগ্যবশতঃ, বৈদিক শাস্ত্রে অজস্র প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আধুনিক যুগের তথাকথিত দাম্ভিক পণ্ডিতেরা তাদের কেতাবী বিদ্যার অহঙ্কারে মত্ত হয়ে উদ্ধতভাবে বলে যে, শ্রীকৃষ্ণ একজন সাধারণ মানুষ।
🕉️সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ সর্বে সন্তু নিরাময়াঃ।
সর্বে ভদ্রাণি পশ্যন্তু মা কশ্চিদ দুঃখভাগ্ ভবেৎ।।🙏
🙏ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন।🙏
🚩🕉️অনুপ্রেরণা - সুশোভন মণ্ডল 🙏