27/03/2024
আজ পু্রীর মহাপ্রসাদ নিয়ে দুকথা বলবো। ভালো লাগলে পুরোটা পড়বেন না ভালো লাগলে শুধু জয় জগন্নাথ । । ভারতীয় উপ-মহাদেশের মূল বিন্দুতে অবস্থিত চারটি পবিত্র মন্দির যেমন পুরী , রামেশ্বর, দ্বারিকা এবং বদ্রীনাথ। বিশ্বাস করা হয় ভগবান বিষ্ণু রামেশ্বরমে স্নান করেন , বদ্রীনাথে ধ্যান করেন, পুরীতে আহার করেন এবং দ্বারিকায় অবসর নেন বা বিশ্রাম নেন। তাই পুরীর মহাপ্রসাদ এর গুরুত্ব অপরিসীম। মহাপ্রসাদ কে এখানে 'অন্ন ব্রম্মা ( Anna Brahma ) বলা হয় । শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর কাছে যখন বঙ্গদেশ থেকে তার অনুগামীরা আসতেন , শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নিজের হাতে তাদের মহাপ্রসাদ পরিবেশন করতেন। তিনি জীবনের ১৮ বছর পুরী তে অবস্থান করেছিলেন। জগন্নাথ দেবের রান্না ঘর মন্দির প্রাঙ্গণের দক্ষিণ - পূর্ব দিকে অবস্থিত। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রান্নাঘর। প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫০০০ ভক্তকে মহাপ্রসাদ বিতরন করা হয় ।মোট ২৫০ টি মাটির উনোন আছে। যথা অন্ন চুল্লী, পিত্র চুল্লী ও তুনা চুল্লী সেবাইতরা খুব নিষ্ঠা সহকারে এই মহাপ্রসাদ তৈরি করেন । ৫৬ ভোগের কথা তো আপনারা জানেন। মহাপ্রসাদ শুধুমাত্র মাটির পাত্রে রান্না করা হয় । একটার ওপর একটা হাড়ি চাপানো হয় । জ্বালানি হিসেবে শুধুমাত্র আগুন কাঠ ব্যাবহার করা হয় । রান্নাঘরে আগুন " বৈষ্ণব আগুন" নামে খ্যাত । বাষ্পে রান্না করা খাবার প্রথমে ভগবান প্রভু জগন্নাথ এবং তারপর বিমলা দেবী কে নিবেদন করা হয় । তারপরে তার মহাপ্রসাদে পরিনত হয়। প্রথমে খাবার থেকে কোনো নির্যাস পাওয়া যায় না। কিন্তু ভগবান কে নিবেদন এর পর যখন বিক্রয় কেন্দ্রে ( আনন্দবাজার) নিয়ে যাওয়া হয় তখন সুস্বাদু গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। # # শ্রী মন্দিরে চার প্রকার রন্ধন প্রণালী ব্যবহৃত হয় । ভীমপাক , নলপাক , সৌরিপাক ও গৌরিপাক। # # মহাপ্রসাদ দুই প্রকার। শঙ্কুদি মহাপ্রসাদ অন্যটি শুকিলা মহাপ্রসাদ। # শঙ্কুদি মহাপ্রসাদ: ভাত , ঘি ভাত , মিষ্টি ডাল, খিচুড়ি, ডালমা, বেসর , শাক, মিশ্র তরকারি। # শুকিলা মহাপ্রসাদে থাকে শুকনো মিষ্টি। গজা, খাজা, মালপোয়া, চাকুলি ,, পুলি ইত্যাদি। # আরেক ধরনের শুকনো চালের মহাপ্রসাদ আছে তার নাম " নির্মাল্য " । পর্যটক রা " খাজা" মহাপ্রসাদ বহন করতে বেশি ভালোবাসেন । মহাপ্রসাদ বিক্রি হয় আনন্দবাজার বা মন্দিরের হ্যাপিনেস মার্টে যা মন্দিরের উত্তর পূর্ব কোনে অবস্থিত । এখানে আপনি বসে খেতে পারেন অথবা কিনে নিয়ে গিয়ে হোটেল বসে খেতে পারেন। যদি বাড়ি নিয়ে আসতে চান তাহলে এক ভাঁড় পোলাও নিয়ে আসবেন। তিন দিন অবধি কিছু হবে না। তবে আবার অনুরোধ করবো যাকে দেবেন বলবেন সেদিন যেন আমিষ না খান। তবে আমার একটা ব্যক্তিগত অনুরোধ মহাপ্রসাদ মাটিতে বসে খাবেন। জয় জগন্নাথ। জয় বাঙালির বেড়ানো। বিঃদ্রঃ তথ্য ও ছবি সংগৃহীত।