05/08/2023
কবরের শাস্তি
পবিত্র হাদীস শরীফে আছে- কবরে কাফিরের প্রতি শাস্তি দেয়ার জন্য দুজন অন্ধ ও বধির ফিরিশতা নিযুক্ত হবে। উক্ত ফিরিশতাগণের হাতে লোহার মূগুড় থাকবে ।
এদের মাথা উটের পানপাত্র ডোলের মত হবে। ফিরিশতাগণ উক্ত লোহার মূগুড় দ্বারা কিয়ামত পর্যন্ত তাকে প্রহার করতে থাকবে। তাদের চক্ষু নেই যে, তারা এ দুরবস্থা দেখে একটু দয়া করবে। আবার কান নেই যে, তার কান্নার আওয়াজ এবং অনুনয় বিনয় শুনবে।
হযরত আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলে কারীম (সাঃ) ইরশাদ করেন কবর প্রতিটি মৃত ব্যক্তিকে চাপা দেয়। কেউ এ চাপ হতে বাচলে সা‘আদ ইবনে মু‘আয (রাঃ) রক্ষা পেয়ে থাকত।
হযরত আনাস (রাঃ) বলেন- হযরত যয়নাব (রাঃ) রাসূলে কারীম (সাঃ) এর কন্যা ছিলেন। তিনি ইন্তিকাল করলে হযরত রাসূলে কারীম (সাঃ) তাকে কবরে রাখলেন, তখন নবী কারীম (সাঃ) এর চেহারা মুবারক নিতান্ত পাণ্ডুর বর্ণ ধারণ করল । কিন্তু (কবর হতে) বাইরে আসার সময় তার চেহারা মুবারক আগের মতই নূরানী রূপ ধারণ করল ।
আমরা আরয করলাম- ইয়া রাসূলাল্লাহ (সাঃ)! আপনার চেহারা মূবারকের পরিবর্তন ঘটেছিল কেন? তিনি বললেন- কবরের চাপ এবং তার আযাবের কথা আমার মনে পড়েছিল। তখন আমি জানতে পারলাম আল্লাহ যয়নাবের উপর কবরের চাপ ও শাস্তি সহজ করে দিয়েছেন । কিন্তু তথাপিও কবর তাকে এমন জোরে চাপ দিতেছে যে, সকল প্রাণী তার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছে।
রাসূলে কারীম (সাঃ) বলেন- কবরে কাফিরদেরকে শাস্তি দেয়ার জন্য ৯৯টি বিষধর অজগর নিযুক্ত করা হয়। সে অজগরসমূহ কিরূপ তোমরা জান কি? ৯৯টি অজপর প্রত্যেকটির নতুন নতুন মাথা হয়ে থাকে, তারা ঐ কাফিরকে দংশন করে, তাকে জড়িয়ে ধরে এবং ফোস ফোস করতে থাকে ৷ এভাবে কিয়ামত পর্যন্ত চলবে।
নবী কারীম (সাঃ) বলেন- কবর আখিরাতের প্রথম ঘাটি। এ ঘাটি নিরাপদে পার হতে পারলে এরপর যত ঘাটি আছে সে সবগুলো অত্যন্ত সহজ হবে। আর কবরেই যার কষ্ট হবে, এর পরবর্তী ঘাটিসমূহও তার জন্য এর অপেক্ষাও বহুগুণে কষ্টদায়ক এবং কঠিন হবে।
জীবিত লোকেরা মৃত লোকদের অবস্থা কাশফ দ্বারা নিদ্রাবস্থায় স্বপ্নে জানতে পারে বটে, কিন্তু পঞ্চইন্দ্রিয় সাহায্যে তা জানা যায় না। কারণ মৃত ব্যক্তি যে রাজ্যে গেছে সে রাজ্যের অবস্থা পঞ্চইন্দ্রিয় জানতে পারে না। কান যেমন শব্দ শুনতে পায় না, চোখ দেখতে পায় না, ইন্দ্রিয়সমূহও তদ্রুপ পরজগতের অবস্থা জানতে পারে না।
তবে মানুষের মধ্যে ইন্দ্রিয়ের বাইরে এমন এক শক্তি আছে, যা দ্বারা সে পরজগত সম্পর্কে জানতে পারে৷ কিন্তু এ শক্তি ইন্দ্রিয়সমূহের ব্যস্ততা ও দুনিয়ার অধিক কাজকর্মের কােলাহলে লুকিয়ে থাকে৷ ঘুমন্ত অবস্থায় মানুষ দুনিয়াবী কাজকর্ম হতে একটু নিস্তার পায়, তখন মানুষের সে সুপ্ত শক্তি মৃতদের অবস্থার সামান্য নিকটবর্তী হয় এবং মৃতদের অবস্থা তার নিকট প্রকাশ পেতে থাকে।
এ কারণেই মৃত ব্যক্তিরাও জীবিতদের খবর পেয়ে থাকে৷ এমনকি তারা আমাদের সৎ কাজে সন্তুষ্ট এবং পাপ কার্যে দুঃখিত হয়, এ মর্মে বহু হাদীস বর্ণিত রয়েছে।
মােটকথা হল, মৃতদের অবস্থা জীবিতদের নিকট এবং জীবিতের অবস্থা মৃতের নিকট কেবল লাওহে মাহফুজের মধ্যস্থতায় প্রকাশ পায়৷
কারণ, আমাদের জীবিতদের এবং মৃতদের সকল অবস্থা লাওহে মাহফুজে অঙ্কিত আছে। ঘুমন্ত অবস্থায় লাওহে মাহফুজের সাথে মনের সম্বন্ধ স্থাপিত হয় বলে স্বপ্নযোগে মৃতদের অবস্থা তার নিকট প্রকাশিত হয়ে পড়ে৷ অন্যদিকে মৃতদেরও লাওহে মাহফুজের সাথে সম্পর্ক হয়৷ সুতরাং তারাও এ হতে আমাদের অবস্থা জেনে নেয়।