07/12/2025
জাপানে এক বছর ধরে থাকা একজন ভারতীয় যুবক বিস্মিত হয়ে গেলেন এক অদ্ভুত সত্য দেখে—
মানুষ ভদ্র, হাসিমুখে সাহায্য করে, সম্মান দেয়… কিন্তু একবারও কেউ তাকে নিজের বাড়িতে ডেকে এক কাপ চা পর্যন্ত খাওয়ায় না।
হতবাক ভারতীয় অবশেষে সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন এক জাপানি বন্ধুকে—
“তোমরা এত অতিথিপরায়ণ হয়েও আমাকে ঘরে ডাকো না কেন?”
জাপানি বন্ধুর মুখে তখন দীর্ঘ নীরবতা…
তারপর ধীরে ধীরে বললেন এক বাক্য—
“কারণ আমরা ভারতীয় ইতিহাস পড়ি—অনুপ্রেরণার জন্য নয়, সতর্কবার্তা হিসেবে।”
জাপানি বন্ধু কথা চালিয়ে গেলেন—
“ব্রিটিশরা ভারত শাসন করেছিল কতজন?”
ভারতীয় বললেন, “হয়তো ১০–১২ হাজার?”
জাপানি মাথা নেড়ে বললেন—
“তোমাদের ছিল ৩০ কোটিরও বেশি মানুষ।
তাহলে সত্যিকারের শাসক কারা? ব্রিটিশ না ভারতীয় নিজেরাই?”
যে কথাগুলো এরপর তিনি বললেন, তা ভারতীয়কে স্তব্ধ করে দিল—
**“জেনারেল ডাইয়ার যখন জলিয়ানওয়ালাবাগে ‘ফায়ার’ বলেছিল—
ট্রিগার কে টেনেছিল?
ব্রিটিশ না ভারতীয় সৈন্য?”**
“একজনও বন্দুক ফিরিয়ে অত্যাচারীর দিকে তাক করেনি।
এটা দেহের দাসত্ব ছিল না—আত্মার দাসত্ব ছিল।”
“মোগলরা তো ভারতে এসেছিল কয়েক হাজার মানুষ নিয়ে।
তবুও শতাব্দীর পর শতাব্দী শাসন করল কেন?”**
জাপানি বন্ধুর উত্তর ছিল নির্মম—
“তোমাদের নিজেদের মানুষ ছিল দাসত্বপ্রবণ, স্বার্থপর, বিক্রীত।”
রূপোর মুদ্রার জন্য, বাঁচার জন্য, পদমর্যাদার লোভে—
নিজেরা নিজেদের বীরদের ধরিয়ে দিয়েছিল।
চন্দ্রশেখর আজাদ বিশ্বাসঘাতকতার শিকার।
ভগত সিং মৃত্যুর মুখে—কিন্তু কেউ এগিয়ে এল না।
প্রতিটি যুগেই হাজারো ‘নিজ মানুষ’ বিদেশি শক্তির দালালি করেছে।
“তোমাদের শত্রুর প্রয়োজন নেই—
নিজেরাই নিজেদের বিক্রি করে দাও।”**
জাপানি বন্ধুর কণ্ঠ আরও শীতল হয়ে উঠল—
হংকং বা সিঙ্গাপুরে কোনো স্থানীয় কখনো ব্রিটিশ সেনায় যোগ দেয়নি।
কিন্তু ভারতে? কোটি মানুষ শত্রুর সেনায় যোগ দিয়েছে।
নিজেদের মানুষ হত্যা করেছে বিদেশির খুশির জন্য।
যেন দাসত্ব মজ্জাতেই ঢুকে গেছে।
“আজও কিছু বদলায়নি।”
জাপানি এরপর বললেন—
“একটু বিনামূল্যের বিদ্যুৎ, একটি কম্বল, এক বোতল মদের বিনিময়ে…
তোমরা আজও নিজের ভোট, মতামত, নীতি—সব বিক্রি করে দাও।”
রাজনীতি, ধর্ম, দল—সবকিছুই পেটের কাছে তুচ্ছ।
দেশের জন্য আনুগত্যের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ বড় হয়ে যায়।
যুগ পাল্টায়—স্বভাব পাল্টায় না।
“দেশ দুর্বল হলে তোমার ঘরও নিরাপদ নয়।”
শেষে জাপানি বন্ধু বললেন—
“দেশ শক্তিশালী হয় মানুষের চরিত্র দিয়ে।
আর যখন চরিত্র হারিয়ে যায়,
কোনো পতাকা, কোনো সেনা, কোনো ইতিহাসই তোমাকে বাঁচাতে পারে না।”
কারণ এটি একটি জাতির নির্মম আত্মসমালোচনার আয়না।
শুধু ভারতের নয়—বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, সম্পূর্ণ দক্ষিণ এশিয়ারই একই ব্যাধি—
ব্যক্তিস্বার্থ > জাতীয় স্বার্থ
দল > দেশ
নেতা > নীতি
সুবিধা > সততা
ভয় > চরিত্র
জাতি যত বড়ই হোক, চরিত্রহীন হলে জাতি শেষ।
আর চরিত্রবান হলে—জনসংখ্যা না থাকলেও জাপানের মতো দেশ পৃথিবীর মাথায় উঠে দাঁড়ায়।
দাসত্ব শুরু হয় বাইরে থেকে নয়—ভিতর থেকে।
জাতির পতনও শুরু হয় বাইরে থেকে নয়—নিজেদের দুর্বলতা থেকে।
যে দিন দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ নিজের চরিত্রকে দেশের উপরে রাখবে—
সেদিন এশিয়ার আগামীর নেতৃত্ব আমাদের হাতেই থাকবে।
ফেসবুক থেকে কপি করা।