25/09/2023
বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ এবং জনপ্রিয় ফিতনাহ।
“কলরব শিল্পীগোষ্ঠী” সহ সমস্ত শিল্পীগোষ্ঠী এই জাতির কল্যাণে কোনই ভূমিকা রাখতে পারেনি, কখনও পারবেও না। বরং আবেগী মুসলিম উম্মাহর আবেগ নিয়ে ব্যবসা করে নিজেদের ব্যাংক ব্যালেন্স পাহাড় সমান বানিয়ে ফেলেছে।
এই কলরব শিল্পীগোষ্ঠীর প্রত্যেকেরই একটা করে মনিটাইজ চালু করা ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে, যা দিয়ে তারা ইসলামের দাওয়াতের নামে প্রতিনিয়ত ব্যবসা করছে।
এদের বেশভূষায় কখনও এটা প্রমাণ করেনি যে, এরা আসলে ইসলামের দা'ওয়াহ নিয়ে কাজ করছে।
এদের প্রত্যেকেই নিজেকে সেলিব্রিটি মনে করে, আবার নিজেরাই সেলিব্রিটি নিয়ে গজল গায়, প্রত্যেকেই টাকার পিছনে ছুটে চলে, আবার নিজেরাই টাকা নিয়ে গজল গায়, প্রত্যেকেই ফেসবুক নিয়ে মাতোয়ারা, আবার নিজেরাই ফেসবুক নিয়ে গজল গায়।
অথচ [متقدمين] পূর্ববর্তী এবং [متأخرين] পরবর্তী কোন সালাফ রহঃ এসব গজল/নাশিদ গাওয়া জায়েয মনে করতেন না।
এরা গজল গাওয়ার নাম করে হারাম অনেক বাদ্যজন্ত্র ব্যবহার করে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বুঝা একেবারেই অসম্ভব।
১. শায়েখ আহম্মেদ আন-নাজমী কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, মিউজিক ছাড়া নাশিদ শোনা জায়েয হবে কি না?
উত্তরে শায়েখ বলেছেন, বর্তমানে নাশিদের নামে যেসব পরিচিতি লাভ করেছে, তা মূলত সূফীদের কাজ। আর তা মিউজিক ছাড়া হোক কিংবা মিউজিক সহ, কোনটাই শোনা জায়েয নয়।
২. শায়েখ স্বলেহ ইবনে ফাওযান আল-ফাওযান হাফিঃ কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, “ইসলামী নাশিদ” শোনার হুকুম কি?
উত্তরে শায়েখ বলেছেন, তারা এই “ইসলামী নাশিদ” দ্বারা মুসিবত নিয়ে এসেছে, এমনকি মানুষ মনে করছে এটি দ্বীনের অংশ, আর তা হলো গান গাওয়া, এবং এটি সূফীদের আলামত। কারণ তারা মনে করে, তা দ্বীনের অংশ বা যিকির। এবং এটি এই সময়ের হিজবিদের আলামত। হিজবিদের বিশেষ পদ্ধতি রয়েছে, তারা তাদের মানহাযকে উৎসাহিত করতে এটা ব্যাবহার করে আর এটা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। অতএব নাশিদে কোন কল্যাণ নেই, কোনই কল্যাণ নেই।
অনেকে বলবেন আগে খারাপ ছিলাম এখন এই নাশিদ শুনে হেদায়াত পেয়েছি, তাদের যুক্তি খুবই ঠুনকো, কেননা, হেদায়াতের মাধ্যম শুধুমাত্র ২ টি।
১. আল্লাহ তা’আলা নিজেই বলেছেন, কুর’আন হেদায়াতের মাধ্যম।
-[০২ নং “সূরা বাক্বারাহ” ০২ নং আয়াত]
আল্লাহ তা’আলা বলেন,
ذٰلِکَ الۡکِتٰبُ لَا رَیۡبَ ۚۖۛ فِیۡہِ ۚۛ ہُدًی لِّلۡمُتَّقِیۡنَ
এটা সেই কিতাব; যাতে কোন সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে হেদায়াত।
২. আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তাকে হেদায়াত দান করেন।
-[২৮ নং “সূরা ক্বাসাস” ৫৬ নং আয়াত] আল্লাহ তা’আলা বলেন,
إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ
‘‘তুমি যাকে পছন্দ করো, তাকে হেদায়াত করতে পারবে না, তবে আল্লাহ্ তা‘আলাই যাকে ইচ্ছা হেদায়াতের পথে আনয়ন করেন। কে সৎপথে আসবে, সে সম্পর্কে তিনিই অধিক অবগত আছেন’’।
অনেকেই হয়তো বলবেন, আমি আগে গান শুনতাম এখন গজল শুনি, গজল শুনেই আমি অন্তরের প্রশান্তি পাই, আপনাদের এরকম প্রশ্নের জবাবে আল্লাহ তা’আলার এই বাণী যথেষ্ট হবে, ইন-শা--আল্লাহ।
১. কুর’আন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পায়।
-[০৮ নং “সূরা আনফাল” ০২ নং আয়াত] আল্লাহ তা’আলা বলেন,
اِنَّمَا الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الَّذِیۡنَ اِذَا ذُکِرَ اللّٰهُ وَجِلَتۡ قُلُوۡبُهُمۡ وَ اِذَا تُلِیَتۡ عَلَیۡهِمۡ اٰیٰتُهٗ زَادَتۡهُمۡ اِیۡمَانًا وَّ عَلٰی رَبِّهِمۡ یَتَوَکَّلُوۡنَ
মু’মিন তো তারাই যাদের হৃদয় আল্লাহকে স্মরণ করা হলে কম্পিত হয় এবং তার আয়াতসমূহ তাদের নিকট পাঠ করা হলে তা তাদের ঈমান বর্ধিত করে। আর তারা তাদের রব-এর উপরই নির্ভর করে।
২. আল্লাহর স্মরণ [যিকির] দ্বারা অন্তর প্রশান্ত হয়।
-[১৩ নং “সূরা আর-রা’দ” ২৮ নং আয়াত] আল্লাহ তা’আলা বলেন,
اَلَا بِذِکۡرِ اللّٰهِ تَطۡمَئِنُّ الۡقُلُوۡبُ
জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়’।
সুতরাং যদি কারও অন্তর প্রশান্ত হয় সেটা শুধুমাত্র কুর’আন তেলাওয়াতের মাধ্যমেই হবে।
বিঃদ্রঃ কুর’আন তেলাওয়াত করলেও অন্তরের প্রশান্তি এবং শুনলেও অন্তরের প্রশান্তি পাওয়া যায়।
আল্লাহ তা’আল আমাদের সকলকে বর্তমান সময়ের ফিতনাহ থেকে হেফাজত করুন, আমীন।
উপস্থাপনায়ঃ M. Ja'far