22/07/2026
হুমায়রা ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর মনে হয়েছে, আমি আর আমার পরিবার যেন হঠাৎ করেই কোনো উত্তাল সাগরের মাঝখানে পড়ে গেছি। চারপাশে শুধু অনিশ্চয়তা, ভয় আর অসহায়ত্ব। আমাদের মতো একটি সাধারণ পরিবারের কাছে এমন একটি রোগের নাম শুনলেই বুক কেঁপে ওঠে। অথচ আজ সেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি।
তবুও আমরা ভেঙে পড়িনি। চোখে অশ্রু এসেছে, অনেক নির্ঘুম রাত কেটেছে, বেথা যন্ত্রণাতে ছটফট করেছি, নিজ চোখে পরিবারের সদস্যদের কান্না আহাজারি দেখেছি, অসংখ্য দুশ্চিন্তা ঘিরে ধরেছে—কিন্তু মহান আল্লাহর উপর ভরসা কখনো ছেড়ে দিইনি। আমি বিশ্বাস করি, তিনি চাইলে অসম্ভবকেও সম্ভব করে দিতে পারেন।
এই কঠিন সময়ে আমার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী জানা অজানা প্রবাসী ভাইয়েরা আমার পাশে দাড়িয়েছে আমাকে মানসিকভাবে সাহস দিয়েছেন। অনেকেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের এই ভালোবাসা ও আন্তরিকতা আমি কোনোদিন ভুলতে পারবো না।
কিন্তু ক্যানসারের চিকিৎসার ব্যয় এতটাই বিশাল যে, চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে নতুন নতুন খরচ সামনে এসেছে, আর তখনই বুঝেছি এই যুদ্ধটা শুধু রোগের বিরুদ্ধে নয়, অর্থনৈতিক কঠিন বাস্তবতার বিরুদ্ধে।
আমি কোনো সেলিব্রিটি নই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কখনো নিয়মিত ছিলাম না। কনটেন্ট তৈরি করা, ভিডিও বানানো, মানুষের কাছে নিজের কষ্ট তুলে ধরা—এসব কিছুই জানতাম না। জীবনে কখনো ভাবিনি, একদিন নিজের মেয়ের জন্য চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন করতে হবে।
আমি অনেক বড় বড় ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন, জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কাছে বারবার অনুরোধ করেছি। বলেছি, "ভাই, স্যার, আমার অবস্থা খুব খারাপ। অনুগ্রহ করে আমার নিয়ে একটি পোস্ট করুন, হয়তো কিছু মানুষ দেখবে, হয়তো কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে।"
অনেকেই আমার মেসেজ দেখেছেন, কেউ এক লাইনের উত্তর দিয়ে আর কোনো খোঁজ নেননি, আবার অনেকেই কোনো উত্তরই দেননি। কারও ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করেছি, হোয়াটসঅ্যাপে লিখেছি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো ফল পাইনি।
কিন্তু পাশে পেয়েছি প্রবাসী ভাইদের কে পাশে পেয়েছি ভাই বন্ধুদের কে পাশে পেয়েছি বড় ভাই ছোট ভাইদের কে পাশে পেয়েছি জানা অজানা অনেক মানুষ কে
তখন আর কিছু না ভেবে আল্লাহর নাম নিয়ে নিজের ছোট্ট ফেসবুক প্রোফাইল থেকেই আমার অসুস্থতার কথা বলা শুরু করলাম। একেবারে সাধারণ একটি মোবাইল ফোন দিয়ে তোলা ছবি, কোনো প্রফেশনাল ভিডিও নয়, কোনো এডিটিং নয়—শুধু নিজের বাস্তব জীবনের কষ্ট, চিকিৎসার পথচলা আর মেয়ের বেঁচে থাকার আকুতি মানুষের সামনে তুলে ধরেছি।
আর তখনই আল্লাহ আমাকে আপনাদের মতো অসাধারণ কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।
আপনারা একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষকে বিশ্বাস করেছেন। আমার পোস্ট শেয়ার করেছেন, অন্যদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন, পাশে থেকেছেন। অনেকেই হয়তো সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু অর্থ দিয়েছেন, কিন্তু সেই সাহায্যের মূল্য আমার কাছে অনেক বড়। কারণ সেই টাকার সঙ্গে ছিল আপনাদের ভালোবাসা, দোয়া আর আন্তরিকতা।
হয়তো চিকিৎসার জন্য যে বিপুল অর্থ প্রয়োজন, তার খুব অল্প অংশই আমি ফেসবুকের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে পেরেছি। কিন্তু আমি পেয়েছি কয়েক হাজার টাকার চেয়েও অনেক বড় সম্পদ—লাখো মানুষের দোয়া, ভালোবাসা, আন্তরিকতা এবং আমার জন্য চোখের পানি ফেলা অসংখ্য অচেনা মানুষের হৃদয়।
সত্যি বলতে, এই ভালোবাসার যোগ্য আমি নিজেকে কখনোই ভাবিনি।😢
আজ আমি বিশ্বাস করি, পৃথিবীতে এখনো অনেক ভালো মানুষ আছেন। এমন মানুষ, যারা নিজের স্বার্থের আগে অন্যের কষ্ট অনুভব করতে পারেন। যারা কোনো প্রতিদানের আশা না করেই বিপদে থাকা একজন মানুষকে সাহায্য করেন। যারা এই কঠিন পৃথিবীর কঠিন সমাজের মাঝেও নিজের হৃদয়কে কোমল রাখতে পেরেছেন।
এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে পরম করুণাময় আল্লাহর অসীম দয়া ও রহমতে। তিনি আপনাদেরকে আমার মেয়ের জীবনের কঠিনতম সময়ে অসিলা হিসেবে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ যেন আপনাদের প্রত্যেকের জীবনে বরকত দান করেন, আপনাদের পরিবারকে সুস্থ, নিরাপদ ও সুখী রাখেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দান করেন।
আমার মেয়ে যদি আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকে তাহলে আমিও চেষ্টা করবো আপনাদের মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। যতটুকু সামর্থ্য হবে, ততটুকু নিয়েই মানুষের উপকার করার চেষ্টা করবো।
আমি আজীবন আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো।
এখনো অনেকটা চিকিৎসার পথ বাকী। কেমোথেরাপি শুরু থেকে প্রতিটি কেমো খুবই ব্যয়বহুল। আপনাদের নিকট আরো কিছু শেয়ার আশা করতেছি যাতে আরো কিছু মানুষের কাছে আমার আবেদন পৌছায়। অনেক সহৃদয়বান প্রবাসী ভাই আছেন আপনারা যদি আমার পাশে থাকতেন আমার আবেদন আরো কিছু ভাইয়ের কাছে পৌঁছে দিতেন খুব উপকার হতো।🙏
বিকাশ পার্সোনাল, +8801858221996
হিসাব নং 0114901013293
সোনালি ব্যাংক
ফার্মগেট ব্রাঞ্চ।
রাউটিং নাম্বার 200261452
আপনারা আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমার মেয়ে কে সম্পূর্ণ সুস্থতা দান করেন এবং একদিন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে আপনাদের এই ভালোবাসার প্রতিদান মানুষের সেবা করার মাধ্যমে দিতে পারি।
আল্লাহ আপনাদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন।
সবার কাছে লাইক, অনেক অনেক কমেন্ট, ও সর্বোচ্চ শেয়ারের আকুতি থাকবে কারণ আপনারা এই পোস্ট টা নিয়ে যতবেশি এনগেজ থাকবেন পোস্ট টা ততোবেশি মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়বে।