27/04/2024
বাংলাদেশের বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি নিয়ে শায়খ মিজান হারুনের গুরুত্বপূর্ণ কলাম :
নিরাপরাধ মুসলমানদেরকে পিটিয়ে হত্যা, দিকে দিকে অস্ত্রের মহড়া, মুসলিম মেয়েদেরকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সম্ভ্রম ও ঈমানহানি- এই সবগুলো চিত্র একত্র করলে সুস্পষ্ট বোঝা যায়, এখানের হিন্দূসরা নিদ্রা ভেঙে জেগে উঠছে। চূড়ান্ত মুকাবিলার আগে তারা কোনোভাবেই থামবে না। কিন্তু মুকাবিলা কাদের সঙ্গে হবে? মুসলমানরা তো মরণ ঘুমে। ইসরাফীলের শিঙ্গা ছাড়া এই ঘুম যেন ভাঙবেই না।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্রেফ মরীচিকা। এই দেশের মানুষকে মোটা দাগে তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করা যেতে পারে:
এক. কথিত শিক্ষিত সমাজ যাদের বড়ো অংশের জীবন চৌহদ্দির ধারে-কাছেও দীন-ধর্ম ভিড়তে পারে না। তাদের জীবনের সারকথা একটাই, প্রচুর উপার্জন করা, বাড়ি-গাড়ির মালিক হওয়া এবং আয়েশী জীবন কাটানো। পশুর চেয়ে মানুষের স্বাতন্ত্র্য যেই আদর্শ ও পয়গাম ধারণে সেটা তাদের জীবনে চূড়ান্তরূপে অনুপস্থিত। ফলে কথিত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যদি কুরআন ও নামাজ বন্ধ করে পূজা শুরু হয়, কথিত মুসলিমদের মিডিয়াগুলো যদি মুসলমানদেরকে অপরাধী বানিয়ে হিন্দূসদের তোষামোদে ব্যস্ত থাকে, ইসলামী পরিচয় বহনকারী লোকজন যদি হিন্দূসদের পক্ষ নিয়ে মুমিনদের দেহ রক্তাক্ত করে, মুসলিম নামধারী কথিত বুদ্ধিজীবীগুলো যদি বোবা ও বধীর সেজে নীরব দর্শক হয়ে থাকে, বিস্ময়ের কিছু নেই।
দুই. এই শ্রেণী দীনকে ব্যক্তিগত জীবনে ধারণ করে। নেতৃত্বের লাগাম মূসার হাতে নাকি ফেরাউনের হাতে তাতে তাদের কিছু আসে যায় না। আমল বিল মা’রূফ ও নাহী আনিল মুনকার থেকে বেখবর এই শ্রেণী দাঊদ (আ.) এর যুগের অভিশপ্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত তৃতীয় শ্রেণীর মতো। কাল যদি এখানে লক্ষণ সেন ফিরে আসে, এসব ধার্মিকদের বড়ো একটা অংশ সহাস্যে প্রণাম জানাবে, তার চরণে লুটিপুটি খাবে।
তিন. সাধারণ মুসলমান। তাদের হৃদয়ে দীনের প্রতি অপরিসীম আবেগ ও বিশুদ্ধ ভালোবাসা রয়েছে। কিন্তু উম্মাহর এই শ্রেণী কোনো যুগেই নিজ থেকে কিছু করতে পারেনি। ওপরের লোকেরা তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে। তাদেরকে জাগাতে হয়েছে। না জাগালে কোনোদিনও তারা জাগতে পারে না।
ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের এই দেশে সবাই থেকেও কেউ নেই। এতে করে দেশ, দীন ও উম্মাহর সকল দায়িত্ব গিয়ে পড়ছে নবীদের উত্তরসূরী উলামায়ে কিরাম ও দাঈদের কাঁধেই। তারা উম্মাহর ঘুম ভাঙাবেন, সতর্ক করবেন। কিন্তু সেই তাদের সিংহভাগ অংশ এখনও মুবাহ ও মুস্তাহাব নিয়ে মারামারিতে ব্যস্ত। সহস্র বছরের পুরনো ইস্যুগুলো নিয়ে একে অন্যের ঘাড় মাটকানোতে লিপ্ত। ভাইয়ের সঙ্গে তর্কে জেতে তারা বিশ্বজয়ের আনন্দ লুটেন। অথচ মুস্তাহাব নিয়ে মারামারি করা এসব লোক অনুভব করেন না, এভাবে চলতে থাকলে এখানে একদিন ফরজ আদায়েরও লোক থাকবে না, ধর্মই না থাকলে ধর্মতত্ত্বের শ্রোতা থাকবে না। গৌরগবিন্দের উত্তরসূরীরা শাহ জালালের কবরের কাছে গিয়ে বলবে, শাহ জালাল! আমরা ফিরে এসেছি!